Apan Desh | আপন দেশ

বিএনপি-জামায়াতের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ চলছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯:৫২, ৫ নভেম্বর ২০২৩

আপডেট: ১১:৩১, ৫ নভেম্বর ২০২৩

বিএনপি-জামায়াতের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ চলছে

সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি আদায়ে বিএনপির ডাকা ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। রোববার (৫ নভেম্বর) ভোর ৬টা থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়। দলটির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা অন্য দলগুলোও এ কর্মসূচি পালন করবে। জামায়াতে ইসলামীও একই সময়ে অবরোধের ডাক দিয়েছে। 

এদিকে আজ সকালে রাজধানীর মগবাজার, মৌচাক, পল্টন, মিরপুর, ফার্মগেট, রামপুরা, শাহবাগ, গুশিস্তান, উত্তরা, সাইনবোর্ড, রায়েরবাগ, শনির আখড়া, কাজলাসহ আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা গেছে সড়কে যান চলাচল কম। তবে জীবিকার প্রয়োজনে ঘর হতে বের হয়েছেন মানুষ। 

সরকারি ছুটি শুক্র ও শনিবারের পর আজ সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস। অন্যান্য সময় এই দিনে সকাল থেকেই গাড়ির বাড়তি চাপ থাকে। আর গণপরিবহনগুলো অনেকটাই যাত্রীবোঝাই করেই চলাচল করে। তবে আজ কিছুটা কম হলেও গত সপ্তাহের অবরোধের তুলনায় যানবাহন ও যাত্রী বেশি। অবশ্য সবার মাঝেই চাপা আতঙ্ক লক্ষ করা যায়। এ জন্য ছিল বাড়তি সতর্কতাও। 

অবরোধের মাঝে মেরাদীয়ায় অছিম পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে দগ্ধ হয়েছেন সবুজ মিয়া (৩০) নামে এক পরিবহন শ্রমিক। তাকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মেরাদীয়া বাঁশপট্টি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। অগ্নিসংযোগ করা হলে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। 

সাভার থেকে ছেড়ে আসা মৌমিতা পরিবহনের একটি বাস শেরেবাংলা নগরের জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সামনে যাত্রী ওঠানোর জন্য থামানোর পর গাড়ির জানালা লাগিয়ে দিতে দেখা যায় চালকের সহকারী সিরাজুল ইসলামকে। তিনি বললেন, শনিবার রাতে বেশ কয়েক জায়গায় আগুনের ঘটনা ঘটেছে। সেজন্য আমরা বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছি। যাত্রী ওঠানোর সময়ও খেয়াল করছি। কেউ যেন জানালা দিয়ে আগুন দিতে না পারে, সেজন্য যাত্রীদের বারবার জানালা বন্ধ রাখতে বলা হচ্ছে। সাভার থেকে খুব দ্রুতই টেনে এসেছি। স্ট্যান্ডে পৌঁছাতে পারলেই নিশ্চিন্ত।

প্রজাপতি পরিবহনের বাসচালক জয়ন্ত বলেন, খুব সকাল হলেও আজ থেকে অফিস-আদালত খোলা, সেজন্য যাত্রীর সংখ্যা বেশ ভালোই। কোনো জায়গায় বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে না থেকে তাড়াতাড়ি গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি।

এ ছাড়া যাত্রীরাও বলছেন, অবরোধ, হরতাল যাই হোক জীবন-জীবিকার তাগিদে বাইরে বের হতেই হবে। তাই ঝামেলা এড়াতে সকালেই কর্মক্ষেত্রের দিকে যাচ্ছেন বলে জানান অনেকে।

শিশুমেলা বাসস্ট্যান্ডে বাসের জন্য অপেক্ষমাণ মরিয়ম আক্তার নামের এক গার্মেন্টস কর্মী বলেন, গত কয়েকদিন ধরে গার্মেন্টসে আন্দোলনসহ অন্য সমস্যার কারণে অফিসে ঠিকমতো যাওয়া হয়নি। তবে শনিবার থেকে আবার কাজ শুরু হয়েছে। সকাল সকাল কাজে চলে যাচ্ছি। অবরোধ-হরতাল হলেও তো আর বসে থাকার সুযোগ নেই।

গত ২ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) বিকালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, রোববার ভোর ৬টা থেকে মঙ্গলবার ভোর ৬টা পর্যন্ত সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে।

আরও পড়ুন <> দুই সংসদীয় আসনে উপনির্বাচনের ভোট শুরু

এদিকে, অবরোধের আগের দিন শনিবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে আটটার মধ্যে রাজধানীর নিউ মার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড ও সায়েদাবাদে তিনটি বাসে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। তবে, এসব আগুনে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, বিএনপি ও জামায়াতের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার অবরোধেও দেশে সব ধরনের পরিবহন চালানোর ঘোষণা দিয়েছে পরিবহন মালিক সমিতি।

এ ছাড়া, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে গ্রেফতার ও রিমান্ডে নেয়ার প্রতিবাদে রোববার চট্টগ্রামে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচি পালন করছে মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি।

গত ২৮ অক্টোবর রাজধানীতে বড় ধরনের সমাবেশ করে বিএনপি, জামায়াত ও আওয়ামী লীগ। সেদিন দুপুরের দিকে বিএনপির সমাবেশে আসা লোকজনের সঙ্গে কাকরাইল মোড়ের কাছে আওয়ামী লীগের সমাবেশগামী লোকজনের সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ সেখানে হস্তক্ষেপ করার পর একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা হয় এবং বেশকিছু গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। উপস্থিত সাংবাদিকদেরও ব্যাপক মারধর করা হয়। এরপর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও উপর্যুপরি টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে বিএনপির সমাবেশ ভন্ডুল করে দেয়। ফলে সংঘর্ষ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে এক পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় এবং পুলিশ হাসপাতালে হামলা চালানো হয়।

সমাবেশ বানচালের প্রতিবাদে পরের দিন (২৯ অক্টোবর) বিএনপি হরতাল পালন করে। এক দিন বিরতি দিয়ে ৩১ অক্টোবর থেকে টানা তিন দিনের অবরোধ কর্মসূচি দেয়া হয়। 

এদিকে, হরতালের দিন এবং পরবর্তী কয়েক দিনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ বিএনপির শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

আপন দেশ/আরএ

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়