ছবি সংগৃহীত
লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.২। দ্বিতীয়টির মাত্রা ৭ দশমিক ৫। রাজধানী কারাকাসের বেশ কিছু ভবন ধসে পড়েছে। বহু হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল দেশটির ক্যারিবীয় উপকূলের মরন অঞ্চলের পশ্চিমে, যা রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার (১০৪ মাইল) পশ্চিমে অবস্থিত। এ ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ২২ কিলোমিটার (১৪ মাইল)।

প্রথম ঝাঁকুনির ঠিক এক মিনিট পর আরও একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে বলে জানিয়েছে ইউএসজিএস। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭.৫। ১০ কিলোমিটার (৬.২ মাইল) গভীরতার এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল মরন অঞ্চল থেকে ১৬ কিলোমিটার (১০ মাইল) দক্ষিণ-পশ্চিমে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস সতর্ক করে বলেছে, শক্তিশালী এ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এমনকি প্রাণহানি ১ লাখ পর্যন্তও পৌঁছাতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকায় ভবন ধস, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং আফটারশকের আশঙ্কায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১ লাখের মধ্যে হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)। তবে এখন পর্যন্ত দেশটির কর্তৃপক্ষ নিহত বা আহতের কোনও আনুষ্ঠানিক সংখ্যা প্রকাশ করেনি।
আরও পড়ুন<<>>খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে মোদিকে আমন্ত্রণ
এদিকে, দেশে আঘাত হানা এ ভয়াবহ দুর্যোগের পর ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন যে, মাইকেটিয়ার সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
এছাড়া ভূমিধস এবং মাটির তরলীকরণ বা ‘লিকুইফ্যাকশন’-এরও উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি রয়েছে। মূলত ভূমিকম্পের সময় আলগা মাটির স্তর তরলের মতো আচরণ করলে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাকে লিকুইফ্যাকশন বলা হয়। এটি অনেকটা ভূমিধসের মতো ক্ষতির কারণ হতে পারে।

বিবিসির উত্তর আমেরিকা বিষয়ক সংবাদদাতা উইল গ্রান্ট জানিয়েছেন, ভয়াবহ দুটি ভূমিকম্পের আঘাতের পর বিভিন্ন ভবন দুলে ওঠে এবং আতঙ্কিত মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, অনেক ভবনে ফাটল ধরেছে, কিছু ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কিছু ভবন ধসে পড়েছে।
আফটারশকের আশঙ্কায় হাজার হাজার বাসিন্দা এখনও নিজেদের বাসায় ফিরতে সাহস করছেন না। ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেয়ো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে নিশ্চিত করেছেন যে কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে।
এ ভূমিকম্পের কম্পন প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতা পর্যন্ত অনুভূত হয়েছে। তবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে কর্তৃপক্ষ এখনও পরিস্থিতি মূল্যায়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং এ কারণে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































