Apan Desh | আপন দেশ

‘সাংবাদিকতায় তরুণদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ’

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ২১:০৮, ২ আগস্ট ২০২৬

‘সাংবাদিকতায় তরুণদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ’

ছবি: আপন দেশ

সুস্থ সংস্কৃতি ও বিনোদন চর্চার পরিবেশ গড়ে তুলতে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রোববার (০২ আগস্ট) বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টিবোর্ডে এক সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন। তরুণ সাংবাদিকদের নিয়মিত সুস্থ সংস্কৃতি ও বিনোদন চর্চার পরিবেশ গঠন শীর্ষক এক সেমিনার হয়।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, ডিজিটাল যুগে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। অপসংস্কৃতি, ভুয়া খবর ও ডিজিটাল প্রযুক্তিভিত্তিক বিশৃঙ্খলা রোধে ফ্যাক্ট-চেকিং এবং দেশীয় ঐতিহ্যমুখী সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ এখন সময়ের দাবি।

সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব-জাহিদুল ইসলাম রনি, বগুড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কালাম আজাদ, (কালাম আজাদ)।

এছাড়াও সম্মেলনে অংশ নেন দৈনিক সমকালের সিনিয়র রিপোর্টার কামরুল হাসান, ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটের কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক রফিক মৃধা, ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটের কার্যনির্বাহী সদস্য সুমন চৌধুরী, দৈনিক প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার নোমান ছিদ্দিক।

সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের উপ প্রেস সচিব বলেন, তরুণ ও শিশুদের শারীরিক-মানসিক বিকাশে সুস্থ বিনোদনের বিকল্প নেই। বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনামলে ‘নতুন কুঁড়ি’-র মতো দেশজোড়া সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ায় শিশু-কিশোরদের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হয়েছে।

তিনি ২০২৪-এর ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের সত্য ও ত্যাগকে নাটক-চলচ্চিত্রে তুলে ধরা এবং লোকজ ঐতিহ্য (যেমন- পালকি, বায়োস্কোপ) সংরক্ষণে তরুণ সাংবাদিকদের ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে কাজ করার আহবান জানান।

এছাড়া সরকার তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের প্রসারে উৎসে কর কর্তন না করার বিষয়ে যে নির্দেশনা দিয়েছেন। তা সমাজ সংস্কারে বড় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অন্য সম্মানিত আলোচক বগুড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, একটি জাতির আত্মা প্রতিফলিত হয় তার সংস্কৃতি ও ইতিহাসে। ইউনেস্কো কর্তৃক বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি আমাদের গর্বের বিষয়।

আরও পড়ুন<<>> ওস্তাদ আজিজুল ইসলামের বংশী বাদনে মুগ্ধ শ্রোতারা

তিনি সম্প্রতি বগুড়ার সাতমাথায় আহত প্রাণীর জীবনরক্ষার উদাহরণের কথা টেনে বলেন, প্রাণিজগতের প্রতি সহনশীলতা ও দয়াবান হওয়াও সুস্থ সংস্কৃতির অংশ। বগুড়া অঞ্চলে ৭৯টি সংস্কৃতিমনা সংগঠনকে সাথে নিয়ে সুস্থ বিনোদন চর্চায় সাংবাদিকদের ইতিবাচক ভূমিকা পালনের তাগিদ দেন তিনি।

সেমিনারে অন্য বক্তাদের মধ্যে কামরুল হাসান, রফিক মৃধা ও নোমান ছিদ্দিকী বক্তব্য রাখেন।

তারা শিক্ষা ও লোকজ সংস্কৃতি (ভাওয়াইয়া, উচ্চাঙ্গসংগীত) রক্ষার পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইন গেমসের আসক্তি থেকে নতুন প্রজন্মকে ফেরাতে গবেষণাভিত্তিক সাংবাদিকতার ওপর জোর দেন।

দৈনিক সমকালের সিনিয়র রিপোর্টার কামরুল হাসান বলেন, কোন রাষ্ট্র ধ্বংস করতে চাইলে তার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে হবে যা ছিল পূর্ববর্তী ফ্যাসিস্ট সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ ছিল। বর্তমানে সাংস্কৃতিক চর্চা না থাকলে দেশের সুস্থ সংস্কৃতি রক্ষা করা সম্ভব নয় পাশাপাশি দেশের ঐতিহ্য রক্ষায় প্রতিনিয়ত কাজ করতে হবে।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটের কল্যাণ বিষয় সম্পাদক রফিক মৃধা বলেন, নৈতিক ও মানবিক জড়িত বিষয়ে তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে ফ্যাক্ট চেকিং প্রযুক্তির মাধ্যমে করে সংবাদ করব। সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ হিসেবে লোকজ সংস্কৃতির (ভাওয়াল গীতি, লোকসংগীত, উচ্চাঙ্গসংগীত) চর্চা করা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্তি ও গেমস খেলার আসক্তি দূর করতে প্রয়োজনীয় হুমকিস্বরূপ বিকৃত মস্তিষ্কের কার্যক্রম গৃহীত করতে মানুষ আর নিরাপদ নয়। এ লক্ষ্যে তরুণ প্রজন্ম ফিরিয়ে আনতে পারে সুস্থ সংস্কৃতি ও বিনোদন চর্চায় কাজ করা।

দৈনিক প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার নোমান ছিদ্দিকী বলেন, যারা তরুণ সাংবাদিক রয়েছেন তাদের সাংবাদিকতা নিয়ে গবেষণা করতে হবে। সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা করে, ডিজিটাল প্রযুক্তির কারণে সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা এখন হুমকির মুখে। সুস্থ সংস্কৃতি ও বিনোদন চর্চায় রক্ষায় সমাজে সকলকে সচেতন করতে হবে। 

তরুণ সাংবাদিকদের জন্য সেমিনারে গৃহীত ৮টি নীতিগত সুপারিশ

১. তথ্য একাধিক উৎস থেকে শতভাগ যাচাই ছাড়া কোনো সংবাদ প্রকাশ না করা।

২. ‘ক্লিকবেট’ ও বিভ্রান্তিকর শিরোনাম সম্পূর্ণ পরিহার করা।

৩. কপিরাইট ও বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ আইনের সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করা।

৪. দেশীয় শিল্প, সাহিত্য ও লোক ঐতিহ্যকে সংবাদে অগ্রাধিকার দেয়া।

৫. ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানবিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে এমন সেলিব্রিটি রিপোর্টিং বন্ধ করা।

৬. ভুয়া খবর ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে নিয়মিত ‘ফ্যাক্ট-চেকিং’ জোরদার করা।

৭. ইতিবাচক, শিক্ষামূলক ও মানবিক মূল্যবোধনির্ভর কনটেন্টকে উৎসাহিত করা।

৮. ডিজিটাল নৈতিকতা, সাইবার আইন ও আধুনিক প্রযুক্তির ওপর সাংবাদিকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।

বক্তারা আশা ব্যক্ত করেন যে, সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতা, মানবিকতা এবং সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার সমন্বয়ে একটি সচেতন ও সংস্কৃতিমনস্ক বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়