ফাইল ছবি
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে শতাধিক গুম ও হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ষষ্ঠ সাক্ষীর জবানবন্দি নেয়া হবে । রোববার (২৬ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হবে।
প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন-বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
গত ২১ জুন জিয়াউলের বিরুদ্ধে পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন তার এক সময়ের দেহরক্ষী সেনা সদস্য ইমরুল কায়েস। জবানবন্দিতে তিনি জানান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ইলিয়াস আলী হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন জিয়াউল। ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী থাকা অবস্থায় জিয়াউলকে ১৫০ থেকে ২০০ জনকে হত্যা করতে দেখেছেন তিনি। এরমধ্যে ‘অপারেশন রেবেল হান্ট’নামে একটি অপারেশন পরিচালনা করা হয় পলাতক বিডিআর সদস্যদের ধরতে। ওই সময় জিয়াউল ৮-১০ জন বিডিআর সদস্যকে হত্যা করেন। তাদের ইনজেকশন পুশ করে এবং পোস্তগোলা ব্রিজের কাছে আর্মি ক্যাম্পের পাশে থাকা নদীতে নিয়ে সিমেন্ট ভরা দুই বস্তার সঙ্গে বেঁধে মাথায় গুলি করে নদীতে ফেলে দেয়া হয়।
ইমরুল বলেন, তারিক আহমেদ সিদ্দিকের সঙ্গে জিয়াউলের ভালো সম্পর্ক ছিল। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক ছিল। জিয়াউল যখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যেতেন, তখন তার গাড়িতে অস্ত্র-গুলি থাকত। কিন্তু তা তল্লাশি করা হতো না।
আরও পড়ুন<<>>‘শাপলা চত্বর হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু ২৭ জুলাই’
জিয়াউলের বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূইয়া। ৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনালে বেপরোয়া জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের নানা তথ্য তুলে ধরেন তিনি।
ইকবাল করিম বলেন, র্যাবের ডিজি বেনজীর আহমেদের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে এডিজি র্যাব হিসেবে দায়িত্ব নেন জিয়াউল আহসান। এরপর জিয়া বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছেন। জিয়া নিজের আবাসিক টাওয়ারে একজন গার্ড রেখেছেন, বাসায় অস্ত্র রাখছেন এবং পুরো ফ্ল্যাটে সিসিটিভি বসিয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে তাকে বলা হয় গার্ড সরিয়ে নিতে, ক্যামেরা খুলে ফেলতে, বাসায় অস্ত্র রাখা থেকে বিরত থাকতে এবং অফিসিয়াল কোয়ার্টারের সামরিক নিয়ম-কানুন মেনে চলতে। কিন্তু জিয়া তার নির্দেশ উপেক্ষা করে আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন।
পরে জেনারেল ইকবাল জিয়াকে বোঝানোর জন্য বিগ্রেডিয়ার জগলুল বলেন। একদিন জগলুল তাকে জানান, এমন একজন মানুষকে বোঝাতে বলেছেন। যার মাথা পাথর দিয়ে ঠাসা। তাকে বোঝানোর কোনো উপায় নেই।
জিয়াউলের নানা অপরাধের ফিরিস্তি তুলে ধরে তাকে একজন সিরিয়াল কিলার আখ্যায়িত করেন সাবেক এ সেনাপ্রধান। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি জিয়াউলের বিরুদ্ধে আনু্ষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































