ছবি : সংগৃহীত
লোহিত সাগরের আরও দুটি কৌশলগত দ্বীপ দখলে নিয়েছে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। এতে বিশ্বের অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক নৌপথে নিজেদের অবস্থান ও নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করল ইরান সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পর কৌশলগত গুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ গোষ্ঠিটি।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ইয়েমেনের সরকারি কর্মকর্তা ও হুথি কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথটির ওপর হুথিদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হলো।
মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, সরকারি দুই কর্মকর্তা ও এক হুথি কর্মকর্তার বরাতে গ্রেটার হানিশ ও লেসার হানিশ দ্বীপে হুথি যোদ্ধাদের মোতায়েনের তথ্য পাওয়া গেছে। দ্বীপ দুটি বাব আল-মান্দেব প্রণালি থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত।
সরকারি বাহিনীর সঙ্গে মিত্র কয়েকশ সেনা দ্বীপপুঞ্জ থেকে সরে যাওয়ার পর হুথিরা সেখানে নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করে। এর আগে গত সপ্তাহে বাব আল-মান্দেব প্রণালির ভেতরে অবস্থিত বন্দরনগরী মোখা ও মায়ুন দ্বীপের নিয়ন্ত্রণও নেয় তারা। মায়ুন দ্বীপটি পেরিম নামেও পরিচিত। যা বাব আল-মান্দেবের গুরুত্বপূর্ণ অংশে অবস্থিত।
সাম্প্রতিক এসব দখলের ফলে লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশপথ বাব আল-মান্দেব ঘিরে হুথিদের সামরিক অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে। এ প্রণালি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এটি এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। বিশ্বের বিপুল পরিমাণ পণ্যবাহী জাহাজ এ পথ ব্যবহার করে।
আরও পড়ুন<<>>বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিল হুতিরা
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সংঘাত আরও তীব্র হয়ে ওঠে। লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকায় ইরান-সমর্থিত হুথিদের লক্ষ্য করে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী হামলা চালায়। জবাবে সৌদি আরবের ভূখণ্ডে হামলা চালায় হুথিরা। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে দীর্ঘদিন ধরে সমর্থন দিয়ে আসছে সৌদি আরব।
হুথিদের দ্রুত অগ্রযাত্রার মুখে ইয়েমেন সরকার লোহিত সাগর উপকূলে আরও সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। তবে সরকারি এক কর্মকর্তা মোখা বন্দরনগরী ও বাব আল-মান্দেবের একটি দ্বীপ হুথিদের দখলে যাওয়াকে বেদনাদায়ক পরাজয় হিসেবে স্বীকার করেছেন।
এদিকে হুথিদের অগ্রযাত্রা ঘিরে আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বাব আল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হলে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন এবং বিকল্প দীর্ঘ নৌপথ ব্যবহারের প্রবণতা বাড়তে পারে। এতে পরিবহন ব্যয় ও পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইয়েমেনে নতুন করে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যেই মানবিক পরিস্থিতিও অবনতির দিকে যাচ্ছে। জাতিসংঘের হিসাবে, সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে দেশটিতে সংঘাতের কারণে ৮০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। রয়টার্সের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ সংখ্যা ৮২ হাজারের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০১৪ সাল থেকে চলা ইয়েমেনের দীর্ঘ সংঘাত কয়েক বছর ধরে তুলনামূলকভাবে স্থবির থাকলেও সাম্প্রতিক হুথি অগ্রযাত্রায় পরিস্থিতি আবারও বড় ধরনের যুদ্ধের দিকে যাচ্ছে। মোখা, মায়ুন ও হানিশ দ্বীপপুঞ্জসহ লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ বিস্তৃত হওয়ায় আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে উত্তেজনাও বাড়ছে।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































