Apan Desh | আপন দেশ

পবিত্র ফাতেহা ই ইয়াজদাহম আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ০৯:৫১, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পবিত্র ফাতেহা ই ইয়াজদাহম আজ

ছবি : সংগৃহীত

আজ ২৩ সেপ্টেম্বর (বুধবার) পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম। প্রতিবছর আরবি রবিউস সানি মাসের ১১ তারিখে দিবসটি পালিত হয়। ‘ফাতেহা’ শব্দ দ্বারা সুরা ফাতেহা পাঠ বোঝানো হয় এবং ‘ইয়াজদাহম’ অর্থ ১১ তারিখ। ফার্সি শব্দযুগল ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহমের অর্থ হলো ১১ তারিখের ফাতেহা পাঠ। 

ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম প্রধান সুফি সাধক ও উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব শাহ আবদুল কাদের জিলানি (রহ.) আরবি রবিউস সানি মাসের ১১ তারিখে ইন্তেকাল করেন। তার ওফাত দিবস উপলক্ষে মুসলিম সমাজে দিনটি বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়।

ইসলামের ইতিহাসে মহান মনীষীদের অম্লান স্মৃতির আলো আজও পথভোলা মানুষকে সত্য ও সঠিক পথের দিশা দেখায়। তেমনই এক অনন্য পুরুষ, কাদেরিয়া সুফি ধারার প্রতিষ্ঠাতা, প্রখ্যাত আলেম ও বড়পীর হজরত শেখ আবদুল কাদির জিলানি (রহ.)। বিশ্বজুড়ে সুফি অনুসারী ও ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের কাছে হিজরি রবিউস সানি মাসের এগারো তারিখটি ‘ফাতিহা-ই-ইয়াজদহম’ হিসেবে অত্যন্ত শ্রদ্ধাপূর্ণ ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালিত হয়ে আসছে। তবে আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং মহান এ অলি ও আলেমের বর্ণাঢ্য জীবন, সুন্নাহর অনুসরন এবং দ্বীনি শিক্ষা গ্রহণ করাই এই দিবসের প্রকৃত উদ্দেশ্য।

শব্দগত দিক থেকে এটি ফারসি ভাষার দুটি শব্দের চমৎকার এক সমন্বয়। ‘ফাতিহা’-এর অর্থ দোয়া, মোনাজাত, জিয়ারত বা কোনো বুজুর্গের রুহের মাগফিরাত ও মর্যাদা কামনায় কুরআন তিলাওয়াত করে ইসালে সওয়াব করা। আর ‘ইয়াজদহম’- এটি একটি ফারসি সংখ্যাবাচক শব্দ, যার অর্থ ‘এগারো’। সুতরাং ফাতিহা-ই-ইয়াজদাহম বলতে এগারো-এর ফাতিহা শরিফকে বোঝায়। এই ফাতিহা-ই-ইয়াজদাহম শরিফ আবদুল কাদের জিলানী এর স্মরণে পালিত হয়

এ দিবসটি সমগ্র বিশ্বে, বিশেষ করে এ উপমহাদেশের মুসলিমদের কাছে অতীব তাৎপর্যপূর্ণ। আল্লাহর রাসূলের (সা.) পর্দা করার পর সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীনে ইমামদের সোনালী যুগে কোরআন-হাদিসের আলোকে দুনিয়া ছিল ঝলমল। পরবর্তীতে ভোগবাদী স্বার্থাম্বেষী ও বিজাতীয় ষড়যন্ত্রের ফলে উম্মতের ঐক্য নষ্ট হয়ে বিভিন্ন ফেরকার সৃষ্টি হয়। যার ফলে মুসলমানদের বিজয়ের ধারা মুখ থুবড়ে পড়ে। কিন্তু মহান ওলীগণ জিহাদের ময়দান থেকে সামান্য সময়ের জন্যও পিছু হটেননি। 

আরও পড়ুন<<>>দোয়া কবুল হওয়ার শর্ত 

তারা শরিয়ত, তরিকত, হাক্কিকত ও মারিফাতের ঝান্ডা নিয়ে বিশ্বের আনাচে-কানাচে ছুটে চলতে শুরু করেন। প্রতিষ্ঠা করেন লাখ লাখ দ্বীনি মারকাজ, মসজিদ-মাদ্রাসা ও খানকা। এরূপ প্রতিটি খানকাই ছিল তৎকালীন জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়। 

অপরদিকে ছিল শাসনকার্যের দফতর এবং ক্যান্টনমেন্ট স্বরূপ। এসব খানকা থেকেই এলমি রুহানি যোগ্যতা নিয়ে বের হয়েছিলেন হাজার হাজার মর্ধে মুজাহিদ। যারা ঘর ছেড়ে দুনিয়ার আনাচে-কানাচে দ্বীনের প্রচার প্রসারে বের হয়ে কাজ সম্পন্ন করে ইন্তেকাল করে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ছিলেন হযরত বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.)। 

বড়পীর আবদুল কাদের জিলানীর (রহ.) সাপ্তাহিক মাহফিলে তৎকালীন জামানায় ৬০-৭০ হাজার মানুষ হাজির থাকতেন। তার কণ্ঠের আওয়াজ এবং আহ্বান শুনে অনেকেই আর ঘরে ফেরেননি, ছড়িয়ে পড়েছেন বিশ্বের সর্বত্র। কোটি কোটি মানুষ তার নিকট ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ধন্য হয়েছেন। 

পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশের ওলীগণের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, বেশির ভাগই কাদেরিয়া, চিশতিয়া তরিকার শায়খ বা পীর। এ মহান ব্যক্তির ৫৪ জন সন্তানের পরবর্তী বংশধরগণ এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রেখে গেছেন। 

এমতাবস্থায় ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম ১১ শরীফ অনুষ্ঠানের গুরুত্ব কত বেশি তা একজন বুঝদার ও বিবেকবান লোকের জন্য বোঝা কঠিন নয়। এরপরও যারা ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহমের গুরুত্ব দেবে না, বুঝবে না তারা গাফেল।

ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন মসজিদ, খানকা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কোরআন তিলাওয়াত, মিলাদ, দোয়া ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এসব অনুষ্ঠানে আবদুল কাদের জিলানি (রহ.)-এর জীবন, আধ্যাত্মিক সাধনা, ধর্মীয় শিক্ষা ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড নিয়েও আলোচনা করা হয়। ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়