Apan Desh | আপন দেশ

২০২৫ সালে ৪০৩ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৫:৫৭, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

২০২৫ সালে ৪০৩ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

ফাইল ছবি।

২০২৫ সালে রাজধানীসহ সারা দেশে ৪০৩ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। এরমধ্যে স্কুল পর্যায়ে ১৯০ জন (৪৭ দশমিক ৪০%) ও কলেজ পর্যায়ে ৯২ জন (২২ দশমিক ৮%) রয়েছে। তা ছাড়া ২৪৯ জন (৬১ দশমিক ৮%) নারী এবং ১৫৪ জন (৩৮ দশমিক ২%) পুরুষ রয়েছে।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভার্চুয়ালি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করে আঁচল ফাউন্ডেশন।

এ সম্মেলনে ডা. আনিস আহমেদ (কনসালট্যান্ট ফরেন্সিক সাইকিয়াট্রিস্ট, যুক্তরাজ্য), ডা. সৈয়দ মাহফুজুল আলম (মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, যুক্তরাষ্ট্র), ডা. মারুফ আহমেদ খান (সহকারী পরিচালক, টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ), সংগঠনের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সোহেল মামুন ও প্রেসিডেন্ট তানসেন রোজ উপস্থিত ছিলেন।

ফাউন্ডেশনের গবেষণা অনুযায়ী, ১৬৫টি জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। 

শিক্ষা স্তরভিত্তিক চিত্রে দেখা যায়, স্কুল পর্যায়ে ১৯০ জন (৪৭ দশমিক ৪০%), কলেজ পর্যায়ে ৯২ জন (২২ দশমিক ৮%), বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৭ জন (১৯ দশমিক ১০%) ও মাদরাসায় ৪৪ জন (১০ দশমিক ৭২%) আত্মহত্যা করেছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৈশোরের আবেগীয় অস্থিরতা ও পারিবারিক যোগাযোগের ঘাটতি স্কুল শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে ফেলছে।

নারী শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি বেশি : মোট আত্মহত্যাকারীর মধ্যে ২৪৯ জন (৬১ দশমিক ৮%) নারী এবং ১৫৪ জন (৩৮ দশমিক ২%) পুরুষ। স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে নারী শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পুরুষ শিক্ষার্থীর সংখ্যা সামান্য বেশি। 

গবেষকরা মনে করছেন, কৈশোরে মেয়েরা সামাজিক ও পারিবারিক চাপে বেশি ভঙ্গুর হয়ে পড়ে।

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পুরুষদের ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা ও কর্মসংস্থান সংকট বড় কারণ।

হতাশা ও অভিমান প্রধান কারণ : কারণ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, হতাশা ২৭ দশমিক ৭৯%, অভিমান ২৩ দশমিক ৩২%, অ্যাকাডেমিক চাপ ৭২ জন, প্রেমঘটিত কারণ ১৩ দশমিক ১৫%, পারিবারিক টানাপোড়েন ৭ দশমিক ৯৪%, মানসিক অস্থিতিশীলতা ৬ দশমিক ২০%, যৌন নির্যাতন ৩ দশমিক ৪৭% এবং সাইবার বুলিং ১ জন নারী শিক্ষার্থী। স্কুল পর্যায়ে অভিমান (৩২ দশমিক ৬১%) এবং অ্যাকাডেমিক চাপ (২৩ দশমিক ৬৯%) সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, ১৩-১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার ৬৬ দশমিক ৫০%, যা মোট ঘটনার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। এ ছাড়া ১২ বছর বয়সী ৪৪ শিশুর আত্মহত্যা দেশকে নাড়া দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিচয় সংকট, সামাজিক তুলনা, প্রেমঘটিত টানাপোড়েন ও অ্যাকাডেমিক চাপ এই বয়সে বড় ভূমিকা রাখছে।

বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১১৮ জন (২৯.২৪%). চট্টগ্রামে ৬৩ জন, বরিশালে  ৫৭ জন ও রাজশাহীতে ৫০ জন।

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে চিত্র : ৭৭ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৪ জন, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৭ জন, মেডিকেল কলেজ ৬ জন ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত কলেজে ১০ জন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে হতাশা ও প্রেমঘটিত কারণ বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে হতাশার হার আরো বেশি।

আত্মহত্যারোধে আঁচল ফাউন্ডেশনের ৫ দফা প্রস্তাব : সংকট মোকাবিলায় ফাউন্ডেশন সুপারিশ করেছে, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং চালু, শিক্ষক ও সহপাঠীদের মানসিক সংকট শনাক্তকরণ প্রশিক্ষণ, আত্মহত্যা বিষয়ে সামাজিক স্টিগমা কমাতে প্রচারণা, প্রাথমিক শিক্ষকদের সাইকো-সোশ্যাল প্রশিক্ষণ ও অভিভাবক-শিক্ষার্থী যোগাযোগ জোরদার।

আরও পড়ুন : ‘দেশের মানুষ অনেক প্রত্যাশা নিয়ে সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে’

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ‘‌এই ৪০৩টি মৃত্যু শুধু পরিসংখ্যান নয়, বরং ৪০৩টি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি। এখনই কাঠামোগত পরিবর্তন ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।’

আপন দেশ/এনএম

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়