ছবি সংগৃহীত
যুদ্ধবিরতি ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে রক্তক্ষয়ী হামলায় লিপ্ত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। নতুন করে এ ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের কারণে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
হরমুজ প্রণালির কৌশলগত কেশম দ্বীপে মার্কিন বাহিনীর আকস্মিক হামলার জবাবে কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে একযোগে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি।
তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এবং ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (০৩ জুন) ভোরে আইআরজিসি একটি বিশেষ দাফতরিক বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, মঙ্গলবার (০২ জুন) রাতে হরমুজ প্রণালির অত্যন্ত স্পর্শকাতর জলসীমায় অবস্থানরত একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে মার্কিন বিমানবাহিনী আকাশপথ থেকে আকস্মিক হামলা চালায়, যার ফলে জাহাজটির প্রধান ইঞ্জিন অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এর কিছুক্ষণ পরেই মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপের দক্ষিণে অবস্থিত গার্ড বাহিনীর একটি প্রধান যোগাযোগ টাওয়ার লক্ষ্য করে দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এ দুই উস্কানিমূলক হামলার তীব্র জবাবে আইআরজিসির মহাকাশ বাহিনী কুয়েতে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের ৫ম নৌবহরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রধান সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে স্পষ্ট সতর্ক করে বলেছে, ইরানের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের আন্তর্জাতিক আগ্রাসন বা হামলার ‘কঠোর ও চূড়ান্ত’ জবাব দেয়া হবে এবং ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত এই অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যের যেসব অঞ্চলের সামরিক ঘাঁটি বা বাহিনীকে ব্যবহার করা হয়েছে, তাদের সবাইকে এর চরম পরিণতি ভোগ করতে হবে। তবে ইরানের এ দাবির বিপরীতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেছে।
আরও পড়ুন<<>>ট্রাম্পের কাছে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র চেয়েছেন জেলেনস্কি
সেন্টকমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরান কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটির দিকে দুটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল, তবে তা মূল লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই মাঝ আকাশে ভেঙে পড়ে অথবা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। একই সঙ্গে বাহরাইনের দিকে ইরান ও তার মিত্রদের ছুড়ে দেয়া আরও তিনটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে নিখুঁতভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।
এদিকে আইআরজিসির এ দাফতরিক বিবৃতি প্রকাশের ঠিক কিছুক্ষণ আগেই ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রধান সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি তাদের বিশেষ লাইভ বুলেটিনে কেশম দ্বীপের সুজা ও মাসেন এলাকার কাছে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণ ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখার খবর দেয়।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলি বিমানবাহিনী ইরানের অভ্যন্তরে একযোগে নজিরবিহীন বিমান হামলা চালানোর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি চরম বিপজ্জনক আকার ধারণ করে। ওই ঐতিহাসিক মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন, যাদের মধ্যে দেশের বহু জ্যেষ্ঠ সামরিক জেনারেল ও সরকারের শীর্ষস্থানীয় নীতিনির্ধারক কর্মকর্তারাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
পরবর্তীতে এ মহা সংকট নিরসনে প্রতিবেশি দেশ পাকিস্তানের বিশেষ মধ্যস্থতায় গত ০৮ এপ্রিল দুই পক্ষের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক ও সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা সম্ভব হয়েছিল। তবে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়িত হলেও দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বৃহত্তর কোনো স্থায়ী রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানোর বৈশ্বিক প্রচেষ্টা এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে দুই দেশের সামরিক বাহিনী আবারও প্রকাশ্য মুখোমুখি অবস্থানে চলে এসেছে।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































