ছবি: আপন দেশ
সিলেট টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে ৩১৫ রানের লিড দাঁড় করিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ইনিংস ঘোষণা না করায় লক্ষ্য আরও বড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এত বড় লক্ষ্য তাড়া করেও জেতা সম্ভব বলে বিশ্বাস করেন তাওহিদ হৃদয়।
রোববার (০৮ নভেম্বর) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের চতুর্থ দিন শেষ হয়েছে।
ক্যারিবীয়রা নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ৩৪৫ রান সংগ্রহ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম ইনিংসে ৩০ রানে পিছিয়ে থাকা সফরকারীদের লিড এখন ৩১৫ রান। কাভেম হজ ১৪০ ও আমির জাঙ্গু ২০ রানে অপরাজিত আছেন।
দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে হৃদয়ের কাছে জানতে চাওয়া হয়, শেষ দিনে ৩৫০ রানের লক্ষ্য পেলে বাংলাদেশ তা তাড়া করতে পারবে কি না।
উত্তরে তিনি বলেন, শুরু ভালো করতে পারলে ৩৫০ চেজেবল আমার কাছে মনে হয়।
হৃদয় অবশ্য মনে করিয়ে দিয়েছেন, সবকিছু নির্ভর করবে বাংলাদেশের শুরু এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেয়া লক্ষ্যের ওপর। তার মতে, উইকেট এখনো ব্যাটিংয়ের উপযোগী। তবে পঞ্চম দিনে কী হবে, সেটি আগাম বলা কঠিন। প্রতিপক্ষ কত রানের লক্ষ্য দেয়, তা দেখেই ব্যাটিংয়ের পরিকল্পনা সাজাতে হবে।
অবশ্য কাজটি সহজ হবে না বাংলাদেশের জন্য। টেস্ট ক্রিকেটে তাদের সর্বোচ্চ সফল রান তাড়ার লক্ষ্য ২১৫, যা ২০০৯ সালে গ্রেনাডায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই পেরিয়েছিল বাংলাদেশ।
সিলেটে ক্যারিবীয়রা এখনই ইনিংস ঘোষণা করলেও লক্ষ্য দাঁড়াবে ৩১৬ রান। অর্থাৎ জিততে হলে নিজেদের আগের রেকর্ড বড় ব্যবধানে ছাড়িয়ে যেতে হবে স্বাগতিকদের।
এর আগে প্রথম ইনিংসে অপরাজিত ২৪২ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলে বাংলাদেশকে বিপর্যয় থেকে উদ্ধার করেন হৃদয়। ১৮৪ রানে ৭ উইকেট হারানোর পর তার ব্যাটেই ৩৮৬ রান পর্যন্ত পৌঁছায় স্বাগতিকরা। মুশফিকুর রহিমের অপরাজিত ২১৯ রান ছাড়িয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ডও গড়েন তিনি।
আরও পড়ুন <<>> বাংলাদেশের হতাশায় শেষ হলো চতুর্থ দিনের খেলা
তবে রেকর্ডের কথা মাথায় রেখে ব্যাটিং করেননি বলে জানিয়েছেন হৃদয়। বলেন, এটা আমার রিজিকে ছিল। চিন্তা করিনি কাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছি।
রেকর্ডের চেয়ে দলকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যাওয়াই তার মূল লক্ষ্য ছিল বলে জানান হৃদয়। সেদিন ব্যাটে বল ভালোভাবে আসছিল এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী শট খেলার চেষ্টা করেছেন তিনি। নিজের রেকর্ডে মুশফিকুর রহিমও খুশি হয়েছেন বলে জানান এ ব্যাটার।
মিরপুরে প্রথম টেস্টের দুই ইনিংসে শট নির্বাচনের কারণে সমালোচিত হয়েছিলেন হৃদয়। সিলেটে রেকর্ডগড়া ইনিংসের পর সে সমালোচনা নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। তার মতে, ভালো কিংবা খারাপ পারফরম্যান্সের পর আলোচনা-সমালোচনা হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে সমালোচনাকে সঠিকভাবে নিতে পারলে সেখান থেকেও শেখার সুযোগ রয়েছে।
নিজের ইনিংসে দুই বোলার তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদের অবদানের কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন হৃদয়। অষ্টম উইকেটে তাইজুলের সঙ্গে ১১৭ এবং নবম উইকেটে তাসকিনের সঙ্গে ৮৫ রানের জুটি গড়েছিলেন তিনি।
হৃদয় জানিয়েছেন, সেট ব্যাটার হিসেবে শুরুতে দুই সতীর্থকে যতটা সম্ভব কম স্ট্রাইক দেয়ার চেষ্টা করেছেন। পরে তাদের রক্ষণাত্মক ব্যাটিং ও চাপ সামলানোর দক্ষতা দলের সংগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
মিরপুরে প্রথম টেস্ট হেরে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে বাংলাদেশ। সিলেটে জিততে না পারলে সিরিজ হার এড়ানো সম্ভব হবে না। তবে ৩১৫ রানে পিছিয়ে থেকেও শেষ দিনের লড়াইয়ে হাল ছাড়তে চান না হৃদয়।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































