Apan Desh | আপন দেশ

আজ বিশ্ব ধরিত্রী দিবস 

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ১০:২৭, ২২ এপ্রিল ২০২৬

আজ বিশ্ব ধরিত্রী দিবস 

ছবি : আপন দেশ

আজ ২২ এপ্রিল (বুধবার), বিশ্ব ধরিত্রী দিবস। পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা তৈরিতে প্রতিবছর এ দিনকে বিশ্ব ধরিত্রী দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়। এটি জাতিসংঘ নির্ধারিত একটি দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য- ‘আমাদের শক্তি, আমাদের গ্রহ’। 

সর্বপ্রথম ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে ‘ধরিত্রী দিবস’ পালনের দিন হিসেবে ২২ এপ্রিল নির্ধারণ করা হয়। পরের বছর ২২ এপ্রিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম ধরিত্রী দিবস পালিত হয়। তখন এর নাম ছিল এনভায়রনমেন্টাল টিচ-ইন। বর্তমানে পৃথিবীর ১৯৩টি দেশে প্রতিবছর ধরিত্রী দিবস পালিত হয়।

বিশ্বের প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্রমে ক্রমে বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে। ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দের শুরুর দিকে এ বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করেন মার্কিন সিনেটর গেলর্ড নেলসন। তিনি ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দের শেষের দিকে অ্যাটর্নি জেনারেল রবার্ট কেনেডির কাছে এ বিষয়টি আলাপ করার জন্য ওয়াশিংটন যান। এ বিষয়টি বেশ পছন্দ করেন কেনেডি।

১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্টর একাদশ-রাষ্ট্র সংলাপে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার কথা ছিল। কিন্তু এ নিয়ে ফলপ্রসু কোনো আলোচনা হয় নি। কিন্তু প্রচারণা অব্যাহত রাখেন নেলসন। যা পরবর্তীতে বহু মানুষকে সচেতন করে তোলে। অবশেষে ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে ‘ধরিত্রী দিবস’ পালনের দিন হিসাবে ২২ এপ্রিল নির্ধারণ করা হয়।

পরের বছর ২২ এপ্রিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আনুষ্ঠানিক ভাবে ১ম ধরিত্রী দিবস পালিত হয়েছে। তখন এর নাম ছিল এনভায়রনমেন্টাল টিচ-ইন। বর্তমানে পৃথিবীর অনেক দেশেই সরকারি ভাবে এ দিবস পালন করা হচ্ছে। উত্তর গোলার্ধের দেশগুলিতে এ দিবস পালিত হয় বসন্তকালে আর দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলিতে পালিত হয় শরৎকালে।

আরও পড়ুন<<>>আজও বিশ্বে বায়ুদূষণের শীর্ষে ঢাকা

১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে বাৎসরিক পঞ্জিকায় দিবসটিকে স্থান দেয় জাতিসংঘ। জাতিসংঘের অন্তর্ভুক্ত দেশসমূহকে তা পালনের জন্য উৎসাহ দেয়া হয়। এরপর দিবসটি ‘বিশ্ব ধরিত্রী দিবস’ নামে আন্তর্জাতিক ভাবে পালিত হচ্ছে।

বাংলাদেশের মতো দ্বীপ রাষ্ট্রের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল জলবায়ুসৃষ্ট দুর্যোগের কবলে পড়ে ধুঁকছে। দক্ষিণাঞ্চলে কোনো উন্নয়ন টেকসই হচ্ছে না! উপকূলে সুপেয় পানির সংকট প্রবল। জলবায়ু উদ্বাস্তুরা শহরে পাড়ি জমাচ্ছে। 

আবহাওয়ার এলোমেলো আচরণ প্রভাব ফেলেছে মানুষের জীবনযাত্রায়। নতুন নতুন রোগ হানা দিচ্ছে। জলবায়ু সমস্যা মোকাবিলায় মানুষকে আগের থেকে সময় ও অর্থ দুটোই বিনিয়োগ করতে হচ্ছে। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রতিবছর ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। অপরদিকে জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দিতে হচ্ছে। 

সব দিক বিবেচনায় শিল্পোন্নত দেশসমূহের পাশাপাশি সব রাষ্ট্রকেই ভুগতে হচ্ছে। জ্বালানি শক্তি বর্তমান পৃথিবীর চালিকাশক্তি! যেসব ধনী দেশ এখন নবায়নযোগ্য সম্পদে বিনিয়োগ করবে আগামী দিনের বৈশ্বিক জ্বালানি সমস্যা মোকাবিলায় সেসব দেশ অনেক বেশি এগিয়ে থাকবে- এতে কোনো সন্দেহ নেই। সবুজ গ্রহটিকে মনুষ্যসৃষ্ট কর্মকাণ্ডে তিলে তিলে মেরে ফেলার কোনো অর্থই হয় না। 

ধরিত্রী রক্ষার শেষ সুযোগ কি হাতছাড়া হচ্ছে? প্রকৃতি সুরক্ষার দায় কারো একার নয়। বৈশ্বিক বাস্তবতায় একা চলারও সুযোগ নেই। প্রকৃতি সুরক্ষা করেই এগিয়ে যেতে হবে। ধরিত্রী রক্ষায় ও আগামী প্রজন্মের নিরাপত্তার জন্য কার্বন নিঃসরণকে ‘না’ বলতে হবে।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়