ফাইল ছবি
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। রোববার (০৯ আগস্ট) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে ১১ দলের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহবায়ক নাহিদ ইসলাম।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, জুলাই সনদ এবং রাষ্ট্রসংস্কারে বিএনপি অনীহা দেখিয়েছে। তারা পূর্বতন সরকারগুলোর মতোই এগিয়ে যাচ্ছে। আশা করা হয়েছিল, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনটা জুলাই সনদের ভিত্তিতে সংস্কারের মাধ্যমে হবে। কিন্তু বিএনপি এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, বিএনপি সংস্কারের পথে হাঁটলে ঐক্যবদ্ধভাবে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল মিলে এককভাবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেয়া যেত। কিন্তু তারা সেটা করেনি। এ জন্য ১১–দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেয়া হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের লক্ষ্যে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল অনুসারে, মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু হয়েছে। আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন। এরপর যাচাই–বাছাই হবে। ১৮ আগস্ট মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। জাতীয় সংসদের অধিবেশনকক্ষে ভোট গ্রহণ ২০ আগস্ট।
আরও পড়ুন<<>>রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির ২ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ
সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন সংসদ সদস্যরা। প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রেও একজন সংসদ সদস্যের সমর্থন ও প্রস্তাব প্রয়োজন হয়।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সহচর কর্নেল অলি বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন। জিয়াউর রহমানের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশে নেন তিনি। রাষ্ট্রপতি জিয়ার সরকারে মন্ত্রীও ছিলেন কর্নেল অলি। খালেদা জিয়ার প্রথম সরকারেও মন্ত্রী ছিলেন তিনি।
২০০১ সালে তিনি চট্টগ্রাম-১৩ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। চট্টগ্রাম-১৩ আসনে জিতলেও সে নির্বাচনে তৎকালীন চট্টগ্রাম-১৪ আসনে জামায়াতের শাহজাহান চৌধুরীর কাছে হেরে যান তিনি। ওই নির্বাচনে সারাদেশে বিএনপি-জামায়াতের জোট হলেও উভয় দলের জন্য চট্টগ্রাম-১৪ উন্মুক্ত ছিল। ২০০১ সালে কর্নেল অলি খালেদা জিয়ার সরকারের মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি।
২০০৬ সালে বিএনপি ছেড়ে এলডিপি গঠন করেন কর্নেল অলি। তার সঙ্গে সে সময়ে বিএনপির ৩২ জন এমপি দল ছাড়েন। যা ছিল বিএনপির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ভাঙন। ২০০৮ সালে এককভাবে নির্বাচন করে জয়ী হন কর্নেল অলি। ২০১২ সালে তিনি খালেদা জিয়ার ডাকে বিএনপির জোটে যোগ দেন। আসন নিয়ে টানাপোড়েনে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াত জোটে যোগ দেয় কর্নেল অলির এলডিপি।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































