ফাইল ছবি
বহুল আলোচিত মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলার হাইকোর্টের রায় ঘোষণা হতে যাচ্ছে। সোমবার (৩০ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করবেন।
এর আগে গত ২৫ আগস্ট রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তা পিছিয়ে আজকের দিন নির্ধারণ করা হয়। হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষে হাইকোর্ট রায়ের দিন ধার্য করেছিলেন।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক বলেন, মামলায় সাক্ষীদের জবানবন্দি, হিটু শেখের ১৬৪ ধারায় দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং মেডিকেল রিপোর্টসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রত্যাশা, বিচারিক আদালতের দেয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় হাইকোর্টেও বহাল থাকবে। অন্যদিকে হিটু শেখের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োজিত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান তার খালাস চেয়েছেন।
আছিয়ার মৃত্যুর পর তার বোনের শ্বশুর হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়। মামলায় আছিয়ার বড় বোন হামিদাসহ মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দেন। এ ছাড়া মামলার প্রধান আসামি হিটু শেখ ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
আরও পড়ুন<<>>‘সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে এক সাংস্কৃতিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততা মিলেছে’
২০২৫ সালের ১৭ মে মামলার রায় ঘোষণা করেন বিচারিক আদালত। রায়ে প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। একই রায়ে অপর তিন আসামি—আছিয়ার বোনের স্বামী সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।
ট্রাইব্যুনালের রায়ের চার দিন পর মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টে পাঠানো হয়। আজকের রায়ের মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত এ মামলায় হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ডের পরবর্তী আইনি অবস্থানও স্পষ্ট হবে।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ৬ মার্চ ভোরে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় ধর্ষণের শিকার হয় শিশু আছিয়া। প্রথমে মাগুরা সদর হাসপাতাল, এরপর অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়। এরপর ০৮ মার্চ তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসাপাতালে (সিএমএইচ) প্যাডিয়াট্রিক আইসিইউতে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়।
জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে থাকা শিশুটির জন্য কয়েক দিন রাজপথে নেমেছিল ছাত্র, শিক্ষক থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লাখো মানুষ। ধর্ষকদের দ্রুত সর্বোচ্চ বিচারের দাবিতে মুখর হয় সারা দেশ। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ দুপুরে শিশুটি মারা যায়।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































