Apan Desh | আপন দেশ

গাবতলী-ডেমরা মেট্রোরেল: ঢাকায় আসছে বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ১৪:৩২, ৯ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১৪:৪৮, ৯ জানুয়ারি ২০২৬

গাবতলী-ডেমরা মেট্রোরেল: ঢাকায় আসছে বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধি

ছবি : আপন দেশ

রাজধানী ঢাকায় মতিঝিল-উত্তরা রুটে মেট্রোরেল লাইন চালু রয়েছে। এ রুটে অল্প সময়ে যাতায়াতে সুবিধা ভোগ করছেন নগরবাসী। ফলে মেট্রোরেল রুট সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে দ্বিতীয় মেট্রোরেল প্রকল্পে অর্থায়নে আগ্রহ দেখিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি গাবতলী থেকে ডেমরা পর্যন্ত নির্মিতব্য এমআরটি লাইন–২–এ ঋণ দেয়ার কথা জানিয়েছে।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, বিস্তারিত নকশা, অর্থায়ন কাঠামো ও দরপত্র প্রণয়ন সংক্রান্ত কাজ শুরু করতে ঢাকায় আসছে বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিনিধি দল। তারা ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত ঢাকায় অবস্থান করবে। এ সময় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে বৈঠক ও আলোচনা হবে।

ঢাকায় মেট্রোরেল পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। সংস্থাটির সূত্র জানায়, এমআরটি লাইন–২–এর জন্য একটি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক ২৫ লাখ ডলার অনুদান দেবে। সমীক্ষা ও নকশা প্রণয়নের পর প্রকল্পের মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হবে।

শুরুর দিকে এমআরটি লাইন–২ গাবতলী থেকে নারায়ণগঞ্জ সদর পর্যন্ত নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। তখন রুটের দৈর্ঘ্য ধরা হয়েছিল ৩৫ কিলোমিটার। সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল প্রায় ৬১ হাজার কোটি টাকা। পরে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) হালনাগাদকৃত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় রুট পরিবর্তন করা হয়।

চূড়ান্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী, এমআরটি লাইন–২ গাবতলী থেকে ডেমরা পর্যন্ত নির্মিত হবে। এর দৈর্ঘ্য ২৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার। গাবতলী থেকে শুরু হয়ে ঢাকা উদ্যান, বসিলা মোড়, মোহাম্মদপুর বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ড, জিগাতলা, সায়েন্স ল্যাব, নিউমার্কেট, আজিমপুর, লালবাগ, চকবাজার, মিটফোর্ড, নয়াবাজার, ধোলাইখাল, দয়াগঞ্জ, কাজলা, ডেমরা হয়ে তাড়াবো বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত যাবে এ মেট্রোলাইন।

প্রকল্পটির জন্য বিশ্বব্যাংকের অনুদানে একটি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প তৈরি করেছে ডিএমটিসিএল। প্রকল্পটির নাম—প্রিপারেটরি প্রজেক্ট অব দ্য প্রপোজড ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন–২) অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনাল স্ট্রেনদেনিং অব ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড আন্ডার গ্র্যান্ট ফাইন্যান্সিং। এটি বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

আরও পড়ুন<<>>রেলে বিনা টিকিটে ভ্রমণ, ২ হাজার যাত্রী থেকে ৪ লাখ টাকা আদায়

ডিএমটিসিএলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, উড়াল ও পাতাল—এ দুই ধরনের অবকাঠামোর সমন্বয়ে এমআরটি লাইন–২ নির্মিত হবে। লাইনটির ডিপো, ডিপো অ্যাকসেস করিডোর ও কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের জন্য ডেমরার মাতুয়াইল ও দামড়িপাড়া মৌজায় ১৬৩ দশমিক ৮৬৬ একর জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। গ্রিন মডেল টাউন ও আমুলিয়া মডেল টাউনের মধ্যবর্তী এ জমি রাজউকের ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যানের (ড্যাপ) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো মেট্রোরেলে অর্থায়নের পথে হাঁটছে বিশ্বব্যাংক। প্রতিনিধি দলটি সফরকালে ডিএমটিসিএল, ডিটিসিএ, রাজউক, পরিকল্পনা কমিশন এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)–এর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে।

ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ বলেন, এমআরটি লাইন–২ এ অর্থায়নে বিশ্বব্যাংক আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে এখনো অর্থায়ন নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। কারিগরি সহায়তা প্রকল্প শেষ হলে অর্থায়নসহ অন্যান্য বিষয় এগিয়ে নেয়া হবে।

এদিকে ঢাকার প্রথম মেট্রোরেল এমআরটি লাইন–৬ নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৩৩ হাজার ৪৭১ কোটি টাকা। বর্তমানে এটি মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণের কাজ চলছে। এর বাইরে আরও দুটি মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। এসব প্রকল্পের ডিপো এলাকার ভূমি উন্নয়নের কাজও শুরু হয়েছে।

এর মধ্যে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত এমআরটি লাইন–১ এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৫২ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা। আর হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত এমআরটি লাইন–৫ (নর্দান রুট) নির্মাণে প্রাক্কলিত ব্যয় ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়