মানসুরেহ খোজাস্তেহ বাঘেরজাদেহ। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির স্ত্রী মানসুরেহ খোজাস্তেহ বাঘেরজাদেহ মারা গেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর তিনি কোমায় ছিলেন।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) হামলার পর থেকে তার অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। ওই হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ছাড়াও তার মেয়ে, নাতি ও জামাতাও নিহত হন বলে জানানো হয়েছে।
৭৯ বছর বয়সী মানসুরেহ বাঘেরজাদেহ জনসমক্ষে খুব কম দেখা দিতেন। খামেনির সঙ্গে তার ছয় সন্তান রয়েছে। তার বাবা মোহাম্মদ এসমাঈল খোজাস্তেহ বাঘেরজাদেহ মাশহাদের একজন পরিচিত ব্যবসায়ী ছিলেন। তার ভাই হাসান খোজাস্তেহ পূর্বে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিংয়ের (আইআরআইবি) উপপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানিয়েছে ইরান ইন্টারন্যাশনাল।
খামেনির মৃত্যুর পর ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিসরেও এ শোক পালিত হচ্ছে। প্রসঙ্গত, শনিবার ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করেই এ হামলা পরিচালিত হয়।
আরও পড়ুন <<>> ঘাঁটি ব্যবহারে অনুমতি দেরিতে দেয়ায় চটলেন ট্রাম্প
হামলায় খামেনির পাশাপাশি ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, খামেনির নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলি শামখানি, সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল রাহিম মুসাভি এবং বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডার-ইন-চিফ মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হন।
মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় বেসামরিক হতাহতের সংখ্যাও বাড়ছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন।
এ হামলার জবাবে ইরান ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। ইরানের প্রতিআঘাতে অন্তত তিনজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমানও বিধ্বস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে ভবন ধ্বংস ও প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































