Apan Desh | আপন দেশ

ব্যক্তিগত হেলিকপ্টার কিনতে খরচ কত?

আপন দেশ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭:৪৯, ২৪ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ১৭:৫০, ২৪ আগস্ট ২০২৬

ব্যক্তিগত হেলিকপ্টার কিনতে খরচ কত?

ছবি: সংগৃহীত

ব্যবসায়িক কাজ, দ্রুত যাতায়াত, পর্যটন কিংবা ব্যক্তিগত প্রয়োজন—বিভিন্ন কারণে অনেকেই ব্যক্তিগত হেলিকপ্টার কেনার কথা ভাবেন। তবে হেলিকপ্টার কেনার জন্য শুধু বড় অঙ্কের অর্থ থাকলেই হয় না। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ, পাইলট, বিমা, হ্যাঙ্গার, প্রশিক্ষণ ও পরিচালনার নিয়মিত খরচ।

মডেলভেদে দামের পার্থক্য

হেলিকপ্টারের মূল্য নির্ভর করে মডেল, আসনসংখ্যা, ইঞ্জিন, উড্ডয়ন সক্ষমতা, উড্ডয়ন পরিসর, অ্যাভিওনিকস ও অতিরিক্ত সরঞ্জামের ওপর। ছোট ব্যক্তিগত হেলিকপ্টারের দাম কয়েক লাখ মার্কিন ডলার থেকে শুরু করে বড় ও আধুনিক মডেলের ক্ষেত্রে কয়েক মিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত হতে পারে।

ব্যক্তিগত ব্যবহার ও প্রশিক্ষণের জন্য পরিচিত মডেলগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘রবিনসন আর২২’। এটি ছোট ও হালকা হেলিকপ্টার। এতে ‘লাইকমিং ও-৩৬০’ পিস্টন ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়।

আরও বড় ‘রবিনসন আর৪৪’-এ চারজন পর্যন্ত যাত্রী বহন করা যায়। ‘আর৪৪ র্যাভেন টু’ মডেলে রয়েছে ‘লাইকমিং আইও-৫৪০’ ফুয়েল-ইনজেক্টেড ইঞ্জিন। ব্যক্তিগত ব্যবহার ছাড়াও বিভিন্ন কাজে এ মডেল ব্যবহৃত হয়।

এর চেয়ে শক্তিশালী ‘রবিনসন আর৬৬’-এ টারবাইন ইঞ্জিন রয়েছে। আবার বড় শ্রেণির হেলিকপ্টারের দাম কয়েক মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। রবিনসনের নতুন ‘আর-৮৮’ মডেলের ঘোষিত প্রাথমিক মূল্য প্রায় ৩৩ লাখ মার্কিন ডলার।

ঘণ্টায় কত জ্বালানি লাগে?

হেলিকপ্টারের জ্বালানি খরচ নির্দিষ্ট কোনো একটি সংখ্যায় বলা যায় না। ইঞ্জিনের ধরন, উড্ডয়নের ওজন, গতি, উচ্চতা, আবহাওয়া ও ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী খরচ পরিবর্তিত হয়।

সাধারণত ছোট পিস্টন-ইঞ্জিনের হেলিকপ্টার বড় টারবাইনচালিত মডেলের তুলনায় কম জ্বালানি ব্যবহার করে। তাই নির্দিষ্ট মডেল না জেনে প্রতি ঘণ্টা বা প্রতি কিলোমিটারে জ্বালানি খরচের নির্দিষ্ট হিসাব দেয়া ঠিক নয়।

কেনার পরও রয়েছে বড় ব্যয়

হেলিকপ্টারের মালিকানার সবচেয়ে বড় ব্যয়ের জায়গাগুলোর একটি হলো রক্ষণাবেক্ষণ। নির্দিষ্ট সময় পরপর ইঞ্জিন, রোটর, ট্রান্সমিশন, ফ্লাইট কন্ট্রোল ও অ্যাভিওনিকস পরীক্ষা করতে হয়।

এছাড়া পাইলটের বেতন ও প্রশিক্ষণ, বিমা, হ্যাঙ্গার বা নিরাপদ পার্কিং, জ্বালানি, যন্ত্রাংশ পরিবর্তন, বড় কম্পোনেন্টের ওভারহল এবং বিমান চলাচলসংক্রান্ত বিভিন্ন ফি দিতে হয়। ফলে শুধু কেনার দাম দিয়ে হেলিকপ্টারের প্রকৃত মালিকানা ব্যয় বোঝা যায় না।

বাংলাদেশে ব্যক্তিগত হেলিকপ্টার পরিচালনার ক্ষেত্রে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (ক্যাব) বিধি ও অনুমোদন মানতে হয়। আমদানি, নিবন্ধন, বিমান চলাচলের অনুমতি, নিরাপত্তা ও পরিচালনাসংক্রান্ত বিভিন্ন শর্ত পূরণ করতে হয়।

হেলিকপ্টারের বড় সুবিধা হলো, সাধারণ উড়োজাহাজের মতো দীর্ঘ রানওয়ের প্রয়োজন হয় না। অনুমোদিত ও উপযুক্ত স্থানে তুলনামূলক কম জায়গা থেকে উড্ডয়ন ও অবতরণ সম্ভব। এ কারণে দুর্গম এলাকায় যাতায়াত, চিকিৎসা, পর্যটন, উদ্ধারকাজ, শিল্প পরিদর্শন ও সংবাদ সংগ্রহে হেলিকপ্টারের ব্যবহার রয়েছে।

তাই ব্যক্তিগত হেলিকপ্টার কেনার আগে শুধু ক্রয়মূল্য নয়, বছরে কত ঘণ্টা এটি চালানো হবে, জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণে কত খরচ হবে এবং পাইলট ও হ্যাঙ্গারের ব্যয় কত—সবকিছু হিসাব করা জরুরি।

অর্থাৎ প্রশ্নটা শুধু ‘কত টাকায় কিনব?’ নয়, বরং ‘কত খরচে নিয়মিত পরিচালনা করতে পারব?’—সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়

শীর্ষ সংবাদ:

দ. কোরিয়া-যুক্তরাজ্য থেকে দুই কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার নিষিদ্ধ সংগঠন ছাড়া সভা-সমাবেশ করার অধিকার সবার আছে: আইনমন্ত্রী নুসরাত হত্যায় দু’জনের মৃত্যুদণ্ড, চারজনের যাবজ্জীবন ছয় মাসে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রবণতা বেশি: সি‌পি‌ডি বিশ্ববাজারে ৩ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে স্বর্ণ পবিত্র সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি বিএনপির মিডিয়া সেলের এক সদস্যকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি ঢাকায় বাংলাদেশে-ব্রাজিল ম্যাচ ৬ অক্টোবর বগুড়ায় সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা গাড়ির কাগজপত্র হালনাগাদের সময় বাড়ল ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মার্কিন কৌশল নিয়ে সতর্কবার্তা: নিষেধাজ্ঞায় ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন হবে না
City Touch