ছবি: আপন দেশ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিতব্য গণভোট উপলক্ষে জাতীয় ছাত্রশক্তি আয়োজিত 'হ্যাঁ' ভোটের পক্ষের প্রচারণা সভা বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ উঠেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ইবি শাখার নেতার বিরুদ্ধে।
গত শুক্রবার জুম্মার নামাজের সময় এ ঘটনা ঘটে।
এসময় হ্যাঁ ভোটের পক্ষের এ প্রচারণা সভা পণ্ড করতে ইবির বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম সদস্য সচিব বাধন বিশ্বাস স্পর্শ অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক তার ও বসার চেয়ার জোর করে নিয়ে সাদ্দাম হোসেন হলের গেস্ট রুমে তালাবদ্ধ করে রাখেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন<<>>রাবি প্রেসক্লাবের পিঠা উৎসবে সাংবাদিকদের মিলনমেলা
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জাতীয় গণভোটে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে দেশব্যাপী প্রচারণার অভিযোগে অংশ হিসেবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মসূচি আয়োজন করে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতৃবৃন্দ। এতে অংশ নেন কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান, সাধারণ সম্পাদক বাকের মজুমদার, খান তালাত মাহমুদ রাফি সহ অন্যান্যরা। এদিন সকাল থেকেই ইবির মেইন গেটের পাশে একটি ছোট প্যান্ডেল করা হয় ৷ জুম্মার নামাজের সময় সবাই নামাজ পড়তে গেলে সেসময় ৫০ টি চেয়ার ও বৈদ্যুতিক তার উধাও হয়ে যায়। বিকেল পর্যন্ত খোঁজাখুঁজি করেও মালামাল খুঁজে না পাওয়ায় প্রচারণা সভা সন্ধ্যার পর শুরু হয়।
সন্ধ্যার দিকে আজিজ ডেকোরেটরের মালিক জানান, বাধন নামের একটি ছেলে ভ্যানে করে বিদ্যুতের তার ও চেয়ার নিয়ে গিয়েছে যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদ্দাম হোসেন হলের গেস্ট রুমে তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাদ্দাম হোসেন হলের গেস্ট রুম বাইরে থেকে তালাবদ্ধ। জানালা দিয়ে দেখা যায়, ভেতরে কিছু চেয়ার ও বৈদ্যুতিক তার পড়ে আছে।
তিনি আরও বলেন, আসরের নামাজ পড়ে বাঁধনকে পেয়ে জানতে চাইলে উল্টো প্রশ্ন তোলেন, স্টেজ করতে কার পারমিশন নেয়া হয়েছে। আমি বললাম, যারা প্রোগ্রাম করবে তারা সম্ভবত পারমিশন নিছে। তখন বাঁধন বলে, না পারমিশন নিয়ে স্টেজ করেনি বলেই আমি চেয়ার নিয়ে আসছি।
এ ব্যাপারে ইবি শিক্ষার্থী ও ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফুয়াদ হাসান বলেন, গণভোটে হ্যাঁ ভোটকে বিজয়ী করতে জনমত গঠনে আমরা এ আয়োজন করেছিলাম। প্রোগ্রাম শুরুর আগে দেখতে পাই সেখানে ৫০ টি চেয়ার এবং প্রোগ্রামের বৈদ্যুতিক তার খুঁজে পাচ্ছিলাম না। পরে জানতে পারি যে হারিয়ে যাওয়া জিনিসপত্র সাদ্দাম হলের গেস্ট রুমে পাওয়া গেছে। এ কারণে আমাদের প্রোগাম প্রায় ভেস্তে যাওয়ার মত অবস্থা হয়েছিল। যে প্রোগ্রাম থেকে চেয়ার ও বৈদ্যুতিক লাইন সরানো হয়েছে এটা কি আসলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোন ঘটনা নাকি চুরি তার প্রকৃত কারনঅবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে উদঘাটন করতে হবে।
এ ব্যাপারে ইবির বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহবায়ক এস এম সুইট বলেন, আমাদের সাংগঠনিক নির্দেশনায় কেও জিনিসপত্র নিয়ে আটকে রেখেছে, এ দাবির কোন সত্যতা নেই। এ ঘটনার ব্যাপারে আমি আগেপিছে কিছুই জানতাম না। আপনি ভুক্তভোগী ডেকোরেটরের মালিক আর বাধনের সঙ্গে কথা বলুন। তাদের মধ্যে কি হয়েছে সেটা তারাই ভালো বলতে পারবে।
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে আমি এখনো জানিনা। বিষয়টা আমি খোঁজ নিয়ে দেখতেছি। অনুমতি ব্যতীত কেও প্রোগ্রাম আয়োজন করলে তাদের জিনিসপত্র আটকে রাখার দায়িত্ব বা এখতিয়ার কোন ছাত্র সংগঠনের আছে কিনা- প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোন ছাত্র সংগঠন যদি এভাবে এধরণের কাজ করে থাকে তাহলে তা একদম ই ঠিক করেনি।
এবিষয়ে সাদ্দাম হোসেন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঘটনাটি জানার পর আমি বাধন নামের ওই শিক্ষার্থীকে ডেকেছিলাম, সে ক্ষমা চেয়েছে এবং তাকে জরুরি ভিত্তিতে নির্দেশ দিয়েছি অতি দ্রুত এ জিনিসপত্রগুলো বের করে নিয়ে যেতে। আমি নিজেও ভিজিট করেছি গেস্টরুম, এখন সব ঠিকঠাক আছে। এরপরেও তার থেকে লিখিত নেয়া হবে। আর এ ঘটনায় হলের গেটম্যানকে শোকজ করা হয়েছিলো, সে ক্ষমা চাওয়ায় তাকে এবারের মতো ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































