Apan Desh | আপন দেশ

৭ নভেম্বর: ক্ষমতার লড়াইয়ে কে কেন হারলেন, কে কেন জিতলেন

সরদার ফরিদ আহমদ

প্রকাশিত: ১৪:২৫, ৭ নভেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১৫:০৬, ৭ নভেম্বর ২০২৬

৭ নভেম্বর: ক্ষমতার লড়াইয়ে কে কেন হারলেন, কে কেন জিতলেন

ছবি: আপন দেশ

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এই দিনের ঘটনাকে কেউ সিপাহি-জনতার বিপ্লব, কেউ জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস, আবার কেউ সামরিক অভ্যুত্থান ও হত্যাকাণ্ডের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখেন। তবে ব্যাখ্যার পার্থক্য থাকলেও একটি বিষয়ে দ্বিমত নেই-৭ নভেম্বরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ক্ষমতার রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছিল। খালেদ মোশাররফের পতন ঘটে, কর্নেল আবু তাহের ও জাসদের বিপ্লবী প্রকল্প ব্যর্থ হয়, আর জিয়াউর রহমান আবার ক্ষমতার কেন্দ্রে ফিরে আসেন।

এই তিনটি পরিণতির পেছনে কী কারণ ছিল? প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে হলে আবেগের বদলে দেখতে হবে সামরিক শক্তির বিন্যাস, রাজনৈতিক কৌশল, সেনাসদস্যদের অসন্তোষ এবং নেতৃত্বের সিদ্ধান্তগুলো।

খালেদ মোশাররফ কেন হেরে গেলেন?

খালেদ মোশাররফের পরাজয়ের প্রধান কারণ ছিল, তিনি ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থানে সামরিক নেতৃত্বের পরিবর্তন ঘটাতে পারলেও পুরো সেনাবাহিনীর ওপর কার্যকর ও স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি।

১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনীতে নিয়মিত চেইন অব কমান্ড দুর্বল হয়ে পড়েছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডে জড়িত কয়েকজন জুনিয়র কর্মকর্তা বঙ্গভবনে অবস্থান করছিলেন এবং নিজেদের প্রভাব বজায় রেখেছিলেন। সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানও তখন সেনাবাহিনীর ভেতরে কর্তৃত্বের সংকট সামাল দিতে পারেননি। এই পরিস্থিতিতে ৩ নভেম্বর খালেদ মোশাররফ ও তার সহযোগীরা উদ্যোগ নেন। জিয়াকে গৃহবন্দি করা হয়। হত্যাকাণ্ডে জড়িত কর্মকর্তাদের দেশ ছাড়ার পথ তৈরি হয় এবং খালেদ সেনাপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু এই সাফল্য স্থায়ী হয়নি।

প্রথম দুর্বলতা ছিল, খালেদ সামরিক নেতৃত্বের শীর্ষে উঠলেও অধস্তন সৈনিকদের বড় অংশের আস্থা অর্জন করতে পারেননি। সেনাবাহিনীর ভেতরে তখন অফিসার ও সাধারণ সৈনিকদের মধ্যে পদমর্যাদা, সুযোগ-সুবিধা এবং কর্তৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ ছিল। জাসদের বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা এই অসন্তোষকে সংগঠিত করার চেষ্টা করছিল। তারা ৩ নভেম্বরের ঘটনাকে সেনা কর্মকর্তাদের ক্ষমতার লড়াই হিসেবে তুলে ধরে সৈনিকদের বিদ্রোহে উদ্বুদ্ধ করে। খালেদের বিরুদ্ধে প্রচার করা হয় যে তার অভ্যুত্থান ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের স্বার্থ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ। এই প্রচারের ঐতিহাসিক সত্যতা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও সেনানিবাসে এর রাজনৈতিক প্রভাব ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

দ্বিতীয় দুর্বলতা ছিল রাজনৈতিক যোগাযোগ ও জনসমর্থনের প্রশ্ন। খালেদ মোশাররফের প্রধান লক্ষ্য ছিল সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং সামরিক নেতৃত্বের সংকটের অবসান ঘটানো। তিনি নিজেকে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নেননি। তার সমর্থকেরা তাকে জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার পরামর্শ দিলেও তিনি সে পথে এগোননি বলে বিভিন্ন বিবরণে উল্লেখ আছে। ফলে তার উদ্যোগের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধারণ সৈনিক ও জনগণের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা যায়নি। অন্যদিকে, তার বিরোধীরা সক্রিয়ভাবে প্রচার চালাচ্ছিল।

তৃতীয়ত, তিনি প্রতিপক্ষের সংগঠিত প্রতিক্রিয়া যথাসময়ে মোকাবিলা করতে পারেননি। ৬ নভেম্বরের মধ্যে রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদ সরে দাঁড়ান এবং বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। কিন্তু সাংবিধানিক পদে পরিবর্তন ঘটলেও সেনানিবাসের ভেতরের শক্তির ভারসাম্য খালেদের অনুকূলে আসেনি। ৭ নভেম্বর সৈনিকদের বিদ্রোহ শুরু হলে তার হাতে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলার মতো নির্ভরযোগ্য শক্তি ছিল না। শেষ পর্যন্ত তিনি নিহত হন।

অর্থাৎ, খালেদ মোশাররফের পরাজয় শুধু সামরিক সংঘর্ষে পরাজয় ছিল না। এটি ছিল সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ বুঝতে না পারা, প্রতিপক্ষের সংগঠন ও প্রচার মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হওয়া এবং ক্ষমতা দখলের পর কর্তৃত্ব সুসংহত করতে না পারার সম্মিলিত ফল। আর তার নামের সঙ্গে ভারতপন্থী ট্যাগ লেগে যাওয়াতে জনগণ ক্ষেপে গিয়েছিল। মূল কথা জনগণ তার সঙ্গে ছিল না।

কর্নেল তাহের ও জাসদ কেন ব্যর্থ হলো?

৭ নভেম্বরের বিদ্রোহে কর্নেল আবু তাহের ও জাসদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তাহেরের লক্ষ্য ছিল শুধু জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্ত করা নয়। জাসদের বিপ্লবী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত তার পরিকল্পনায় সেনাবাহিনীর প্রচলিত কাঠামো ভেঙে সাধারণ সৈনিকদের অধিক ক্ষমতা দেওয়া এবং একটি সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষাও ছিল। বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার প্রচারপত্রে অফিসার ও সৈনিকদের বৈষম্য দূর করা এবং সেনাবাহিনীর কাঠামো বদলের দাবি তোলা হয়েছিল।

তাহেরের পরিকল্পনার তাৎক্ষণিক সাফল্য ছিল জিয়াকে মুক্ত করা এবং খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বাধীন শক্তিকে পরাস্ত করার প্রক্রিয়ায় সৈনিকদের সক্রিয় করা। কিন্তু এই সাফল্যকে রাজনৈতিক ক্ষমতায় রূপান্তর করা যায়নি। এর প্রথম কারণ, বিদ্রোহে অংশ নেওয়া সব সৈনিকের লক্ষ্য এক ছিল না। কেউ অফিসারদের কর্তৃত্ব ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ ছিল, কেউ ১৫ আগস্টের অভ্যুত্থানে জড়িত কর্মকর্তাদের সম্ভাব্য শাস্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল, আবার কেউ জিয়াউর রহমানকে সমর্থন করত। তাই একই বিদ্রোহে অংশ নিলেও সবাই তাহেরের সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের অনুসারী ছিল না।

আরও পড়ুন<<>>কেন ৭ নভেম্বরকে কাঁধে নিয়েছি

দ্বিতীয়ত, জাসদ সৈনিকদের অসন্তোষকে কাজে লাগাতে পেরেছিল, কিন্তু সেনাবাহিনীর ওপর দীর্ঘমেয়াদি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার মতো ঐক্যবদ্ধ শক্তি গড়ে তুলতে পারেনি। বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার সংগঠন ও প্রভাব ছিল, কিন্তু তা পুরো সেনাবাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করার মতো বিস্তৃত ছিল না। বিদ্রোহের পর কোন রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামো রাষ্ট্র পরিচালনা করবে, সেই প্রশ্নেও তাহেরের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি।

তৃতীয়ত, তাহের ও জিয়ার মধ্যে স্বার্থের সাময়িক মিল ছিল, কিন্তু রাজনৈতিক লক্ষ্য ছিল ভিন্ন। তাহের জিয়াকে মুক্ত করার মাধ্যমে নিজের বিপ্লবী পরিকল্পনার পথ তৈরি করতে চেয়েছিলেন। জিয়ার কাছে মুক্তি ছিল নিজের সামরিক কর্তৃত্ব পুনরুদ্ধারের সুযোগ। জিয়া মুক্ত হওয়ার পর তাহেরের দাবিগুলো মেনে নেননি। ফলে যাকে মুক্ত করে ক্ষমতার কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল, তিনিই অল্প সময়ের মধ্যে তাহেরের প্রধান প্রতিপক্ষে পরিণত হন।

এর পরিণতি ছিল সুদূরপ্রসারী। জিয়া ক্ষমতা সুসংহত করার পথে এগোন, আর তাহের গ্রেফতার হন। ১৯৭৬ সালে সামরিক আদালতে বিচারের পর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। জাসদের বিপ্লবী প্রকল্পও ভেঙে পড়ে।

তাহেরের ব্যর্থতার মূল কারণ তাই শুধু সামরিক শক্তির সীমাবদ্ধতা নয়। তিনি বিদ্রোহ ঘটানোর ক্ষমতা অর্জন করেছিলেন, কিন্তু বিদ্রোহের পর রাষ্ট্রক্ষমতা কার হাতে থাকবে, তা নিশ্চিত করতে পারেননি। তার রাজনৈতিক লক্ষ্য এবং বিদ্রোহে অংশ নেওয়া বিভিন্ন গোষ্ঠীর লক্ষ্য এক ছিল না। এই ব্যবধানই তার বিপ্লবী পরিকল্পনাকে দুর্বল করে দেয়।

জিয়াউর রহমান কেন বিজয়ী হলেন?

জিয়াউর রহমানের বিজয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ছিল, ৭ নভেম্বরের বিদ্রোহের বিভিন্ন শক্তি তাকে মুক্ত করলেও তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষেত্রে তিনি নিজস্ব সামরিক অবস্থানকে কাজে লাগাতে পেরেছিলেন। তিনি ছিলেন সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান। মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকার কারণে সেনাবাহিনীতে তার পরিচিতি ও মর্যাদা ছিল। গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্ত হওয়ার পর তিনি আবার সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে ফিরে আসার সুযোগ পান।

দ্বিতীয় কারণ, তার বিরোধীরা পরস্পরের লক্ষ্য ও স্বার্থে একমত ছিল না। খালেদ মোশাররফ সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা ও নেতৃত্ব পুনর্গঠনের চেষ্টা করেছিলেন। তাহের চেয়েছিলেন সেনাবাহিনীর কাঠামো বদলে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পথ তৈরি করতে। আর ৭ নভেম্বরের বিদ্রোহে অংশ নেওয়া অন্য কিছু সৈনিকের লক্ষ্য ছিল ভিন্ন। জিয়া এই বিচ্ছিন্ন শক্তিগুলোর মধ্যে নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার সুযোগ পান। তাহেরের সঙ্গে তার সাময়িক সহযোগিতা জিয়াকে মুক্তি পেতে সাহায্য করেছিল, কিন্তু তাহেরের রাজনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ করার কোনো বাধ্যবাধকতা তার ছিল না।

তৃতীয় কারণ, জিয়া বিদ্রোহের পর সৃষ্ট ক্ষমতার শূন্যতা পূরণ করতে পেরেছিলেন। ৭ নভেম্বরের পরপরই তিনি সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে ফিরে আসেন। বিচারপতি সায়েম রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও পরবর্তী সময়ে জিয়া ক্রমে ক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসেন। ১৯৭৬ সালের নভেম্বরে তিনি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব নেন এবং ১৯৭৭ সালের এপ্রিলে রাষ্ট্রপতি হন।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জিয়ার বিজয় ৭ নভেম্বরের বিদ্রোহে তার একক নেতৃত্বের প্রমাণ নয়। বরং বিদ্রোহের তাৎক্ষণিক লক্ষ্য ও পরবর্তী রাষ্ট্রক্ষমতার বিন্যাস এক ছিল না। তাহের ও জাসদ যে বিদ্রোহকে সমাজতান্ত্রিক পরিবর্তনের পথে নিতে চেয়েছিল, জিয়া সেটিকে নিজের সামরিক ও রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার সুযোগে পরিণত করেন। এই অর্থে ৭ নভেম্বরের তাৎক্ষণিক বিজয়ী শক্তিগুলোর মধ্যে জিয়াই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে বেশি লাভবান হন।

৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহের তিনটি পরিণতি তিনটি আলাদা শিক্ষা দেয়। খালেদ মোশাররফ সামরিক নেতৃত্বে পরিবর্তন আনলেও সেনাবাহিনীর ভেতরে পর্যাপ্ত সমর্থন ও কর্তৃত্ব ধরে রাখতে পারেননি। কর্নেল তাহের ও জাসদ সৈনিকদের অসন্তোষকে বিদ্রোহে রূপ দিতে পারলেও সেই বিদ্রোহকে নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচির অধীনে আনতে পারেনি। আর জিয়াউর রহমান সাময়িকভাবে পরস্পরবিরোধী শক্তির সহযোগিতা কাজে লাগিয়ে নিজের সামরিক কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন এবং পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছান।

অতএব, ৭ নভেম্বরকে শুধু একজনের পরাজয় বা আরেকজনের বিজয় হিসেবে দেখলে ইতিহাসের পূর্ণ ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে না। এটি ছিল সামরিক অসন্তোষ, রাজনৈতিক কৌশল, নেতৃত্বের ভুল এবং ক্ষমতার শূন্যতার সম্মিলিত পরিণতি। তবে চূড়ান্ত ফলাফলের বিচারে স্পষ্ট-খালেদ মোশাররফ তার কর্তৃত্ব ধরে রাখতে পারেননি, তাহের তার বিপ্লবী লক্ষ্য অর্জন করতে পারেননি, আর জিয়াউর রহমান সেই সংঘাত থেকে রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে উঠে আসার পথ তৈরি করেছিলেন।

লেখক: সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়