Apan Desh | আপন দেশ

‘ইন্টারনেট আসক্তি ছেড়ে তরুণদের বইয়ে পাতায় ফেরাতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৫:৩৭, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১৫:৫৬, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

‘ইন্টারনেট আসক্তি ছেড়ে তরুণদের বইয়ে পাতায় ফেরাতে হবে’

তারেক রহমান।

ইন্টারনেট আসক্তি বইয়ের প্রতি তরুণ প্রজন্মের অনীহা তৈরি করেছে। তাই ইন্টারনেটে নেতিবাচক দিকটি সম্পর্কে তরুণদের সচেতন থাকতে হবে। বইয়ের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হবে তরুণদের। এ মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বাংলা অ্যাকাডেমি প্রাঙ্গণে বইমেলার উদ্বোধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অমর একুশে বইমেলা এখন আমাদের জাতির মেধা ও মননের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। ১৯৭৮ সাল থেকে এ মেলা আমাদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে এবার মেলা শুরু হতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে এর গুরুত্ব কমেনি।

তিনি বলেন, বই পড়ার গুরুত্ব সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছু নেই। জার্মান দার্শনিক ‘মারকুইস সিসেরো’র একটি উক্তি এখানে আমি খুবই প্রাসঙ্গিক মনে করছি। তিনি বলছিলেন, এ ছাড়া ঘর আত্মা ছাড়া দেহের মতো।  বিজ্ঞানী ও গবেষকরা বলছেন, বই শুধুমাত্র বিদ্যা শিক্ষা কিংবা অবসরের সঙ্গীয় নয় বরং বই পড়া মস্তিষ্কের জন্য এক ধরনের ব্যায়াম। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস মস্তিষ্কের কোষগুলোর মধ্যে নতুন সংযোগ তৈরি করে যেটি মানুষের স্মৃতিশক্তি ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা বাড়ায়। এমনকি আলঝেইমার ও ডিমেনশিয়ার মতো রোগেরও ঝুঁকি কমায়।

প্রধানমন্ত্রী আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সময়ে তথ্য প্রযুক্তি মানুষের বই পড়ার অভ্যাসে প্রধান বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ইন্টারনেট আসক্তি তরুণ প্রজন্মকে বই বিমুখ করে তুলছে। ইন্টারনেটেও অবশ্যই বই পড়া যায়…তবে গবেষকরা বলছেন, বইয়ের পাতায় কালো অক্ষরে লেখা বই পড়ার মধ্যে যেভাবে জ্ঞানের গভীরতা উপভোগ করা যায়, একইভাবে দিনের পর দিন কম্পিউটারের মনিটরে ডুবে থেকে জ্ঞানার্জন সম্ভব হলেও শরীর ও মনোজগতে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার প্রভাবও কম নয়।  

তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য কিংবা কানাডার মতো অনেক উন্নত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরায় বলছেন, ইন্টারনেট ব্যবহারের আসক্তি পড়াশোনার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ হারিয়ে ফেলার তীব্র ঝুঁকি রয়েছে। সময়ের প্রেক্ষিতে জন জীবনে ইন্টারনেট অনিবার্য অনুষঙ্গ হয়ে উঠলেও এর নেতিবাচক দিকগুলো সম্পর্কেও আমাদেরকে সচেতন থাকতে হবে। বিশেষ করে বইয়ের প্রতি তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ বাড়াতে হবে। বিশ্বের ১০২টি দেশের নাগরিকদের পাঠাভ্যাস নিয়ে গত একটি জরিপ প্রকাশিত হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক সিইও ওয়ার্ল্ড ম্যাগাজিন জরিপের ফলাফল বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা বই পড়ার শীর্ষে রয়েছেন। তালিকার সর্বনিম্নে রয়েছে আফগানিস্তান। বইপ্রেমীদের এ তালিকায় ১০২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭তম। বাংলাদেশের একজন মানুষ গড়ে বছরে তিনটির মতো বই পড়েন। আর বই পড়ার পেছনে বছরে ব্যয় করেন মাত্র ৬২ ঘণ্টা সময়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, অমর একুশে বইমেলা শুধুমাত্র নিছক একটি উৎসবই হবে না। বরং এ মেলা আমাদেরকে আরো বইপ্রেমী করে তুলবে। নিয়মিত বই পড়ায় আগ্রহী করে তুলবে, আজকের এ বই মেলায় দাঁড়িয়ে এটিই আমার প্রত্যাশা। মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ৫২ র ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে আমরা সগৌরবে প্রতি বছর অমর একুশে পালন করি। দিবসটি এখন আর শুধু বাংলাদেশের নয়। অমর একুশে এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে। ৫২ সালের ভাষা শহীদদের আকাঙ্খাকে ধারণ করে আজকের এ বাংলা অ্যাকাডেমি। বাংলা অ্যাকাডেমির সৃজনশীল কার্যক্রমের অন্যতম একটি গুরুত্ত্বপূর্ণ কাজ ‘অমর একুশে বইমেলা’। তবে সময়ের প্রেক্ষিতে আগামী বছরগুলোতে ‘অমর একুশে বইমেলা’ অমর একুশে আন্তর্জাতিক বইমেলা’য় হিসেবে আয়োজন করার সুযোগ রয়েছে কিনা, সেটি আপনারা বিবেচনা করতে পারেন।  

তিনি বলেন, অমর একুশে আন্তর্জাতিক বইমেলা অনুষ্ঠিত হলে বিশ্ব সাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি বহু ভাষা, সংস্কৃতি শেখা-জানা ও বোঝার দিকে আমাদের নাগরিকদের আগ্রহী করে তুলতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আমার বিশ্বাস। আমি মনে করি, বর্তমান গ্লোবাল ভিলেজের এ সময়ে মাতৃভাষা ছাড়াও আরো একাধিক ভাষার সঙ্গে পরিচিত হওয়া জরুরি। বর্তমানের প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সমৃদ্ধি ও সম্মানের সঙ্গেটিকে থাকতে হলে জ্ঞান, মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র, সমাজ প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। এ জন্য আমাদেরকে জ্ঞানে-বিজ্ঞানে-প্রযুক্তিতে মেধায় নিজেদেরকে সমৃদ্ধ হতে হবে। একইসঙ্গে বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের অফিসিয়াল ভাষা হেসে স্বীকৃতি আদায়ের জন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

তারেক রহমান আরও বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে। জনগণের প্রতি জবাবদিহিমূলক এ সরকার দেশটাকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে চায়। অমর একুশে বইমেলা কেবল বই বেচাকেনার মেলা নয় বরং মেলা হয়ে উঠুক শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিকাশের সূতিকাগার। অমর একুশে বইমেলা কেন্দ্র করে বাংলা অ্যাকাডেমি মাসব্যাপী আলোচনা অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন, সংগীত ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতার যে আয়োজন করে...এসব উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের সামনে তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করে দেয়। এভাবেই বইমেলা হয়ে উঠুক আমাদের সকলের মিলনমেলা, প্রাণের মেলা।

বইমেলা শুধু একটি নির্দিষ্ট মাসে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সীমাবদ্ধ না রেখে সারাবছর দেশের সব বিভাগ, জেলা, উপজেলায়ও আয়োজিত হতে পারে।   এ ব্যাপারে বই প্রকাশকগণও উদ্যোগী ভূমিকা রাখতে পারেন বলে আমি মনে করি। এ ব্যাপারে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় আপনাদেরকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

জাতির মননের প্রতিক বাংলা অ্যাকাডেমি আমাদের তরুণ-তরুণীদের মেধা ও মনন বিকাশের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। এরমধ্যে বিভিন্ন মেয়াদি গবেষণাবৃত্তি, তরুণ লেখক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও আন্তর্জাতিক সেমিনার আয়োজন। এ ধরণের উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে উত্তরপ্রজন্মকে বাংলা ভাষা ও দেশজ সংস্কৃতির মূলধারার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা ভবিষ্যতে আরো সম্প্রসারিত হবে, ইনশাআল্লাহ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাহিত্য ইংরেজিসহ নানা বিদেশি ভাষায় অনুবাদের কার্যক্রমও বাংলা অ্যাকাডেমি পরিচালনা করছে। আমি আশা করি, এ কার্যক্রমও আরও বেগবান হবে। আমাদের সমৃদ্ধ সাহিত্যের সঙ্গে বিশ্ব সাহিত্যের পরিচয় আরো সুদৃঢ় করবে। এ জনই আমরা বলি- সবার আগে বাংলাদেশ। এ দেশকে সকল প্রকার অন্ধকার ও পশ্চাৎপদতা থেকে মুক্ত করে দল মত ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের জন্য একটি নিরাপদ মানবিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমি আপনাদের সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।

আপন দেশ/এমবি

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়