Apan Desh | আপন দেশ

শিশু রিফাত হত্যা, ৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড

বগুড়া প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ২১:৪০, ২১ জুন ২০২৬

শিশু রিফাত হত্যা, ৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড

ছবি: আপন দেশ

বগুড়ার শাজাহানপুরে মুক্তিপণের দাবিতে আট বছরের শিশু রিফাত হোসেনকে অপহরণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। হত্যার দায়ে পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অপরাধের সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকায় অপর পাঁচ আসামিকে শিশু আইন অনুযায়ী ১০ বছর করে কারাদণ্ড (আটকাদেশ) দেয়া হয়েছে।

রোববার (২১ জুন) দুপুরে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এবং শিশু আদালত-১ এর বিচারক মো. আনোয়ারুল হক  চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, ১. মো. আবুল কালাম আজাদ, ২. মো. সেলিম ইসলাম (পলাতক), ৩. মো. মেহেদী হাসান, ৪. মো. রাজু মিয়া ওরফে পাঁচফুল, ৫. মো. সাগর (পলাতক)।

মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া অপহরণ ও আলামত গোপনের দায়ে ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে অর্থদণ্ড প্রদান করেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় উপস্থিত তিন আসামিকে কঠোর নিরাপত্তায় কারাগারে পাঠানো হয়।

১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত (ঘটনার সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক) আসামিরা হলেন, ১. মো. সজিব হাসান, ২. মো. মফিজুল ইসলাম ওরফে বাচ্চু মিয়া, ৩. মো. জাহিদ হাসান, ৪. মো. বোরহান আলী, ৫. মো. বায়েজীদ হোসেন। 

আরও পড়ুন<<>>কেশবপুরে বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরণ

আদালত সূত্রে জানা যায়, অপরাধের সময় তারা শিশু হলেও বর্তমানে তাদের বয়স ২৬ বছরের ওপরে। এ কারণে আদালত তাদের গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের পরিবর্তে সরাসরি বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। সাজাপ্রাপ্ত সকল আসামির বাড়ি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই শাজাহানপুর উপজেলার খাদাস হাটখোলা এলাকার প্রবাসী এনামুল হকের ছেলে রিফাত হোসেনকে অপহরণ করা হয়। প্রতিবেশী আবুল কালাম আজাদ প্রবাসী এনামুলের কাছে এক লাখ টাকা ধার চেয়ে না পেয়ে এ নৃশংস অপহরণের পরিকল্পনা করেছিলেন।

অপহরণের পর আসামিরা মুক্তিপণ দাবি করলেও তার তিন দিন পর, অর্থাৎ ১৮ জুলাই পোয়ালগাছা ব্রিজের নিচ থেকে শিশু রিফাতের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় রিফাতের বাবা এনামুল হক বাদী হয়ে শাজাহানপুর থানায় ১১ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। বিচার চলাকালীন মাসুদ রানা নামে এক আসামির মৃত্যু হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। বাকি ১০ আসামির মধ্যে ৯ জনই আদালতে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।

দীর্ঘ আট বছর পর কাঙ্ক্ষিত রায় পেয়ে আদালত চত্বরে কান্নায় ভেঙে পড়েন রিফাতের স্বজনেরা। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রিফাতের বাবা এনামুল হক বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, এ রায়ে আমি অত্যন্ত সন্তুষ্ট। উচ্চ আদালতেও যেন এ রায় বহাল থাকে এবং দ্রুত কার্যকর করা হয়। সরকারের কাছে আমার এইটাই দাবি। এ রায় যেন সমাজে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে। আর কোনো বাবা-মায়ের কোল এভাবে খালি না হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. আলী আসগর রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এ রায় সমাজ ও দেশের জন্য একটি মাইলফলক। রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে আসামিদের অপরাধ প্রমাণ করতে পেরেছে। এর মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলো এবং অপরাধীদের কাছে একটি কঠোর বার্তা যাবে।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়