Apan Desh | আপন দেশ

তেজগাঁওয়ে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসে আগুন, মা–শিশুসহ নিহত ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯:৪৩, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৩

আপডেট: ০৯:৫০, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৩

তেজগাঁওয়ে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসে আগুন, মা–শিশুসহ নিহত ৪

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের তিনটি বগিতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। একটি বগি থেকে মা, শিশুসন্তানসহ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) ভোর পাঁচটার পর এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।  

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন, নাদিরা আক্তার পপি (৩২) ও তার তিন বছরের ছেলে ইয়াছিন। বাকি দুজন পুরুষ। তাদের পরিচয় জানা যায়নি।  

তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহসীন যাত্রীদের বরাত দিয়ে জানান, ট্রেনটি নেত্রকোনা থেকে ঢাকায় আসছিল। বিমানবন্দর স্টেশন পার হয়ে ট্রেনটি খিলক্ষেতে এলে যাত্রীরা বগিগুলোয় আগুন দেখতে পান। তারা চিৎকার করতে শুরু করেন। এরপর চালক ট্রেনটি তেজগাঁও স্টেশনে থামান। 

পুলিশ বলেছে, আগুন নেভানো ও মরদেহগুলো উদ্ধারের পর ট্রেনটি কমলাপুর রেলস্টেশনে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (মিডিয়া সেল) মো. শাহজাহান শিকদার বলেন, খবর পেয়ে আমাদের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর সকাল পৌনে ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ সময় একটি বগি থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

কমলাপুর রেলওয়ে থানার পরিদর্শক মো. ফেরদৌস বলেন, নিহতদের মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নিহতদের মধ্যে নাদিয়া ও তার শিশুসন্তান ছাড়া অন্য দুজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। নাদিয়ার গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনায়। তার বাবার নাম ফজলুল রহমান। তেজগাঁও তেজকুনিপাড়ায় স্বামী মিজানুর রহমানের সঙ্গে থাকতেন তিনি।

আরও পড়ুন <> সোনার দাম আরেক দফা বাড়লো

এদিকে পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানিয়েছে, গত ৩১ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত রেলওয়েতে অন্তত ২৮টি নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রয়েছে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনও।

টাঙ্গাইল ও জামালপুরে তিনটি ট্রেনে আগুন দেয়া হয়। ঢাকা মহানগরে একটি, ময়মনসিংহে দুটি, গাজীপুর, নেত্রকোনা ও নওগাঁয় একটি করে ট্রেনে ছয়টি নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। 

এ ছাড়া কিশোরগঞ্জ, সিলেট, পাবনা ও দিনাজপুরে একটি করে চারটি এবং নোয়াখালীতে দুটি, গাজীপুরে তিনটিসহ রেললাইনে নয়টি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সিলেট, ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জে রেললাইন কেটে ফেলার চেষ্টার তিনটি এবং গাইবান্ধায় রেললাইনের ফিশপ্লেট খোলার চেষ্টার ঘটনা ঘটে।

পাবনায় ট্রেনে পেট্রল ও ডিজেল ভর্তি বোতল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। নারায়ণগঞ্জে রেললাইনের উপর ইস্পাত ফেলে নাশকতার চেষ্টা করা হয়। চট্টগ্রামেও ট্রেনে নাশকতার ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া নীলফামারীর ডোমার ও গাজীপুরের শ্রীপুরে নাশকতার ঘটনা ঘটে।

আপন দেশ/এমআর

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়