ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি এ হামলাকে একটি ‘বড় ধরনের যুদ্ধ অভিযান’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। এর জবাবে ইরানও বসে নেই। তারা ইসরায়েলে ব্যাপক পাল্টা হামলা শুরু করেছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এ হামলায় ইরানের রাজধানী তেহরান কেঁপে ওঠে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা যায়। শুধু তেহরান নয়, ইরানের আরও অন্তত পাঁচটি শহরে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করেই এ হামলা চালানো হয়েছে।
যে কারণে এ হামলা চালানো হলো
বেশ কিছুদিন ধরেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনা চলছিল। ওয়াশিংটন চাচ্ছিল ইরান যেন একটি নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুক্রবার জানান, ইরানের আলোচনার ধরন নিয়ে তিনি মোটেও সন্তুষ্ট নন। এর পরপরই এই সামরিক অভিযান শুরু হয়। ট্রাম্প এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে আটকাতেই এ বড় যুদ্ধ অভিযান শুরু হয়েছে। এ অভিযানের আরেকটি বড় উদ্দেশ্য হলো বর্তমান ইরানি সরকারকে দুর্বল করা বা পুরোপুরি উৎখাত করা।
ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি ইরানের সাধারণ জনগণের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন। তিনি ইরানের জনগণকে তাদের নিজেদের দেশের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার আহবান জানান। ট্রাম্প বলেন, ‘আপনাদেরই দেশের দখল নিতে হবে। সম্ভবত প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এটাই আপনাদের জন্য একমাত্র বড় সুযোগ।’
কূটনৈতিক আলোচনার মাঝেই হামলা
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি কূটনৈতিক আলোচনা চলছিল, ঠিক তখনই এই বিশ্বাসঘাতকতামূলক হামলা চালানো হয়। তবে ইরান আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এমন আক্রমণাত্মক উদ্দেশ্যের কথা জানত বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের পাল্টা জবাব
মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার কড়া জবাব দিয়েছে ইরান। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী প্রথমবারের মতো ইসরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে বৃহৎ পরিসরে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে। তারা ইসরায়েলের দিকে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ তাদের এ বিশাল সামরিক পদক্ষেপকে ‘অপারেশন লায়নস রোয়ার’ (সিংহের গর্জন) হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
ইরানের দিক থেকে ছুটে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন শনাক্ত করার পরই ইসরায়েল জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ইসরায়েলের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় মুহুর্মুহু সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। ইসরায়েলের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো সাথে সাথে সক্রিয় হয়ে যায়।
ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য জরুরি নির্দেশিকা জারি করেছে। বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ কক্ষ ও সুরক্ষিত আশ্রয়কেন্দ্রের কাছাকাছি থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যেকোনো মুহূর্তে ইরান আবারও হামলা চালাতে পারে। তাই সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
আপন দেশ/এমবি
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































