ছবি সংগৃহীত
উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে দুর্দান্ত নৈপূণ্য প্রদর্শন করেছে চলেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। সে নৈপূণ্যে ভর করেই লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে ব্রাজিল। গ্রুপ পর্বে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচেও তার জোড়া গোলে প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ব্রাজিল। দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়ান মাথেউস কুনিয়া। শেষদিকে দীর্ঘ অপেক্ষার পালা ঘুচিয়ে হলুদ জার্সিতে প্রত্যাবর্তন করেন নেইমার। সব মিলিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি স্বস্তি নিয়ে নকআউটের টিকিট নিশ্চিত করল কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা।
ফ্লোরিডায় বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এ জয়ের মাধ্যমে ব্রাজিল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে। তাদের সম্ভ্যাব্য প্রতিপক্ষ জাপান, নেদারল্যান্ডস কিংবা সুইডেন।
অন্যদিকে স্কটল্যান্ডকে শেষ ষোলোতে ওঠার জন্য সেরা তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোর মধ্যে থাকার আশা নিয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তবে গোল ব্যবধানে মাইনাস তিন থাকায় তাদের সম্ভাবনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিন ম্যাচে চার গোল করা ভিনিসিয়ুসকে অনেকেই এবার তার ক্যারিয়ারের সেরা সময় হিসেবে দেখছেন। এমনকি দুই বছর আগের পারফরম্যান্সের চেয়েও ভিনি বর্তমানে আরও বেশি দলের ভরসা হয়ে উঠেছে।
ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে ভিনিসিয়ুস নিজেকে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আনচেলত্তি তাকে শুধু উইংয়ে সীমাবদ্ধ না রেখে আরও কেন্দ্রীয় ভূমিকায় খেলাচ্ছেন। ফলে তিনি গোল করার আরও বেশি সুযোগ পাচ্ছেন এবং আত্মবিশ্বাসী হয়ে মাঠে খেলছেন।
আরও পড়ুন<<>>মেসির জন্মদিনে সতীর্থদের চমক
ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই স্কটিশ ডিফেন্ডার স্কট ম্যাকেনার ভুল থেকে প্রথম গোলের সুযোগ তৈরি হয়। রায়ান বল কেড়ে নিয়ে ভিনিসিয়ুসকে পাস দেন এবং সেখান থেকেই গোল করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। পরে আরও একটি গোল বাতিল হয় তার। প্রথমার্ধের শেষে যোগ করা সময়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষক গান অন্তত দুইবার নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে না দিলে ভিনিসিয়ুস হ্যাটট্রিক করতে পারতেন।
স্কটল্যান্ড পুরো ম্যাচে ব্রাজিলের ওপর তেমন চাপ সৃষ্টি করতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে স্কট ম্যাকটমিনের একটি হেডার ছিল তাদের উল্লেখযোগ্য আক্রমণ। এরপর ফার্গুসনের একটি শট ও ম্যাকটমিনের আরেকটি হেড ছাড়া বড় কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি দলটি।
অন্যদিকে ম্যাচের ৬০তম মিনিটে ব্রাজিলের হয়ে তৃতীয় গোল করেন কুনিয়া। ব্রুনো গিমারায়েসের দ্বিতীয় অ্যাসিস্ট থেকে গোলটি আসে। ফলে ৩-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ব্রাজিল।
ম্যাচের শেষ দিকে আনচেলত্তি মাঠে নামান নেইমারকে। এর মাধ্যমে ব্রাজিলিয়ান তারকা নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের রেকর্ডে নাম লেখান। দীর্ঘ ২ বছর ৮ মাস, অর্থাৎ ৯৮২ দিন পর আবারও ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে ফিরলেন এবার নেইমার। ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবরের পর ব্রাজিলের আর খেলা হয়নি সান্তোস তারকার। চোট, পুনর্বাসন আর অনিশ্চয়তার দীর্ঘ পথ পেরিয়ে অবশেষে আবার ফুটবল মাঠে নামলেন তিনি।
শেষ দিকে আরও কিছু সুযোগ পেলেও স্কটল্যান্ডের গোলকিপারের দৃঢ়তায় গোল ব্যবধান বাড়াতে পারেনি ব্রাজিল।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































