ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে মাঠে নেমেছিলেন বিএনপির ৭৯ জন নেতা। তারা ৪৬টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ফলাফল চূড়ান্ত হওয়ার পর দেখা যায়, তাদের মধ্য থেকে সাতজন বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তারা এখন সংসদে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তবে দলীয় সূত্র জানাচ্ছে, তাদের জন্য কোনো সুখবর নেই। সংসদ সদস্য হলেও দলের পক্ষ থেকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দেখানো হবে না। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে নির্বাচনে অংশ নেয়ায় তাদের প্রতি কঠোর অবস্থানেই রয়েছে বিএনপি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ফল বিএনপির জন্য স্বস্তি ও অস্বস্তি—দুই-ই। একদিকে দল-সমর্থিত নেতাদের জনপ্রিয়তা প্রমাণিত হয়েছে। অন্যদিকে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যকারীরাই বিজয়ী হয়েছেন। নির্বাচনের আগে তাদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারসহ নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। তবু ভোটাররা দলীয় প্রতীকের চেয়ে ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
স্বতন্ত্র হিসেবে বিজয়ী সাতজন হলেন—
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা (বিএনপির সাবেক সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক)। কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল (বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি)। টাঙ্গাইল-৩ আসনের লুৎফর রহমান খান আজাদ (সাবেক মন্ত্রী)। চাঁদপুর-৪ আসনের আব্দুল হান্নান (উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি)। কুমিল্লা-৭ আসনের আতিকুল আলম শাওন (উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি)। ময়মনসিংহ-১ আসনের সালমান ওমর রুবেল (উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য) এবং দিনাজপুর-৫ আসনের রেজওয়ানুল হক।
বিএনপি শরিক দলগুলোর জন্য ১৬টি আসন ছেড়ে দিয়েছিল। এর মধ্যে ১২টি আসনেই স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থীরা লড়েন। ফলে তৃণমূলের ভোট বিভক্ত হয়ে যায়। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে জোটের প্রার্থীদের ওপর।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনটি ছেড়ে দেয়া হয়েছিল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে। তবু সেখানে স্বতন্ত্র হিসেবে জয় পান ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। এছাড়া কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে প্রথমে মনোনয়ন পান শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল। পরে জোটের স্বার্থে ধানের শীষ দেয়া হয় সৈয়দ এহসানুল হুদাকে। তবে স্বতন্ত্র হিসেবেই জয়ী হন ইকবাল।
আরও পড়ুন <<>> বিদ্রোহী কাঁটায় বিএনপি যে ২১ আসন হারলো
চাঁদপুর-৪ আসনটি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সেখানে সাবেক এমপি লায়ন হারুনুর রশীদকে হারিয়ে জয় পান আব্দুল হান্নান। কুমিল্লা-৭ আসনে এলডিপি মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ ধানের শীষ পেলেও ভোটাররা বেছে নেন আতিকুল আলম শাওনকে। ময়মনসিংহ-১ আসনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সকে পরাজিত করেন সালমান ওমর রুবেল।
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে নির্বাচনের আগেই এ সাতজনকে বহিষ্কার করা হয়। সারা দেশে প্রায় ৭৯ জন নেতা স্বতন্ত্র হিসেবে ভোটে লড়েছিলেন। অধিকাংশই পরাজিত হয়েছেন। তবে এ সাতজনের জয় সংসদে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়বে—এমন ধারণা করছেন পর্যবেক্ষকরা। তবু আপাতত স্পষ্ট বার্তা একটাই—দলের বিদ্রোহীদের জন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি বা সুখবর নেই।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































