ফাইল ছবি, আপন দেশ
বিদেশি ঋণের শর্ত সংসদে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন বিরোধী দলের এমপিরা। এছাড়াও বিদেশি ঋণ গ্রহণে স্বচ্ছতা, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে জবাবদিহি এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার আহবান জানান তারা।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মঞ্জুরি দাবির ওপর ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় এসব বিষয় তুলে ধরেন তারা।
সংসদে ৫৯টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের পক্ষে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা মঞ্জুরি দাবি উত্থাপন করেন। এর মধ্যে অধিকাংশ মঞ্জুরি দাবির বিরুদ্ধে বিরোধী দলের সদস্যরা প্রতীকী ছাঁটাই প্রস্তাব দেন। মোট ৪৩ জন এমপি ১ হাজার ৪৩টি ছাঁটাই প্রস্তাব জমা দিয়েছেন। তবে সবগুলোর ওপর আলোচনা হয়নি। বিরোধী দলের সম্মতি এবং সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু প্রস্তাব আলোচনার বাইরে থাকে। কিছু নোটিশ প্রত্যাহার করা হয়। শেষ পর্যন্ত কোনো ছাঁটাই প্রস্তাবই গৃহীত হয়নি।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মঞ্জুরি দাবির ওপর ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করেন এনসিপির এমপি আখতার হোসেন। তিনি বলেন, বিদেশি ঋণের অর্থ এমন অনেক প্রকল্পে ব্যয় হয়, যেখানে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এসব প্রকল্পে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ কার্যকর তদারকি করতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি দাবি করেন, ভবিষ্যতে বিদেশি ঋণের পরিমাণ, শর্ত এবং কোন দেশ থেকে ঋণ নেয়া হচ্ছে- এসব তথ্য সংসদে উপস্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি যেসব প্রকল্পে বিদেশি ঋণ ব্যবহার হবে, সেগুলোর প্রয়োজনীয়তা, সম্ভাব্য সুফল এবং দুর্নীতি প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিশ্চিত করারও আহবান জানান। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফরে ঋণসংক্রান্ত কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, তাও প্রকাশের দাবি জানান তিনি।
আরও পড়ুন<<>>স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে: মির্জা ফখরুল
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের মঞ্জুরি দাবির আলোচনায় আখতার হোসেন বলেন, অতীতের বিভিন্ন আর্থিক কেলেঙ্কারিতে এ বিভাগের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছে। হল-মার্ক, জনতা ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এসব ঘটনায় বিভাগীয় কোনো কর্মকর্তা জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া উচিত। ঋণ পুনঃতফসিল এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে এ বিভাগের দায়িত্বের সমন্বয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
পরিকল্পনা বিভাগের মঞ্জুরি দাবির আলোচনায় খুলনা-২ আসনের এমপি শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন বলেন, অনেক উন্নয়ন প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। জনগণের অর্থের অপচয় হচ্ছে। তিনি পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দক্ষতা বাড়ানোর আহবান জানান।
কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি মো. আমীর হামজা প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ও ব্যয় বৃদ্ধি বন্ধের পাশাপাশি রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রকল্প গ্রহণ না করার দাবি জানান।
বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের মঞ্জুরি দাবির আলোচনায় রাজশাহী-৪ আসনের এমপি আবদুল বারী সরদার বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণ চিহ্নিত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে বারবার প্রকল্প সংশোধন এবং ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দেন তিনি।
অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের মঞ্জুরি দাবির আলোচনায় পিরোজপুর-১ আসনের এমপি মাসুদ সাঈদী অভিযোগ করেন, করের আওতা বাড়ানোর নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সৎ করদাতারাও অডিটের নামে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































