ছবি: আপন দেশ
রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির প্রধান কার্যালয়ের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে মুখোমুখি অবস্থান নেন তারা।
এক পক্ষ ব্যাংক থেকে বরখাস্ত ও চাকরিচ্যুত সাবেক কর্মকর্তাদের পুনর্বহালের দাবিতে অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে বর্তমান কর্মকর্তা ও গ্রাহকদের একটি পক্ষ এর বিরোধিতা করে সেখানে অবস্থান করছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকেই ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে দুই পক্ষের লোকজন জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা মুখোমুখি অবস্থান নেন। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়।
আরও পড়ুন<<>>রোববার রাজধানীর যেসব দোকান-মার্কেট বন্ধ
চাকরিচ্যুত সাবেক কর্মকর্তাদের পক্ষের দাবি, তাদের চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে পুনর্বহাল করতে হবে। অন্যদিকে বিরোধী পক্ষের বক্তব্য, অনিয়ম বা যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে চাকরিচ্যুত ব্যক্তিদের পুনর্বহালের উদ্যোগ নেয়া হলে ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও শৃঙ্খলা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

গ্রাহক ফোরামের সহসভাপতি শামিম হাসনাইন বলেন, ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় খবর পেয়ে আমরা রাতেই অবস্থান নিয়েছি। এস আলমের আমলে অনিয়ম ও জাল সনদের মাধ্যমে অনেককে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ব্যাংক এসব নিয়োগের সনদ যাচাই-বাছাইয়ের উদ্যোগ নেয়। পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্যদের বহাল রাখারও উদ্যোগ ছিল। কিন্তু তারা পরীক্ষায় অংশ নেননি। এখন চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিতে ব্যাংকের সামনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। গ্রাহক ফোরাম ব্যাংকের সামনে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা মেনে নেবে না।
অন্যদিকে চাকরিচ্যুত কর্মীদের একজন আনোয়ার বলেন, চাকরি হারানোর পর দীর্ঘদিন ধরে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর গঠিত নতুন পরিচালনা পর্ষদ তাদের চাকরিচ্যুত করেছে দাবি করে তিনি বলেন, চাকরি ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত বাড়ি যাব না। চাকরি ফেরত নিয়েই বাড়ি যাব।
জাল সনদে নিয়োগের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ার বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক তদন্ত করে প্রতিবেদন দিক। আমাদের নিয়োগ অবৈধ প্রমাণিত হলে চাকরির সব টাকা ফেরত দেব। যাদের বিরুদ্ধে সমস্যা রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। কিন্তু এভাবে সবাইকে একসঙ্গে চাকরিচ্যুত করার কোনো মানে হয় না।

চাকরিচ্যুত কর্মীদের চাকরি পুনর্বহালের দাবির বিপরীতে গ্রাহক ফোরাম ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছে।
এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলেও ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে কয়েক শত সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছিলেন। তাদের মধ্যে ইসলামী ব্যাংকসহ এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা কয়েকটি ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত ব্যক্তিরাও ছিলেন। তখন চাকরিতে পুনর্বহালের পাশাপাশি বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ বাতিলের দাবিও জানানো হয়েছিল।
আপনদেশ/কেএম/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































