ছবি সংগৃহীত
আগের ম্যাচে উজবেকিস্তানকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে দেয়া পর্তুগাল কলম্বিয়ার বিপক্ষে জালই খুঁজে পেল না। আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে দুই দলই একাধিক সুযোগ তৈরি করল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি কোনো দলই। ফলে ম্যাচ শেষ হলো সমতায়। তাতে গ্রুপ সেরা হয়েছে কলম্বিয়া, রানার্সআপ হয়ে নকআউটে উঠল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল।
বাংলাদেশ সময় রোববার (২৮ জুন) সকালে মায়ামি গার্ডেন্সে হার্ড রক স্টেডিয়ামে ‘কে’ গ্রুপের ম্যাচটি গোলশুন্য ড্র হয়েছে। এ ম্যাচে শুরু থেকেই মাঠে ছিলেন রোনালদো। কিছু সুযোগও এসেছিলো। তবে কলম্বিয়ার শক্ত ডিফেন্স ভাঙ্গতে পারেননি তিনি।
গ্রুপ সেরা হওয়ায় রাউন্ড অব ৩২-এ ঘানাকে প্রতিপক্ষ পাচ্ছে কলম্বিয়া। পর্তুগালকে লড়তে হবে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে।
ম্যাচের প্রথম আক্রমণেই দারুণ সুযোগ পেয়ে যায় কলম্বিয়া। যদিও শেষ পর্যন্ত কাছ থেকে হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি জন কর্দোবা। ১৭তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে পর্তুগাল গোলরক্ষকের পরীক্ষা নেন এ ফরোয়ার্ড, ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন দিয়োগো কস্তা।
প্রথম হাইড্রেশন ব্রেকের আগে প্রতিপক্ষের সীমানায় একটি ফ্রি কিক পায় পর্তুগাল। অনেক দূর থেকে রোনালদোর শট রক্ষণ দেয়ালকে ফাঁকি দিলেও, সোজাসুজি শটে অনায়াসে বল গ্লাভসে জমান কামিলো ভার্গাস।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে টানা আক্রমণে দারুণ কয়েকটি সুযোগ দৈরি করে পর্তুগাল। ৪০তম মিনিটে ডি-বক্সে ব্রুনো ফের্নান্দেসের জোরাল শট দারুণ ক্ষিপ্রতায় আটকান ভার্গাস, ফিরতি বল পেয়ে রোনালদো অ্যাক্রোবেটিক শট রক্ষণে প্রতিহত হয়। দুই মিনিট পর জোয়াও ফেলিক্সের শট ক্রসবার ঘেঁষে বেরিয়ে যায়।
বিরতির ঠিক আগে আরেকটি ভালো সুযোগ তৈরি করে কলম্বিয়া; তবে ডেডলক ভাঙেনি এবারও। হামেস রদ্রিগেসের দূর থেকে নেওয়া শট ঝাঁপিয়ে আটকান কস্তা।
আরও পড়ুন<<>>ইরানের অপেক্ষা বাড়িয়ে নকআউটে মিশর
দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম ১০ মিনিটে ভালো দুটি আক্রমণ শাণান ফেলিক্স। প্রথমবার ডি-বক্সের মুখে গিয়ে ডান পাশে ফের্নান্দেসের উদ্দেশে বল বাড়ান, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড মিডফিল্ডার সেটা ছেড়ে দেন রোনালদোর জন্য, কিন্তু তার আগেই ক্লিয়ার করেন এক ডিফেন্ডার। দ্বিতীয়বার নিজেই শট নেন ফেলিক্স, তবে সেটা লক্ষ্যে থাকেনি।
পরের ১০ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে বারবার পর্তুগিজ রক্ষণে হানা দেয় কলম্বিয়া। দ্বিতীয় হাইড্রেশন ব্রেকের আগে গুস্তাভো পুয়ের্তার কোনাকুনি শট দূরের পোস্টের একটু দূর দিয়ে চলে যায় বাইরে।
নির্ধারিত সময়ের দুই মিনিট বাকি থাকতে আবারও প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে ভীতি ছড়ায় কলম্বিয়ার। ডিফেন্ডার হুবেন দিয়াসের দারুণ নৈপুণ্যে সেবারও বেঁচে যায় তারা।
তবে ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত আসে যোগ করা সময়ে (৯১ মিনিটে)। কর্নার থেকে কলম্বিয়ার সানচেজ চমৎকার হেডে বল জালে জড়ালে উৎসবে মেতে ওঠে কলম্বিয়ান সমর্থকেরা। তবে লাইন্সম্যান অফসাইডের পতাকা তোলেন।
পরবর্তীতে ভিএআর পরীক্ষা করে দেখা যায়, সানচেজের পায়ের আঙুল পর্তুগিজ ডিফেন্ডারের চেয়ে সামান্য এগিয়ে ছিল, ফলে গোলটি বাতিল হয়। শেষ মুহূর্তে দানিয়েল মুনোসের একটি প্রচেষ্টা পর্তুগাল গোলরক্ষক নুনো মেন্দেসের পায়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রতিহত করলে গোলশূন্য ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুই দল।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































