Apan Desh | আপন দেশ

ইরানের সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ০৯:০৪, ২২ এপ্রিল ২০২৬

আপডেট: ০৯:১৯, ২২ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা ট্রাম্পের

ছবি সংগৃহীত

টানা ৩৮ দিন যুদ্ধ চলার পর ০৭ এপ্রিল ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে যায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তবে এর মেয়াদ যতই শেষ হয়ে আসছিল ততই বাড়ছিল উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা। উভয় পক্ষের মধ্যে চলছিল বাগযুদ্ধ আর হুমকি পাল্টা হুমকি। মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগে মেয়াদ বাড়িয়ে ইরানের সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এ ঘোষণা দেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ইরানের নেতারা একটি প্রস্তাব না দেয়া পর্যন্ত মার্কিন সেনাবাহিনী হামলা করবে না। তবে ইরানের বন্দরে নৌ অবরোধ চলতে থাকবে।

পাকিস্তানের অনুরোধে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সামাজিক মাধ্যমে দেয়া এক বার্তায় তিনি লেখেন, আমি তাই আমাদের সেনাবাহিনীকে অবরোধ চালিয়ে যেতে এবং সব দিক থেকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিয়েছি। তাদের প্রস্তাব জমা দেয়া এবং আলোচনা শেষ হওয়া পর্যন্ত যেকোনো উপায়ে যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হবে।

কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকায় এ যুদ্ধবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য বলে মনে করা হচ্ছে। ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্ত হঠাৎ করেই এলো। কারণ মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও তিনি বলেছিলেন, তিনি যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর পক্ষে নন। তিনি ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন, সময় শেষ হয়ে আসছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এক্সে দেয়া পোস্টে তিনি লেখেন, আমি আন্তরিকভাবে আশা করি উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে এবং ইসলামাবাদে নির্ধারিত দ্বিতীয় দফা আলোচনায় একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবে।

নৌ অবরোধ চলমান থাকায় ইরান আলোচনার টেবিলে আসবে কিনা, তা এখনো অনিশ্চিত।

আরও পড়ুন<<>>ইরানের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পাকিস্তান

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বন্দর অবরোধকে ‘যুদ্ধের কাজ’ বলেছেন। তিনি বলেছেন, এটি বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন। তিনি আরও লেখেন, ইরান জানে কীভাবে বাধা এড়াতে হয়, নিজের স্বার্থ রক্ষা করতে হয় এবং চাপের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হয়।

ইরানের অবস্থান প্রকাশ্যে কঠোর হলেও ট্রাম্প দাবি করেছেন, তেহরানের নেতৃত্বের মধ্যে বিভাজন রয়েছে। তাই আলোচনা এগোচ্ছে না। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, ইরান সরকার মারাত্মকভাবে বিভক্ত। পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের অনুরোধে আমরা ইরানে হামলা স্থগিত রেখেছি, যতক্ষণ না তাদের নেতারা একটি একক প্রস্তাব নিয়ে আসতে পারেন।

তবে আল জাজিরার সংবাদদাতা আলি হাশেম তেহরান থেকে জানিয়েছেন, ট্রাম্পের এ ধারণা সম্ভবত ভুল। তিনি বলেছেন, সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে ইরানের নেতৃত্ব বরং আরও একতাবদ্ধ।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানে হামলা শুরু করার পর এ যুদ্ধ শুরু হয়। হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিসহ ইরানের শীর্ষ কয়েকজন কর্মকর্তা নিহত হন। এরপর খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হন। তবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি এখনো প্রকাশ্যে আসেননি।

গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। কিন্তু লেবানন যুদ্ধবিরতির আওতায় পড়বে কিনা এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মতভেদের কারণে উত্তেজনা কমেনি।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান পুরোপুরি পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করুক এবং হিজবুল্লাহ ও হামাসকে সমর্থন দেয়া ছেড়ে দিক। কিন্তু ইরান বলছে, তাদের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার তারা ছাড়বে না।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়