ছবি: আপন দেশ
কোরবানির ঈদ সামনে এলেই পশুর হাটে বাড়তে থাকে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়। এসময় বেশি লাভের আশায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী গরুকে দ্রুত মোটাতাজা দেখাতে ক্ষতিকর ইনজেকশন, হরমোন বা স্টেরয়েড ব্যবহার করেন। বাইরে থেকে এসব গরু আকর্ষণীয় মনে হলেও সেগুলো স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরুর মাংস খেলে মানুষের লিভার ও কিডনিতে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই হাটে গরু কেনার আগে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি।
প্রথমত, গরুর শরীরে আঙুল দিয়ে চাপ দিয়ে পরীক্ষা করা যেতে পারে। বিশেষ করে পিঠ বা রান এলাকায় কিছুক্ষণ চাপ দিলে যদি জায়গাটি বসে থাকে এবং দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে না আসে, তাহলে বুঝতে হবে গরুর শরীরে অতিরিক্ত তরল জমেছে। এটি সাধারণত হরমোন বা স্টেরয়েড ব্যবহারের লক্ষণ। স্বাভাবিক গরুর মাংস তুলনামূলক শক্ত থাকে।
দ্বিতীয়ত, গরুর আচরণ লক্ষ্য করতে হবে। কৃত্রিমভাবে মোটা করা গরু সাধারণত দুর্বল ও নিস্তেজ থাকে। তারা হাঁটাচলায় অনীহা দেখায় এবং অল্প নড়াচড়াতেই হাঁপিয়ে পড়ে। অনেক সময় মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে। চোখও ঘোলা বা ক্লান্ত দেখায়। অন্যদিকে সুস্থ গরু সচল থাকে এবং আশপাশে মানুষের উপস্থিতিতে স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখায়।
আরও পড়ুন <<>> যেভাবে বানাবেন গরুর মাংসের কালাভুনা
তৃতীয়ত, শরীরে অস্বাভাবিক ফোলা ভাব আছে কি না তা খেয়াল করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে এসব গরুর মুখ দিয়ে অতিরিক্ত লালা বা ফেনা বের হয়। উরু, থুতনি বা শরীরের কিছু অংশ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ফোলা দেখাতে পারে। কখনও চামড়াও অতিরিক্ত টানটান লাগে।
প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত ওষুধ ব্যবহার করা গরু দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। তাই গরু কেনার সময় তাড়াহুড়া না করে অন্তত ১০-১৫ মিনিট পর্যবেক্ষণ করা উচিত।
অভিজ্ঞ ব্যক্তি বা পরিচিত খামারিকে সঙ্গে নেয়া ভালো। গরুর দাঁত, চোখ ও হাঁটা ভালোভাবে দেখে নেয়ার পর সিদ্ধান্ত নেয়া নিরাপদ। এছাড়া বিশ্বস্ত খামার বা পরিচিত বিক্রেতার কাছ থেকে পশু কেনাই সবচেয়ে ভালো।
আপন দেশ/এসএস




































