ফাইল ছবি, আপন দেশ
ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পর কৌশলগত গুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুতিরা। এর ফলে বৈশ্বিক নৌবাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
হুতিদের এ অগ্রগতির ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। এরই মধ্যে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।
বাব আল-মান্দেব আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ ঘিরে নতুন করে বৈশ্বিক নৌপরিবহন ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগরের বন্দরনগরী মোখা দখল করে নেয়। এত দিন বন্দরটি ইয়েমেনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল।
আরও পড়ুন<<>>মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক আগ্রাসনের নিন্দায় ১১ দেশ
ইয়েমেনের সরকারি কর্মকর্তারা শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) মার্কিন সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছেন, হুতি বাহিনী পেরিমও দখল করেছে। ময়উন নামে পরিচিত এ ছোট দ্বীপ কৌশলগতভাবে অতি গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালির ঠিক ভেতরে অবস্থিত। জবাবে সৌদি আরব মোখা বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে।
পেরিম দ্বীপ দখলের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত পরিস্থিতিও দ্রুত বদলে গেছে। বাব আল-মানদেব হলো, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্যকার সরু প্রবেশপথ। এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ।
আরব উপদ্বীপের অন্য প্রান্তে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এরই মধ্যে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে জ্বালানি তেল রপ্তানির জন্য সৌদি আরব ক্রমেই লোহিত সাগরের নৌপথের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এখন বাব আল–মানদেব প্রণালির ওপর হুতিরা পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করায় বৈশ্বিক তেলের বাজার চরম ঝুঁকিতে পড়ল।
লোহিত সাগরের গোটা ইয়েমেন উপকূল ও বাব আল–মানদেব প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানকে বেশ সুবিধাজনক অবস্থান পাইয়ে দিয়েছে এ বিদ্রোহী গ্রুপ।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































