Apan Desh | আপন দেশ

শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আজ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ০৯:০৫, ৯ এপ্রিল ২০২৬

শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আজ 

ফাইল ছবি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা হতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করবেন। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের এ ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

আবু সাঈদ ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই আওয়ামী লীগ বিরোধী গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ। তিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন। ঘটনার দিন দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের সামনে বুক পেতে দেয়া আবু সাঈদের ভিডিওটি দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। তার মৃত্যুতে ছাত্র-জনতার আন্দোলন ভিন্ন মাত্রা পায় যা পরে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।

গত ২৭ জানুয়ারি এ মামলায় সবশেষ ধাপ যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে রায় যে কোনোদিন ঘোষণা করা হবে মর্মে অপেক্ষমাণ রাখে ট্রাইব্যুনাল। পরে গত ৫ মার্চ রায়ের জন্য ৯ এপ্রিল দিন ধার্য করে আদালত। 

এ মামলায় আসামি বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক সাবেক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ এ ছয় জন কারাগারে আছেন। মামলার আসামি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি (উপাচার্য) মো. হাসিবুর রশীদসহ ২৪ জন পলাতক। আইনের বিধান অনুযায়ী, পলাতকদের অনুপস্থিতিতেই বিচারকাজ চলে এবং তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা শুনানি করেন। 

আবু সাঈদ হত্যা মামলার তদন্ত শেষে ৩০ জনকে আসামি করে দেয়া তদন্ত প্রতিবেদন গত বছরের ৩০ জুন আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। গত বছরের ২৮ আগস্ট এ মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষে সূচনা বক্তব্য ও আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন। বিচারকালে মোট ২৫ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। সাক্ষীদের মধ্যে প্রত্যক্ষদর্শী, বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক, চিকিৎসক এবং পুলিশ সদস্য ছিলেন। আবু সাঈদের সঙ্গে গুলিবিদ্ধ হওয়ার অন্যান্য আন্দোলনকারী এবং গণআন্দোলনের পটভূমির সাক্ষী হিসেবে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক এবং বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ ট্রাইব্যুনালে এসে সাক্ষ্য দেন।

আরও পড়ুন<<>>তৃতীয় দফা রিমান্ডে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী

গত ২০ জানুয়ারি সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হলে যুক্তিতর্কের শুনানি শুরু হয়। শুনানিতে প্রসিকিউশন পক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অকাট্য প্রমাণিত হয়েছে উল্লেখ করে সর্বোচ্চ সাজার আরজি জানায়। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি উল্লেখ করে খালাসের আরজি জানান। প্রসিকিউশন পক্ষে শুনানিতে ছিলেন তখন চিফ প্রসিকিউটরের দায়িত্বে থাকা অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মোহাম্মদ মিজানুল ইসলাম প্রমুখ। আসামিপক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু, আবুল হাসান প্রমুখ।

সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই আন্দোলনের সময় বেরোবির সামনে পার্ক মোড়ে দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদকে গুলি করে পুলিশ। পরে তিনি হাসপাতালে মারা যান। আবু সাঈদ বিশ্ববিদ্যালয়টির ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। 

এ হত্যাকাণ্ডের পর সারা দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। প্রতিবাদে সোচ্চার হন শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। আবু সাঈদ হত্যার পরদিন থেকে সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। আন্দোলন ও বিক্ষোভ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। দমন-পীড়ন আর সহিংসতার মধ্যে ১৯ জুলাই তখনকার আওয়ামী লীগ সরকার কারফিউ জারি করে। 

তবে এতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়নি। ব্যাপক গণআন্দোলনের মধ্যে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতন হয়। আওয়ামী লীগের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার গণঅভ্যুত্থানে দমন-পীড়নকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে বিচারের উদ্যোগ নেয়। এ জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে। এর ধারাবাহিকতায় আবু সাঈদ হত্যা মামলাটি বিচারের পর্যায়ে আসে।

জুলাই অভ্যুত্থান দমনে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত তিনটি রায় হয়েছে। আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়টি হবে চতুর্থ। প্রথম রায়টি হয় গত বছরের ১৭ নভেম্বর। এদিন রায়ে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ও তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল-১। 

এরপর অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখারপুলে ছয় জনকে গুলি করে হত্যার মামলায় গত ২৬ জানুয়ারি পুলিশের তিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ফাঁসি ও ৮ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডাদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল-১। তৃতীয় রায়টি হয় গত ৫ ফেব্রুয়ারি। অভ্যুত্থানের সময় আশুলিয়ায় ছয় জনকে গুলি করে হত্যা ও মরদেহ পোড়ানোর মামলাতে ছয় জনের ফাঁসি ও সাত জনের যাবজ্জীবন সাজার রায় দেয় ট্রাইব্যুনাল-২।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement

জনপ্রিয়