Apan Desh | আপন দেশ

ফোকলা পদ্মা ব্যাংকের দায় গ্রাহকের কাঁধে

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৮:৫৩, ৮ নভেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১৯:০৭, ৮ নভেম্বর ২০২৬

ফোকলা পদ্মা ব্যাংকের দায় গ্রাহকের কাঁধে

ফাইল ছবি

ফারমার্স ব্যাংক থেকে পদ্মা ব্যাংকে রূপান্তর। এ ব্যাংকটিকে বাঁচাতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ এখন চরম গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের ভুল নীতির কারণে সৃষ্ট এ নজিরবিহীন আর্থিক সংকটের সব দায় শেষ পর্যন্ত সাধারণ জনগণের কাঁধেই এসে বর্তেছে।

পদ্মা ব্যাংককে মূলধন হিসেবে যোগান দেওয়া অর্থের ১৬ কোটি টাকা অবলোপন হিসেবে দেখিয়েছে জনতা ব্যাংক। বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে, প্রায় ৫শ কোটি টাকা সমন্বয় নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে সোনালী ব্যাংকও। এছাড়া, অগ্রণী, রূপালী এবং আইসিবিও রয়েছে দারুণ অস্বস্তিতে। ব্যাংকটিতে জমা রাখা সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও এক রকম দিশেহারা। 

অর্থনীতিবিদগণ জোরালোভাবে মনে করছেন, দুর্বল প্রতিষ্ঠান বাঁচাতে শুরুতেই চরম ভুল পদক্ষেপ নিয়েছিলো তৎকালীন সরকার। পরোক্ষভাবে যার নেতিবাচক দায় এখন সাধারণ জনগণের কাঁধে এসে ভর করেছে।

২০১৩ সালে যাত্রা শুরু করার ছয় বছর পর পদ্মায় রূপান্তরিত হয় বহুল আলোচিত ও সমালোচিত ফারমার্স ব্যাংক। চতুর্থ প্রজন্মের আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে যা শুরু থেকেই ছিল তুমুল আলোচনায়। বিশেষ করে, নজিরবিহীন ঋণ কেলেঙ্কারি আর নানা অনিয়মের অপরাধ বৃত্তে ঘুরপাক খেতে থাকে প্রথম থেকেই। যার মূলে ছিলেন প্রভাবশালী উদ্যোক্তা চেয়ারম্যান ও সেসময়ের মন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর।

রক্ষকদের নানা অনৈতিক থাবায় এক রকম ফোকলা হয়ে যাওয়া এ ব্যাংক বাঁচাতে, ২০১৮ সালে, সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী এবং আইসিবির মাধ্যমে মূলধন যোগান দেওয়া হয় ৭১৫ কোটি টাকা। পরে ব্যাংকটির ৬৮ শতাংশ মালিকানা পায় ওই ৫ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। এর বাইরে আরো ৯শ কোটি টাকা বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ হিসেবে যায়। কিন্তু সেসবই এখন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর গলার কাঁটা।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ বলেন, ব্যাংক ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ অথবা তাদের যে সহযোগী প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ তারা কিন্তু আসলে কোনোভাবে দায় এড়াতে পারে না। এখানে যে টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে সেগুলোর প্রতিটি কানাকড়ি আমানতকারীদের কষ্টার্জিত টাকা।

ওই সময়ে সবচেয়ে বেশি মূলধন যোগান দেয় সোনালী ব্যাংক ২৯০ কোটি টাকা। এর বাইরে এফডিআর ও কলমানিতে প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগ ছিল আরও ১৯৪ কোটি টাকা। যার পুরোটাই এখন মারাত্মক ক্ষতির মুখে। অন্যদিকে, ১৪৫ কোটি করে মূলধন দেয় জনতা ও অগ্রণী ব্যাংক। সঙ্গে রূপালী এবং আইসিবি মিলে দেয় আরও ১৩৫ কোটি।

এমন সংকটময় অবস্থায়, বিনিয়োগের অর্থ সমন্বয় করতে গিয়ে মহা বিপাকে পড়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। যেমন, জনতা ব্যাংক সেখানকার ১৬ কোটি টাকা দেখিয়েছে অবলোপন হিসেবে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠান বাঁচানোর নামে ভুল পদক্ষেপে এগিয়েছে সরকার। যার ফল ভোগ করছেন করদাতারা।

শুধু প্রতিষ্ঠানই নয়, বিনিয়োগকারীদের অর্থে গঠিত '১ম জনতা ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড'-এর ৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকার শেয়ার মূলধন ও ২ কোটি ১০ লাখ টাকার ব্যাংক জমার লভ্যাংশ দীর্ঘদিন ধরে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছে।

দুর্বল ব্যাংকগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে অবিলম্বে কঠোর সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ।

আপন দেশ/এবি

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়