Apan Desh | আপন দেশ

শরিফুল সোহানের ধারাবাহিক গল্প: আবদুল আজিজ লেন

শরিফুল সোহান

প্রকাশিত: ১৭:১৯, ২৯ জুলাই ২০২৬

আপডেট: ১৭:২৮, ২৯ জুলাই ২০২৬

শরিফুল সোহানের ধারাবাহিক গল্প: আবদুল আজিজ লেন

ছবি: আপন দেশ

মাজেদ রাস্তা দিয়ে হাঁটছে। অনেকটা আনমনেই সে রাস্তায় হাঁটে। ঢাকায় ঝুম বৃষ্টি হয়ে গেলো। রাস্তাঘাট একদম চকচক করছে। পলাশী থেকে আজিমপুর হয়ে বাসায় যাবে। তার বাসা পুরান ঢাকা।

সদ্য গ্রাম ছাড়া এক উদাস যুবক মাজেদ। বয়স ২৩-২৪ এর মাঝামাঝি। পড়াশোনা গ্রামেই করেছে। ঢাকা শহরের কিচ্ছু চেনে না। তবুও মাজেদ আগাচ্ছে। গলির পর গলি ডিঙিয়ে তাকে পৌঁছাতে হবে আবদুল আজিজ লেন।

জীবনটা খুচরোপয়সা কিংবা কামরাঙা মার্বেলের মতো নয়। জীবনটা কখনো শান্ত নদীর মতো, কখনো নির্ঝর বাঁশবাগানে সন্ধ্যায় পাখির কোলাহলের মতো। জীবনটা কখনো রঙিন আবার রঙহীন সাদাকালো ছবির মতো সুন্দর। 

মাজেদ জানে, নির্ঝর বাঁশবাগানের কথা। তবে তার এখনকার জীবন, রোজহ্যাভেনের সামনের মিটমিট করা এক ল্যাম্পপোস্টের মতো। তার জীবন এখন রঙিন কিন্তু সাদাকালো ছবির মতো স্থির।

শহর মানেই রঙ। আর গ্রাম তো সবুজ। মাজেদ ঢাকায় এসেছে মাত্র ক’দিন। শহরের রঙ এখনো তার গায়ে লাগেনি। তাই তো বারবার পথ ভুল করছে। কাঁটাবনের পথ ধরে ভুল করে চলে যাচ্ছে লালবাগ। তবে পথ ভুল করার একটা মজা আছে, চেনা যায় অনেক কিছু। হোক সেটা ঢাকার পথ কিংবা জীবনের।

মাজেদ অবশ্য এতো কিছু ভাবছে না। তার অফিস পৌঁছাতে হবে। দেরি হয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন গলি ভুল করার কারণে ১২-১৫ মিনিট নষ্ট হয়। যদিও সে যথেষ্ট সময় নিয়ে বার হয়। তবে আজ একটু দেরি হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন <<>> শরিফুল সোহানের যুগল কবিতা

বাসায় নতুন খালা এসেছে। ঢাকা শহরে যারা রান্নাবান্না করে তাদের খালা বলা হয়। যদিও তাদের শুদ্ধ সম্বোধন বুয়া। তবে বুয়া নাকি শুধু বড়লোকেরা বলে।

আজকে মাজেদের একটু দেরি হওয়ার কারণ এই খালা। প্রথম দু’দিন সে ঠিক সময়ে এলেও তৃতীয় দিন দেরিতে আসছে। এসে বললো, মামা শরীরডা আজকে এক্কেবারে ভালা নাই। মাজেদ এতোসব জানে না, তাদের এ রোগ সপ্তাহে দু-তিন দিন থাকেই।

যাই হোক, মাজেদ না খেয়েই বের হবে। কিন্তু খালা বললো, ডিম ভাঁড়ি করে দেই মামা। সময় লাগবে না। খেয়ে বের হোন।

মাজেদ কোথায় যেন পড়েছিল, এ শহর বড়ই আজব, এখানে প্রত্যেকটা সন্তান অপুষ্টিতে ভোগে। কেউ সকালে খায় তো দুপুরে ভুখা, কারো দুপুরে হয় তো রাতে না হয় না। গরীব দেশের রাজধানী বড়ই বিচিত্র।

এ শহরে হাঁটতে হয়। প্রচুর হাঁটতে হয়। বিশেষ করে যারা মাজেদ রূপে নগরীতে প্রবেশ করে। তাদের সবচেয়ে দ্রুত পা চালাতে হয়। তারা জানে ৩০ মিনিট হাঁটলে ১০টাকা বাঁচে। ওপাশে ১০ টাকা বাঁচলে দুপুরে হয়তো একটা সিঙ্গাড়া খাওয়া যায়। না হয়, মাস শেষে পড়তে হবে দেনার তলে।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়