ছবি: আপন দেশ
পরিবেশ, প্রাণী ও জনস্বাস্থ্যকে পৃথক সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, এমপি। মানুষ, প্রাণী, উদ্ভিদ ও বাস্তুতন্ত্রকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করে সকল কার্যক্রম এগিয়ে নিতে জোর দেন তিনি।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)-এর সদর দফতর ইতালির রাজধানী রোমে শুরু হওয়া কৃষিখাদ্য ব্যবস্থায় ওয়ান হেলথ কার্যক্রম’ বিষয়ক বৈশ্বিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, কৃষিখাদ্য ব্যবস্থার স্থিতিস্থাপকতা পরস্পর-সংযুক্ত এসব ক্ষেত্রের সম্মিলিত সুস্থতার ওপর নির্ভর করে।
মন্ত্রী বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ ও নিম্নভূমির গঙ্গা বদ্বীপে অবস্থিত বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য হ্রাস ও পরিবেশ বিপর্যয়ের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। একই ভূদৃশ্যে মানুষ, বাস্তুতন্ত্র ও কৃষিখাদ্য ব্যবস্থা নিবিড়ভাবে যুক্ত থাকায় একটি খাতে চাপ সৃষ্টি হলে তার প্রভাব দ্রুত অন্য খাতেও পড়ে। পরিবেশ, প্রাণী ও জনস্বাস্থ্যকে বিচ্ছিন্নভাবে বিবেচনা করে কার্যকর সমাধান পাওয়া সম্ভব নয়।
আরও পড়ুন<<>>দেশের স্বার্থ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর: মাহদী আমিন
তিনি জানান, প্রায় দুই দশক ধরে বাংলাদেশ ওয়ান হেলথকে বাস্তব শাসনব্যবস্থার নীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে অংশীদারত্ব বিবেচনা করে কাঠামো গড়ে তুলছে। এ অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয়, তথ্য বিনিময় ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে ওয়ান হেলথ কাঠামোয় পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রকে কেন্দ্রীয়ভাবে অন্তর্ভুক্ত করা এবং জেলা ও প্রান্তিক পর্যায়ে সক্ষমতা বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে টেকসই সমন্বয় গড়ে তুলতে পরিকল্পিত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা প্রয়োজন। বাংলাদেশের জাতীয় ওয়ান হেলথ কাঠামোয় পরিবেশ খাতকে মূল অংশীজন হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। যৌথ পরিকল্পনা ও সম্পদের মাধ্যমে এ অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে হবে। প্রস্তাবিত ওয়ান হেলথ তথ্যকেন্দ্র দেশগুলোর বাস্তব অভিজ্ঞতা বিনিময়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেও মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।
আগামী নভেম্বরে আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য কপ৩১-এর আগে এ সম্মেলনকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, রোমের আলোচনার অভিজ্ঞতা কপ৩১-এর আলোচনায় তুলে ধরতে এবং জলবায়ু ও পরিবেশগত স্বাস্থ্য বিষয়ে আরও সমন্বিত বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে বাংলাদেশ কাজ করবে।
তিনি বাংলাদেশের অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেয়ার পাশাপাশি অন্যান্য দেশের কাছ থেকে শেখার প্রস্তুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। সম্মেলনের আলোচনা বাস্তব কর্মসূচি, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন এবং স্থানীয় পর্যায়ের সক্ষমতায় রূপ দেয়ার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































