Apan Desh | আপন দেশ

২৭ জুলাই যুবলীগের সমাবেশের তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫:০৫, ২৪ জুলাই ২০২৩

আপডেট: ১৫:৪৭, ২৪ জুলাই ২০২৩

২৭ জুলাই যুবলীগের সমাবেশের তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান: মির্জা ফখরুল

সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে। তাই সরকারি দলকে তাদের সমাবেশের তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

সোমবার (২৪ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর নয়া পল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথ সভা পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার পতনের এক দফা দাবিতে বিএনপির ডাকা ২৭ জুলাই মহাসমাবেশের দিন রাজধানীতে যুবলীগের সমাবেশের মাধ্যমে সরকার সংঘাত সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। কোনো ধরনের সংঘাত হলে এর দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে। তাই সরকারি দলকে তাদের সমাবেশের তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান জানাই। 

আরও পড়ুন: এবার যুবলীগের ব্যানারে পাল্টা কর্মসূচি আওয়ামী লীগের

তিনি বলেন, সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা যে ভাষায় কথা বলে তা কোনো ভাষা হতে পারে না। এগুলো সন্ত্রাসী ভাষা। তারা আমাদের হুমকি দিচ্ছেন। তবে জনগণ এবার রুখে দাঁড়াচ্ছে। সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এখন ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নেমেছে। যুগপতের বাইরেও অনেক দল আছে যারা বলছে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। সেজন্যই আমরা ২৭ জুলাই ঢাকায় মহাসমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই সরকার পদত্যাগ করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে বাধ্য হবে। 

মির্জা ফখরুল বলেন, এই মহাসমাবেশ কিন্তু হঠাৎ করে আসেনি। গত ১৪/১৫ বছর ধরে দেশের সব রাজনৈতিক দল ও সংগঠন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আন্দোলন করছে। অর্থাৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের যে ব্যবস্থা দেশের মানুষ মেনে নিয়েছিল এবং সংবিধানে সেটা অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু সরকার সেটি আদালতকে ব্যবহার করে বাতিল করেছে। বিচারপতি খায়রুল হকের রায়ে বলা হয়েছে পরবর্তী দুটি নির্বাচন দেশের প্রয়োজনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে পারে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সেটি পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিল করে।

তিনি বলেন, আসলে এই সরকার অবৈধ, অনির্বাচিত। যার প্রমাণ ২০১৪ সালের বিনাভোটের নির্বাচন। ২০১৮ সালেও তারা নিশিরাতে একতরফাভাবে নির্বাচন করেছে। এভাবে তারা দেশের গণতন্ত্র, বিচার বিভাগ, অর্থনীতি, মানবাধিকার সবকিছু ধ্বংস করেছে। গুম খুন মানুষ হত্যা এই সরকারের প্রতিদিনের কর্মকাণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন করে ফের গায়েবি মামলা দেওয়া হচ্ছে। প্রায় ৪০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। এভাবে তাদেরকে হয়রানি করছে। এভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে তারা ধ্বংস করেছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ঢাকায় মহাসমাবেশের বিষয়ে আমরা ডিএমপি কমিশনারের কাছে জানিয়েছি। আশাকরি মঙ্গলবারের (২৫ জুলাই) মধ্যে ভেন্যুর বিষয়টি জানাতে পারব এবং কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে সহযোগিতা করবেন। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বলব- আমাদের আন্দোলন জনগণের আন্দোলন। এখানে আপনাদেরও সম্পৃক্ত হওয়া উচিত। কারণ আমরা মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না।

আরও পড়ুন: সামাজিক অপরাধের পাশাপাশি রাজনৈতিক অপরাধ বেড়েছে: তথ্যমন্ত্রী

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, মো. আবদুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শামসুর রাহমান শিমুল বিশ্বাস, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, শামা ওবায়েদ, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, মোস্তাক মিয়া, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, মীর সরফত আলী সপু, বেনজীর আহমেদ টিটো, আবদুল খালেক, মো. মুনির হোসেন, তাইফুল ইসলাম টিপু, আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, যুবদলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজীব আহসান, কৃষক দলের হাসান জাফির তুহিন, ছাত্রদলের কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, ওলামা দলের শাহ মোহাম্মদ নেছারুল হক, অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম তালুকদার, গাজীপুর জেলার সভাপতি ফজলুল হক মিলন, ঢাকা জেলার সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী, মানিকগঞ্জ জেলার সভাপতি আফরোজা খানম রীতাসহ ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ। এর আগে তাদের সমন্বয়ে যৌথসভায় সভাপতিত্ব করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়