ছবি : সংগৃহীত
ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দুই দিনে দুবার মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করার অভিযোগ তুলে ওমান উপসাগর ও খার্গ দ্বীপের কাছে এসব হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। জবাবে জর্ডানে থাকা মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান।
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, গত দুই দিনে আইআরজিসি একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে দুবার হামলার চেষ্টা চালায়। তবে মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি হামলা এড়িয়ে যায় এবং এতে কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি।
এরপর ওমান উপসাগরে থাকা এম/টি কাভিজ, এম/টি চারমিনার, এম/টি হরাইজন-১ ও এম/টি রিসকো এবং খার্গ দ্বীপের কাছে এম/টি দেরিয়া ট্যাংকারে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।
সেন্টকম জানায়, হামলার আগে ট্যাংকারগুলোর নাবিকদের জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। পরে জাহাজগুলোতে হামলা চালিয়ে অচল করে দেয়া হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি ও দেশটির অন্যান্য গণমাধ্যমও ট্যাংকারে হামলার খবর দিয়েছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খার্গ দ্বীপ ও জাস্ক বন্দরের কাছে ট্যাংকারে হামলা হয়েছে এবং কয়েকটি জাহাজের নাবিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এসব তথ্য স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
খার্গ দ্বীপ ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি কেন্দ্র। যুদ্ধের মধ্যে ইরানের তেল রফতানি ও রাজস্বের ওপর চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ট্যাংকারগুলোকে লক্ষ্য করছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন<<>>ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ আগুনে ৬ শিশুসহ নিহত ১১
পাল্টা জবাবে জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে আইআরজিসি। জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, তারা ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে ১৮টি প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে এবং দুটি জনবসতিহীন এলাকায় পড়েছে। হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে জর্ডান।
এর আগে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলী আবদোল্লাহি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরানের তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানো হবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানের হামলার চেষ্টা অব্যাহত থাকলে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলাও চলবে।
কলম্বিয়া সফরের সময় সাংবাদিকদের রুবিও বলেন, ইরান মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে হামলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা যতবারই এমন করবে বা করার চেষ্টা করবে, ততবারই তাদের ট্যাংকার হারাতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান সংঘাতের মধ্যে এরই মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক তেলের বাজার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারে পৌঁছায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































