Apan Desh | আপন দেশ

শেখ হাসিনার কক্ষে ঝুলছে শহীদদের রক্তামাখা জামা

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ১৭:৪৭, ৬ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ১৭:৪৭, ৬ আগস্ট ২০২৬

শেখ হাসিনার কক্ষে ঝুলছে শহীদদের রক্তামাখা জামা

ছবি : আপন দেশ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার ব্যবহৃত কক্ষে ঝুলছে আন্দোলনে শহীদদের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত সামগ্রী।

বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) বেলা ১১টায় ‌‌জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেয়ার পর এমন দৃশ্য চোখে পড়ে।

জাদুঘরের দ্বিতীয় তলায় যে কক্ষে শেখ হাসিনা ঘুমাতেন, সে কক্ষেই এখন প্রদর্শন করা হচ্ছে শহীদদের ব্যবহার্য সামগ্রী। ঘরের চেয়ার, টেবিল, র‌্যাক ও আলমারিতে থরে থরে সাজানো রয়েছে আন্দোলনে নিহতদের ব্যবহৃত রক্তাক্ত জামাকাপড়, ঘড়ি, টাই, কোট এবং জুতা-স্যান্ডেল।

শেখ হাসিনার ঘরের সামনের দক্ষিণ বারান্দায় পরিবারের শিশুদের খেলাধুলার জন্য যে দোলনাটি ছিল, সেটি এখনো আগের মতোই রয়েছে। তবে এখন সে দোলনায় স্থান পেয়েছে জুলাই আন্দোলনে প্রাণ হারানো শিশুদের প্রতিকৃতি, যেন অবিকল দোল খাচ্ছে। 

আরও পড়ুন<<>>নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম, উত্তাল ভারতের ঝাড়খণ্ড

পাশেই রাখা হয়েছে আন্দোলন জুড়ে রিকশায় চড়ে সালাম দিয়ে গণমানুষের আইকন হয়ে ওঠা আলোচিত সে রিকশাটি। এমনকি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ব্যবহৃত বাথটাবে স্থান পেয়েছে শহীদদের ছবি এবং তারা কোথায়, কীভাবে শহীদ হয়েছেন—তার বিস্তারিত বিবরণ।

জাদুঘরটিতে ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের ভয়াবহতা ও চিত্র ফুটে ওঠার পাশাপাশি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে আন্দোলনকারীদের আত্মত্যাগের নানা স্মৃতি।
বিগত সরকারের ওপর সাধারণ মানুষের তীব্র ক্ষোভের স্বাক্ষর বয়ে বেড়াচ্ছে শেখ হাসিনার শোবার ঘরের দেওয়ালগুলো। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের দিন মানুষ যে কতটা ক্ষুব্ধ ছিল, তার প্রমাণ মেলে ঘরের দেওয়ালে লাগানো খোলা ও ভাঙা কাঠের বোর্ডের আঘাতের চিহ্নে।

জাদুঘর দেখতে আসা এক দর্শনার্থী বলেন, শেষের দিকে কথা-বার্তাতেই ফুটে উঠেছিল উনি কতটা একরোখা আর স্বৈরাচার হয়ে উঠেছিলেন। জাদুঘরে শেখ হাসিনার কক্ষে মূলত সেটাই দেখার চেষ্টা করছি।

প্রদর্শনী ঘুরে গভীর আবেগ ও শোক প্রকাশ করেন শরিফুল ইসলাম নামের আরেক দর্শনার্থী। আন্দোলনের নির্মম চিত্র এবং নিহতদের পোশাক-পরিচ্ছদ দেখে স্তম্ভিত এ দর্শনার্থী বলেন, এখানে অনেক ছোট ছোট ছেলে-মেয়ের রক্তমাখা শার্ট, গেঞ্জি ও কাপড়-চোপড় দেখলাম। এগুলো দেখে খুব কষ্ট লাগছে, অত্যন্ত হৃদয়বিদারক দৃশ্য।

ক্ষমতার স্থায়িত্ব ও দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পেশায় ক্যামেরাম্যান মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম আরও বলেন, যিনিই দেশের প্রধানমন্ত্রী হন না কেন, কারও পরিস্থিতি যেন এমন না হয়। ক্ষমতায় কেউ চিরকাল থাকে না, একসময় থাকে, আবার থাকে না। কিন্তু দেশ ছেড়ে যেন কাউকে এভাবে পালাতে না হয়। শাসকদের উচিত দেশের জন্য ও জনগণের জন্য ভালো কাজ করা।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement