ড. তুরিন আফরোজ ও মো. সাইমুম রেজা তালুকদার। ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একের পর এক অভিযোগে প্রশ্ন উঠছে টিমটির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে। এর আগে গোপন বৈঠকের অভিযোগে প্রসিকিউটর ড. তুরিন আফরোজ অপসারিত হন। পরে একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তিনি গ্রেফতারও হন। এবার ঘুস দাবির অভিযোগে আলোচনায় এলেন আরেক প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদার।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে কলেজছাত্র ওয়াসিম আকরাম হত্যা মামলার এক আসামিকে খালাস পাইয়ে দেয়ার জন্য এক কোটি টাকা ঘুস দাবির অভিযোগ ওঠে সাইমুম রেজার বিরুদ্ধে।
সোমবার (০৯ মার্চ) তিনি প্রসিকিউটর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। একই দিনে আইন মন্ত্রণালয় তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে তাকে অব্যাহতি দেয়।
পরে তার ঘুস দাবির দুটি অডিও রেকর্ড গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। ওই অডিওতে তাকে এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবারের এক আইনজীবীর সঙ্গে অর্থ নিয়ে দরকষাকষি করতে শোনা যায়। অডিওতে সাবেক ওই সংসদ সদস্যকে মামলা থেকে খালাস পাইয়ে দিতে এক কোটি টাকা দাবি এবং ধাপে ধাপে টাকা দেয়ার কথাও উঠে আসে।
ঘটনার পর ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বিভাগে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে এ বিষয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করার কথা রয়েছে।
এদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাইমুম রেজা তালুকদার। সোমবার রাত ৯টা ৫ মিনিটে ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেন, এটি একটি মহলের অপপ্রচার এবং অডিওগুলো মিথ্যা।
২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর সময় সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে ওয়াসিমসহ ৯ জন নিহত এবং ৪৫৯ জন আহত হওয়ার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি ওই হত্যা মামলায় কারাগারে আছেন।
আরও পড়ুন <<>> স্ত্রীসহ ওয়াসার সাবেক এমডি আব্দুস সালামের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
ট্রাইব্যুনালের আরেক সাবেক প্রসিকিউটর ড. তুরিন আফরোজও আগে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। ২০১৮ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক মহাপরিচালক ওয়াহিদুল হকের সঙ্গে গোপনে বৈঠকের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার জ্যেষ্ঠ সমন্বয়ক সানাউল হক খান তখন জানান, ২০১৮ সালের ১৮ নভেম্বর তুরিন আফরোজ নিজেই ফোন করে আসামির সঙ্গে দেখা করার প্রস্তাব দেন। পরে গুলশানের একটি হোটেলে প্রায় দুই ঘণ্টা ৪৫ মিনিট বৈঠক হয়।
ওই বৈঠকের কথোপকথন ওয়াহিদুল হক নিজের মোবাইলে রেকর্ড করেছিলেন বলে তদন্তে জানা যায়। পরে তার মোবাইল থেকে দুটি অডিও রেকর্ড উদ্ধার করা হয়। তদন্তে আরও জানা যায়, তুরিন আফরোজ তদন্ত সংস্থার গোপন প্রতিবেদনের ফটোকপি আসামিকে দিয়েছিলেন।
এসব অভিযোগের ভিত্তিতে শৃঙ্খলা ও পেশাগত আচরণ ভঙ্গের দায়ে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর আইন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে তাকে প্রসিকিউটর পদ থেকে অপসারণ করে। সে সময় বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন তৎকালীন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
গত বছরের ৭ এপ্রিল রাতে উত্তরার একটি বাসা থেকে তুরিন আফরোজকে গ্রেফতার করা হয়। একজন ছাত্রকে হত্যার উদ্দেশে গুলিবিদ্ধ করার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। পরে মারধর, অপহরণচেষ্টা ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে আরেক মামলাতেও তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
২০১৩ সাল থেকে ২০১৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ছিলেন তুরিন আফরোজ। ২০১৯ সালে তুরিন আফরোজ এবং ২০২৫ সালে সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ সামনে আসায় ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































