Apan Desh | আপন দেশ

ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে থুতু নিক্ষেপ

ঢাবি প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৮:৪৮, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে থুতু নিক্ষেপ

ছবি : আপন দেশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর একটি ছবি ছিল। সে ছবি ছিঁড়ে ফেলেছেন ছাত্রনেতা আবু তৈয়ব হাবিলদার।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সংগ্রহশালায় গিয়ে ছবিটির ফ্রেম ভেঙে সেটি ছিঁড়েন তিনি। এসময় ছবিটিতে থুতু নিক্ষেপ করতেও দেখা যায়।

আবু তৈয়ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। সম্প্রতি ডাকসু নির্বাচনে তিনি ভিপি পদে প্রার্থী হয়ে আলোচনায় আসেন। নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রার্থীদের মধ্যে তিনি সবচেয়ে বয়স্ক প্রার্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

ছবি ছেঁড়ার আগে আবু তৈয়ব হাবিলদার বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূত্রটা জিন্নাহ তৈরি করে দিয়েছে। কার্জন হলে ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে বলে যে, পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু হবে, বাংলা হবে না। আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছাত্র প্রতিবাদ করেছিলেন। তারা বলেছিলেন, জিন্নাহ সাহেব, আপনার এ সিদ্ধান্ত আমরা মানি না।

তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনের মূল নায়ক হিসেবে প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম ১১ মার্চ ১৯৪৮ কার্যক্রম শুরু করেছিলেন। তার নেতৃত্বে হরতাল পালন করা হয়। সেখানে ২ হাজারের বেশি ছাত্র গ্রেফতার হয়েছিলেন। তাই সে জিন্নাহ ডাকসুতে স্থান পেতে পারে না।

এদিকে, এ ঘটনার বিষয়ে ডাকসুর নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমা নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে তিনি লেখেন, ডাকসু সংগ্রহশালায় হামলা করে ছবি ভাঙচুর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন <<>> এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা অগ্রিম ৩ ইনক্রিমেন্ট পাচ্ছেন 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বলেন, ডাকসুতে ছবি ভাঙচুরের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। এ ঘটনায় কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেয়া যায়, সে বিষয়ে আইনগত পরামর্শ নেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ডাকসু ভবনে বিতর্কিত ছবি লাগানোর কারণ, উদ্দেশ্য এবং সেটি অপসারণের ঘটনাসহ সংশ্লিষ্ট সব বিষয় বৃহত্তর আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় নেয়া হবে।

তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটার আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের সক্ষমতা রয়েছে বলেই তারা ইচ্ছামতো সবকিছু করতে পারে, এমনটি গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো কার্যক্রমের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম ও অনুমোদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

ডাকসুর অবস্থান সম্পর্কে প্রক্টর বলেন, ডাকসু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নয়; এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অঙ্গ। তবে ডাকসুর কোনো কর্মকাণ্ড যদি প্রশাসনের বিকল্প হিসেবে পরিচালিত হওয়ার চেষ্টা করে বা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, সেটি গ্রহণযোগ্য হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো কাজের জন্য অনুমোদন নেয়ার নির্দিষ্ট ব্যবস্থা থাকলে ডাকসুকেও সে নিয়মের বাইরে গিয়ে ইচ্ছামতো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত নয়।

তবে এ বিষয়ে ডাকসুর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়