Apan Desh | আপন দেশ

সুদসহ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৬:৫৩, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১৬:৫৫, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সুদসহ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত

ছবি: আপন দেশ

১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, কৃষি, মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ১০ হাজার টাকা ঋণ নিলে তার যে সুদ তাসহ মওকুফ হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, ১৩তম সংসদের প্রথম মন্ত্রিসভার সভা আজ অনুষ্ঠিত হয়। আজকে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে তা যুগান্তকারী।
সরকার তার নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশু পালন খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো দরিদ্র কৃষকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষি খাতের মেরুদণ্ডকে শক্তিশালী করা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, সরকারি, বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংক এবং বেসরকারি ব্যাংকসমূহে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সুদসহ কৃষকদের কাছে পাওনা রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা, যা এ ঋণ মওকুফের আওতাভুক্ত হবে। 

আরও পড়ুন<<>>‘ইন্টারনেট আসক্তি ছেড়ে তরুণদের বইয়ে পাতায় ফেরাতে হবে’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এ ঋণ মওকুফ করা হলে দরিদ্র কৃষকরা নানাভাবে উপকৃত হবেন। এতে ১২ লাখ কৃষক উপকৃত হবেন। এর ফলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা ঋণের দায় হতে মুক্ত হতে পারবেন। যা তাদের কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি করবে এবং দেশের কৃষিখাতে উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। ঋণের কিস্তি বাবদ যে অর্থ কৃষকের ব্যয় হতো, সে অর্থ তারা উন্নত মানের বীজ বা আধুনিক সেচ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে পারবেন। মাথার ওপর ঋণের বোঝা না থাকায় কৃষক পরবর্তী মৌসুমে নতুন উদ্যমে চাষাবাদ শুরু করতে সক্ষম হবেন। মওকুফ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কৃষকদের ক্রেডিট রেকর্ড বা ঋণমান ভালো হবে।

ফলে তারা ব্যাংক থেকে পুনরায় স্বল্প সুদে কৃষি ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন, যা তাদের স্থানীয় মহাজনী ঋণের উচ্চ সুদের হাত থেকে রক্ষা করবে। ঋণের বোঝা কমে যাওয়ায় কৃষকরা শস্য, মৎস্য ও পশুপালন খাতে আরও উৎসাহিত হবেন। এতে করে জাতীয় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে। ঋণ মওকুফের প্রায় তাৎক্ষণিক প্রভাব হিসেবে গ্রাম হতে নগরমুখী অভিবাসন কমবে এবং গ্রামীণ মূল্যস্ফীতি হ্রাস পাবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সরকারের ১৯৯১-১৯৯৬ সময়ে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণের সুদ-আসল মওকুফ করা হয়েছিল। যা কৃষকদের কষ্ট লাঘব করে কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছিল।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়