Apan Desh | আপন দেশ

মুডিসের পূর্বাভাসে বড় পরিবর্তন, অর্থনীতিতে স্বস্তি

নিজস্ব প্রতি‌বেদক, আপন‌ দেশ

প্রকাশিত: ২১:৫৬, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মুডিসের পূর্বাভাসে বড় পরিবর্তন, অর্থনীতিতে স্বস্তি

ফাইল ছবি, আপন দেশ

আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা মুডিস রেটিংস বাংলাদেশের সার্বভৌম ঋণমানের পূর্বাভাস বা আউটলুক নেগেটিভ থেকে স্টেবল করেছে। মুডিসের এ মূল্যায়নকে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, মুডিসের এ মূল্যায়নের ফলে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়তে পারে। একইসঙ্গে এটি দেশের ঋণ গ্রহণযোগ্যতা এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। 

মুডিসের মূল্যায়নে বাংলাদেশের অর্থনীতির কয়েকটি ইতিবাচক দিক উঠে এসেছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে এসেছে বৈদেশিক খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ দিকে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল প্রায় ২১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে। এ রিজার্ভ দিয়ে চার মাসের বেশি আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। 

আরও পড়ুন<<>>হালাল পণ্যে নতুন বাজার, প্রধানমন্ত্রীকে যা জানাল বিসিআই 

রেমিট্যান্স প্রবাহে রেকর্ড বৃদ্ধি, ব্যাংকিং চ্যানেল আরও সুসংহত হওয়া এবং তুলনামূলক নমনীয় বিনিময় হার ব্যবস্থা বৈদেশিক খাতের এ অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখেছে বলে মুডিসের মূল্যায়নে উঠে এসেছে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক পর্যাপ্ত রিজার্ভ সংরক্ষণে সক্ষম হয়েছে। 

রাজনৈতিক ও নীতিগত স্থিতিশীলতাকেও বাংলাদেশের আউটলুক পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখেছে মুডিস। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমেছে। নির্বাচিত সরকারের শক্তিশালী জনসমর্থনের ভিত্তিতে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেয়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলসহ (আইএমএফ) আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের চলমান সম্পৃক্ততাও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও কাঠামোগত সংস্কারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। 

ব্যাংকিং খাতের সংস্কার ও শক্তিশালীকরণও মুডিসের মূল্যায়নে গুরুত্ব পেয়েছে। ব্যাংকের সম্পদের গুণগত মান পর্যালোচনা (অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউ), আমানত সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, দুর্বল ব্যাংকগুলোর মধ্যবর্তী সময়ের সমাধান পরিকল্পনা এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোতে সাবেক মালিকদের পুনর্নিয়োগসংক্রান্ত বিধান বাতিলের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে তারল্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল এবং আমানত প্রবৃদ্ধি ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। 

দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখেছে মুডিস। বড় ও বৈচিত্র্যময় অর্থনীতি, অনুকূল জনমিতিক সুবিধা এবং প্রতিযোগিতামূলক তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতকে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রফতানি খাতের শক্ত অবস্থান এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে এর ভূমিকার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। 

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা সুবিধা দেয়া হয়েছে। খেলাপি ঋণ সহনীয় পর্যায়ে রাখতে এক্সিট পলিসি, বন্ধ কারখানা চালু, Distress Asset Management Act (DAMA) প্রণয়ন, অর্থঋণ আদালত আইন সংশোধন এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মতো পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

এদিকে অভ্যন্তরীণ লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়াতে নগদ লেনদেনের পরিবর্তে বাংলা কিউআর-এর মাধ্যমে ক্যাশলেস লেনদেন উৎসাহিত করা হচ্ছে। বৈদেশিক লেনদেন সহজ করার পাশাপাশি বাণিজ্যের সুবিধার্থে সাপ্লাই-চেইন ফাইন্যান্স সুবিধাও চালু করা হয়েছে। 

সাম্প্রতিক পদক্ষেপের ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সামগ্রিক ব্যালান্স অব পেমেন্টসের স্থিতি ছিল ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে দেশে ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যাশা, মুডিসের স্টেবল আউটলুক আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের সার্বভৌম ঋণমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আপন‌দেশ/কেএম/এসআর

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়