Apan Desh | আপন দেশ

‘রাজনৈতিক দলের প্রতি সমর্থনের প্রতিফলন ঘটবে ব্যালটে’

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ২১:২৬, ৮ নভেম্বর ২০২৬

‘রাজনৈতিক দলের প্রতি সমর্থনের প্রতিফলন ঘটবে ব্যালটে’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, আপন দেশ

যেকোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি সমর্থনের এ প্রতিফলন ঘটতে হবে ব্যালট বাক্সে, সরকারি অফিসে নয়। এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারি কর্মকর্তাদের কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি ব্যক্তিগত সমর্থন থাকাকে দোষের নয় বলে জানান তিনি।

রোববার (০৮ নভেম্বর) বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (বিপিএটিসি) তিনি এসব কথা বলেন। সমাপনী অনুষ্ঠানটি ছিল ৮১তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের।  

নবীন কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের প্রথম ও প্রধান পরিচয় আপনারা জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা। আপনাদের কাজ জনগণের সেবা করা। কোনো সহযোগিতার জন্য সাধারণ নাগরিক অফিসে এলে তারা যেন কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

একটি গোল্ডেন রুল স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘Treat others how you want to be treated’ অর্থাৎ আপনি অন্যের কাছ থেকে নিজের জন্য যেমন ব্যবহার প্রত্যাশা করেন, সেবা নিতে আসা মানুষের সঙ্গেও তেমন আচরণ করবেন।

বর্তমানে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে ২৬টি ক্যাডার রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিষয় ও কর্মস্থল অনুযায়ী আপনাদের কাজের ধরন ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু একটি সরকারের সার্বিক সফলতার জন্য দক্ষতা, সততা এবং মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন প্রশাসন জরুরি। 

আরও পড়ুন<<>>ভোট প্রস্তুতিতে ১ হাজার ৫০ ইউপি: ইসি

আইনের বিধিবদ্ধ নিয়মের মধ্যে থেকে মানবিক হওয়ার আহবান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, কেউ ভুল আবেদনপত্র নিয়ে এলে তাকে শুধু ভুল হয়েছে, ঠিক করে আনুন বলে ফিরিয়ে দেয়াটা বেআইনি বা অন্যায় নয়। কিন্তু তাকে সুনির্দিষ্টভাবে ভুলটি দেখিয়ে কোথায় কার কাছে গেলে তা সংশোধন করা যাবে, সে পরামর্শ দেয়াটাই মানবিকতার বহিঃপ্রকাশ। দেশের জনগণ আপনাদের কাছে শুধু আদেশ-নির্দেশ নয়, মানবিকতাও আশা করে।

পছন্দের পদে পদায়নের জন্য নীতি-নৈতিকতার সঙ্গে আপস না করার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদই রাষ্ট্র ও সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় পছন্দের পদে পোস্টিং কিংবা প্রমোশনের জন্য কেউ কেউ নিজেদের পেশাগত দক্ষতা ও সততার সঙ্গে কম্প্রোমাইজ করেন। দেশের যেকোনো স্থানে, যেকোনো পদে দায়িত্ব পালনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকাই চূড়ান্ত পেশাদারিত্ব। মনে রাখতে হবে, সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, জনপ্রশাসনের কোনো পদও কারও জন্য চিরস্থায়ী নয়।

বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। তবে সেটি প্রশাসনের মাধ্যমেই করছে।  এ এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্যই জনগণ ভোট দিয়ে এ সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে দেয়া নির্বাচনী ইশতেহার এখন জনগণের দলিল। জনগণের সে ইশতেহার বাস্তবায়নের প্রশাসনিক কাজটি আপনারা আন্তরিকতার সঙ্গে করবেন, এটিই সরকারের প্রত্যাশা।

প্রশাসনে দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে সরকারি সেবা আরও সহজ ও নাগরিকবান্ধব করতে কর্মকর্তাদের ইতিবাচক মানসিকতা সবচেয়ে বেশি কার্যকরী বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

পরিবেশ সুরক্ষা ও পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি আমাদের ঘরবাড়ি, অফিস-আদালত ও চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখি, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও দেশ গড়তে সক্ষম হব।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়