Apan Desh | আপন দেশ

দেশে সাত মাসে ৬৪১ নারী-শিশু ধর্ষণের শিকার: আসক

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ২০:২৮, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ২০:২৮, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশে সাত মাসে ৬৪১ নারী-শিশু ধর্ষণের শিকার: আসক

ছবি: আপন দেশ

চলতি বছরে সাত মাসে (জানুয়ারি-জুলাই) দেশে নারী ও শিশু ধর্ষণের ৬৪১টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। এর মধ্যে ৪০০ জন নারী, ২৪১ শিশু ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক সংলাপে এ তথ্য তুলে ধরে সংস্থাটি। সংলাপে আসকের নির্বাহী পরিচালক তাহমিনা রহমান চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। 

তাহমিনা জানান, চলতি বছরের ৭ মাসে নারী ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৪০০টি এবং ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ঘটেছে ৩৭টি। এছাড়া ধর্ষণচেষ্টার ১৫২টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। একই সময়ে শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ৬০৬টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২৪১টি ধর্ষণ ও ২১৩টি শিশু হত্যার ঘটনা রয়েছে। নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি এবং উত্ত্যক্তের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে ১৯১টি। মানব পাচারের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।

তিনি জানান, ২০২৫ সালে এ সংক্রান্ত এক হাজার ১২৬টি নতুন মামলা হয়েছে। আর ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত বিচারাধীন বা তদন্তাধীন মামলা ছিল ৫ হাজার ২৮৪টি।

তাহমিনা রহমান বলেন, নারী, শিশু ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য আইনি সহায়তা, চিকিৎসা, মনোসামাজিক সহায়তা, আশ্রয়, পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন সেবা চালু রয়েছে। তবে এসব সেবা অনেক ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হওয়ায় ভুক্তভোগীদের এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। ফলে প্রয়োজনীয় সেবা পেতে সময় ও অর্থ দুটিই ব্যয় হয়।

সংলাপে মূল নিবন্ধে জাতীয় আইনি সহায়তা অধিদফতরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যের বরাত দিয়ে জানানো হয়, ২০০৯ থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত ১৮ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯ জন সংস্থাটির আইনি সহায়তা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩১ হাজার ২২২ জন সুপ্রিম কোর্ট আইনি সহায়তা কার্যালয়ের মাধ্যমে ও ১৩ লাখ ৩৩ হাজার ৭৭৭ জন দেশের ৬৪টি জেলা আইনি সহায়তা কার্যালয়ের মাধ্যমে সেবা পেয়েছেন। 

আরও পড়ুন<<>>একনেকে দেড় লাখ কোটি টাকার ১২ প্রকল্প পাস

মূল নিবন্ধে আরও জানানো হয়, আইনি সহায়তা পাওয়ার জন্য আবেদনপ্রক্রিয়া অনেক ক্ষেত্রে জটিল ও সময়সাপেক্ষ। আবেদনকারীদের একাধিক অনুমোদনের ধাপ অতিক্রম করতে হয়। সরকারি পর্যায়ে অনুমোদনকারী কমিটি নিয়মিত সভা না করায় কোনও কোনও ক্ষেত্রে আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়। আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে আপিলের ব্যবস্থাও অনেকের জন্য জটিল ও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে।

বিচারপ্রার্থীদের প্রতিবন্ধকতা বিষয়ে উল্লেখ করে নিবন্ধে বলা হয়, অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের পক্ষে এর ব্যয় বহন করা কঠিন। অনলাইন আবেদন ও হেল্পলাইন চালু থাকলেও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, গ্রামীণ এলাকায় ইন্টারনেটের সীমিত সুযোগ এবং সাধারণ মানুষের সচেতনতার ঘাটতির কারণে ডিজিটাল আইনি সহায়তার ব্যবহার এখনো কম। তাদের ভাষ্য, গ্রামাঞ্চলে সরকারি প্রচার-প্রচারণাও শহরের তুলনায় কম। ফলে বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ, আইনজীবী নিয়োগ, মামলা পরিচালনা ও আদালতভিত্তিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সম্পর্কে অনেক মানুষ জানেন না।

জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার শিকার নারীদের জন্য দেশে ৯৫টি ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) ও সেল রয়েছে। তবে প্রতিটি কেন্দ্রে চিকিৎসা, ফরেনসিক, আইনি সহায়তা, মনোসামাজিক সহায়তা, পুনর্বাসনসহ সমন্বিত সেবা নিশ্চিত করা যায়নি। অনেক কেন্দ্রে ২৪ ঘণ্টা সেবা, নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক ল্যাব ও পৃথক কাউন্সেলিংয়ের স্থানও পর্যাপ্ত নয় বলে জানায় আসক।

সংলাপে অংশ নেয়া অংশীজনরা বলেন, নারী ও শিশু সুরক্ষায় দেশে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সেবা এবং সহায়তা ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সেগুলোর মধ্যে সমন্বয়, সহজে সেবা পাওয়ার সুযোগ ও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনে এখনও বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে, গ্রাম ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ আইনি সহায়তা ও সুরক্ষা সেবা সম্পর্কে কম জানেন। ফলে প্রয়োজনের সময় অনেকেই এসব সেবা নিতে পারছেন না।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়