ফাইল ছবি
আজ ৩১ অক্টোবর (শনিবার), বিশ্ব মিতব্যয়িতা দিবস, যা ‘বিশ্ব সঞ্চয় দিবস’নামেও পরিচিত। মূলত মিতব্যয়ী হওয়ার আহবান জানানোর মধ্য দিয়ে প্রতি বছর এ দিন দিবসটি পালিত হয়। এ দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—অপ্রত্যাশিত সময়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে সঞ্চয়ের বিকল্প নেই।
এ দিবসটি পালনের জন্য রীতি চালু হয় ১৯২৪ সাল থেকে, যা প্রথম আন্তর্জাতিক সঞ্চয়ী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শুরু হয়। ইতালির মেলানো শহরে অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের শেষ দিনে ইতালীয় প্রফেসর ফিলিপ্প রাভিজ্জা এ দিনটিকে বিশ্ব সঞ্চয় দিবস হিসেবে পালনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার আগে অবশ্য এমন একটি দিবস ১৯২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ও ১৯২৩ সালে জার্মানিতে পালিত হয়ে আসছিল। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালন করা হয়।
মানবজীবনে মিতব্যয়িতা একটি অতি অপরিহার্য বিষয়। মিতব্যয় প্রতিটি মানুষের জীবনে সমৃদ্ধি ডেকে আনে। ব্যক্তিজীবনে যত বেশি সঞ্চয় হবে, ততই বাড়বে ব্যক্তি, পারিবারিক ও সামাজিক নিরাপত্তা। মিতব্যয় মানুষের সম্পদকে বৃদ্ধি করে এবং অন্যকে সাহায্য করার পথ উন্মুক্ত করে।
আমাদের জাতীয় উন্নয়নের জন্য অভ্যন্তরীণ সম্পদ বৃদ্ধি অতি গুরুত্বপূর্ণ। আর এ সম্পদ সংগ্রহের পন্থা হচ্ছে স্বেচ্ছায় সঞ্চয় এবং কর সংগ্রহের মাধ্যমে বাধ্যতামূলক সঞ্চয়। স্বেচ্ছায় সঞ্চয় যত বৃদ্ধি পাবে কর বা রাজস্ব আদায়ের ওপর নির্ভরশীলতা তত হ্রাস পাবে। এ নীতির ওপর ভিত্তি করেই উন্নত দেশ এগিয়ে যাচ্ছে সমানে।
আয় করা যত কঠিন, ব্যয় করা ততই সহজ। মানুষ আয়েশি জীবনযাপনের জন্য কিছু অপ্রয়োজনীয় ব্যয় করে, যা ভবিষ্যতের জন্য মঙ্গলকর নয়। আমরা আমাদের চারপাশে তাকালে দেখতে পাই কেউ জীবন দিয়ে পরিশ্রম করেও দুবেলা দুমুঠো ভাত খেতে পায় না। তাই বাংলাদেশের মতো একটি দেশের নাগরিকদের জন্য মিতব্যয়িতা অত্যাবশ্যক। অপচয়কারীরা নিজের জন্য তো নয়ই বরং সমাজ, পরিবার ও জাতির জন্যও কিছু করতে পারে না। বিজ্ঞানী ফ্রাকলিন বলেছেন, ছোট ছোট ব্যয় সম্পর্কে সচেতন হও। একটি ছোট ছিদ্র মস্ত বড় জাহাজকে ডুবিয়ে দিতে পারে।
সঞ্চয়ের জন্য ধনী হওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রত্যেক মানুষের একটি সুন্দর জীবনের স্বপ্ন থাকে। এ স্বপ্ন থেকেই জন্ম নেয় প্রত্যয়। দৃঢ় প্রত্যয় থেকেই গড়ে ওঠে সঞ্চয়ের প্রবণতা।
বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ, মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা ক্রমেই বাড়ছে। এমন সময়ে সঞ্চয়ের সংস্কৃতি গড়ে তোলা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঞ্চয়ের অভ্যাস শুধু ব্যক্তিগত জীবনের উন্নতি আনে না, বরং একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করে।
এ কারণেই উন্নয়নশীল দেশগুলো, বিশেষ করে বাংলাদেশেও, দিনটিকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা হয়। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এ উপলক্ষে নানা উদ্যোগ নেয়—মানুষকে সঞ্চয়ে উৎসাহিত করতে আয়োজন করে সচেতনতামূলক প্রচারণা ও কর্মসূচি।
আরও পড়ুন<<>>বিশ্ব স্ট্রোক দিবস আজ
কারণ, জীবনের অনিশ্চিত মুহূর্তে ছোট্ট একটি সঞ্চয়ই হতে পারে সবচেয়ে বড় আশ্রয়।
মিতব্যয়ী হোন
আয় যতই হোক, খরচ যেন সবসময় নিয়ন্ত্রণে থাকে। আয়ের তুলনায় ব্যয় বাড়লে সঞ্চয় অসম্ভব। জীবনযাত্রায় মিতব্যয়িতা আর্থিক স্থিতিশীলতার প্রথম ধাপ।
সঞ্চয়কে অগ্রাধিকার দিন
বেতন হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ আলাদা করে রাখুন—তা জরুরি তহবিল হোক বা ভবিষ্যতের বিনিয়োগ। অনলাইন ব্যাংকিংয়ের যুগে এটি এখন সহজ ও বাস্তবসম্মত।
অবিচল থাকুন
সঞ্চয় ও বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। মাঝপথে থেমে গেলে পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে পারে। মনে রাখুন, আজকের প্রতিটি সঞ্চিত টাকাই আগামী দিনের সুরক্ষা।
বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বিনিয়োগ করুন
শেয়ারবাজার, মিউচ্যুয়াল ফান্ড বা অন্যান্য বিনিয়োগ ক্ষেত্র—সবই লাভজনক হতে পারে, যদি সঠিক তথ্য ও পরামর্শের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়া যায়। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সাধারণত স্থিতিশীল ফল দেয়।
বিশ্ব সঞ্চয় দিবস কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়—এটি আত্মসমালোচনার সময়ও। আপনি কি নিজের ভবিষ্যতের জন্য যথেষ্ট প্রস্তুত? প্রতিদিনের খরচের ভেতর থেকেও কি কিছুটা সঞ্চয় করতে পারছেন?
অর্থনৈতিক বাস্তবতা যত কঠিনই হোক, সঠিক পরিকল্পনা, শৃঙ্খলা ও সচেতনতার মাধ্যমে টাকাকে নিজের জন্য কাজ করানো সম্ভব। কারণ আর্থিক স্বাধীনতা কোনো বিলাসিতা নয়—এটি প্রতিটি সচেতন মানুষের মৌলিক অধিকার।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































