ছবি: আপন দেশ
গাইবান্ধা থেকে প্রায় এক বছর ধরে একটি ভুয়া সংবাদ নেটওয়ার্ক পরিচালিত হচ্ছে। এ সংবাদ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ব্যাপক হারে বাংলা ভাষায় মিথ্যা সংবাদ তৈরি ও প্রচার চালানো হয়েছে।
মার্কিন এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, তাদের এআই চ্যাটবট ক্লডের ২৯টি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পক্ষে ও দলটির রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে কনটেন্ট তৈরি করা হয়েছে। আর এ কাজটি করেছেন মাত্র একজন ব্যক্তি। বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য প্রিন্টের খবরে বলা হয়েছে, অ্যানথ্রপিকের বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত ‘ডিটেক্টিং অ্যান্ড কাউন্টারিং মিসেইউজ অব এআই: সেপ্টেম্বর ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগের পক্ষে এ অনলাইন ক্যাম্পেইনের তথ্য উঠে এসেছে। এ কার্যক্রমকে অ্যানথ্রপিক শনাক্ত করেছে ‘জিটিজি-৫৪০০৬’ নামে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নেটওয়ার্কটি আওয়ামী লীগের পক্ষে নানা ধরনের কনটেন্ট প্রচারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ দলটির প্রতিদ্বন্দ্বীদের আক্রমণ করেও মিথ্যা খবর তৈরি করত।
নেটওয়ার্কটির তৈরি কিছু কনটেন্ট ‘প্রো-ইন্ডিয়ান ভূরাজনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ’ ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ১৫৪ পৃষ্ঠার পুরো প্রতিবেদনে ভারতের প্রসঙ্গ সরাসরি এসেছে এটিই একমাত্র জায়গায়। অ্যানথ্রপিক স্পষ্ট করে বলেছে, এ কার্যক্রমের পেছনে কোনো রাষ্ট্রের নির্দেশনা বা অর্থায়নের প্রমাণ তারা পায়নি। ভারতীয় কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা প্ল্যাটফর্মকেও প্রতিবেদনে জড়ানো হয়নি।
আরও পড়ুন <<>> ড্রপবক্সে সাইবার হামলার ঝুঁকিতে ৫ হাজার অ্যাকাউন্ট
অ্যানথ্রপিকের তদন্ত অনুযায়ী, গাইবান্ধা জেলার ২৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি প্রায় ১৬ মাস ধরে ২৯টি ক্লড অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে এ কার্যক্রম চালান। প্ল্যাটফর্মের নির্ধারিত ব্যবহারের সীমা এড়িয়ে যাওয়া এবং নিজের কার্যক্রম গোপন রাখার জন্য একাধিক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হয়েছিল।
ওই ব্যক্তি ‘fake_news_3.py’ নামে একটি প্রোগ্রাম ব্যবহার করতেন। প্রতিবার এ প্রোগ্রাম চালানোর মাধ্যমে তৈরি করা হতো ১৫টি শিরোনাম, তিনটি সম্পূর্ণ বানোয়াট সংবাদ এবং ১৫টি ছবির জন্য প্রম্পট।
অ্যানথ্রপিকের হিসাব অনুযায়ী, এ পদ্ধতিতে অন্তত দেড় হাজার শিরোনাম, ৩০০টি ভুয়া সংবাদ এবং দেড় হাজার ইমেজ প্রম্পট তৈরি করা হয়।
ক্লড নিজে ছবি তৈরি করে না। ফলে অ্যানথ্রপিকের ধারণা, তৈরি করা ইমেজ প্রম্পটগুলো অন্য এআই সিস্টেমে পাঠিয়ে ভুয়া সংবাদের সঙ্গে ব্যবহারের জন্য ছবি বানানো হতো।
এরপর এসব কনটেন্ট ফেসবুক লাইভ, ইউটিউব ও টিকটকের ভিডিও স্ট্রিমে ব্যবহার করা হতো। মূল লক্ষ্য ছিল গ্রামাঞ্চলের আওয়ামী লীগ সমর্থক ও তুলনামূলক কম সাক্ষর জনগোষ্ঠী।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































