ফাইল ছবি
গত বছর (২০২৫) বিএনপির আয় হয়েছে ২২ কোটি ১৯ লাখ ৫৫ হাজার ১৮২ টাকা। এ সময়ে দলটির ব্যয় হয়েছে ১৫ কোটি ২৬ লাখ ১০ হাজার ৮৫৭ টাকা। ২০২৪ সালে বিএনপি ব্যয় করেছিল ৪ কোটি ৮০ লাখ ৪ হাজার ৮২৩ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে বিএনপির ব্যয় বেড়েছে তিনগুণ।
এবার উদ্বৃত্ত নিয়ে বর্তমানে বিএনপির দলীয় তহবিলে আগের স্থিতিসহ জমা রয়েছে ২৮ কোটি টাকার বেশি।
রোববার (১৯ জুলাই) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে ২০২৫ পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেয় বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল।
দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল ইসি সচিবালয়ে পৌঁছায়।
প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন, দলের কোষাধ্যক্ষ ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং সহ-দফতর সম্পাদক মনির হোসেন।
নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার হোসেনের কাছে বিএনপির নিরীক্ষিত বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন (অডিট রিপোর্ট) হস্তান্তর করে প্রতিনিধিদল।
এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন হয়েছে। বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে নানা আয়ের পাশাপাশি ব্যয়ও হয়েছে দলটির।
সাধারণত দলের সদস্যদের নিয়মিত চাঁদা, বিভিন্ন ব্যক্তি ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দেয়া অনুদান এবং দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রির অর্থ থেকে আয় দেখায় রাজনৈতিক দলগুলো।
অন্যদিকে, দলের সারা বছরের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা, রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন, প্রচারপত্র ও পোস্টার প্রকাশনা, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কার্যালয়গুলোর রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন এবং দুস্থ নেতাকর্মীদের সহায়তার খাতে ব্যয়ের হিসাব দেখিয়েছে বিএনপি।
ইসি সচিবের কাছে অডিট রিপোর্ট দিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমাদের প্রারম্ভিক স্থিতি ২১ কোটি ১৩ লাখ ৯৭ হাজার ৩৫ টাকা। গত বছর আমাদের আয় হয়েছে ২২ কোটি ১৯ লাখ ৫৫ হাজার ১৮২ টাকা। ব্যয় হয়েছে ১৫ কোটি ২৬ লাখ ১০ হাজার ৮৫৭ টাকা। এখানে আমাদের উদ্বৃত্ত রয়েছে ৬ কোটি ৯৩ লাখ ৫৪ হাজার ৩২৫ টাকা। ব্যাংকে মোট গচ্ছিত রয়েছে ২৮ কোটি ৪ লাখ ৭১ হাজার ৬৮০ টাকা। এ ছাড়া হাতে নগদ রয়েছে ২ লাখ ৭৯ হাজার ৭০০ টাকা। মোট আছে ২৮ কোটি ৭ লাখ ৩৬০ টাকা।
সব প্রক্রিয়া অবলম্বন করে হিসাব জমা দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, এটা গণতান্ত্রিক রাজনীতির ক্ষেত্রে জনগণের কাছে জবাবদিহির জায়গা আরও পরিষ্কার, সমুন্নত করা। দলীয় আয়-ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য এটি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা মনে করি, গণতান্ত্রিক দেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়া। জনগণের ভোটে নির্বাচিত রাজনৈতিক দলের পরিচালনা, আয়ের উৎস এবং ব্যয় কী হয়েছে, তা জনগণকে জানানো উচিত।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, প্রতি বছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আগের পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব দলগুলোকে নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হয়।
আরও পড়ুন : ‘জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বিএনপির ১৭ বছরের আন্দোলন পূর্ণতা পেয়েছে’
গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ অনুযায়ী, পরপর তিন বছর দলের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা না দিলে সংশ্লিষ্ট দলের নিবন্ধন বাতিলের বিধান রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে ৫৯টি। তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অডিট রিপোর্ট জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে।
আপন দেশ/এনএম
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































