ফাইল ছবি
ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান (BDS) অনুযায়ী নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় চার প্রতিষ্ঠানের আট ভেরিয়েন্টের পণ্য। তাই পণ্যগুলো বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে পণ্যের মান প্রণয়ন ও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।
মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ, মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর অনুজীবের উপস্থিতি পাওয়া যায় পণ্যগুলিতে। মাত্রার ব্যত্যয় ঘটানোয় এ সকল প্রতিষ্ঠানের পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এসকল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ফ্রেশ গার্ডেন এগ্রো রিসোর্সেস আমের আচার (ব্যাচ নং-FGMP200G0426) মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ পাওয়া গেছে।
এছাড়া কাজী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ এর বেলিসিমো (Bellisimo) ব্র্যান্ডের Rotondo Hazelnut Coated Chocolate (ব্যাচ নং-26050101A) আইসক্রিমে টোটাল মিল্ক সলিড নন ফ্যাট বাংলাদেশ মানের চেয়ে অতিরিক্ত মাত্রায় পাওয়া গেছে।
অলিভ বাংলাদেশ লিঃ এর লাবণ্য ব্র্যান্ডের মিল্ক স্কীন লোশন (ব্যাচ নং-2961104A), এলোভেরা স্কীন লোশন (ব্যাচ নং-2961204A); অলিভ ও লাবণ্য ব্র্যান্ডের ফেসওয়াশ মোরিংগা+মাচা (ব্যাচ নং-2951404A) ফোমিং মিল্ক ও তুলসী (ব্যাচ নং-2951204A), লাবণ্য ব্র্যান্ডের এলোভেরা ভ্যারিয়েন্টের শ্যাম্পুতে (ব্যাচ নং-2921304A) মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর অনুজীব এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
এছাড়া ডেকো ফুডস লিঃ এর ডেকো ফ্রুট ফান্ডা ব্র্যান্ডের ম্যাংগো ও অরেঞ্জ ভেরিয়েন্টের সফট ড্রিংক পাউডারে (ব্যাচ নং-133) বাংলাদেশ মান মাত্রার চেয়ে ভিটামিন ‘সি’ কম পাওয়া গিয়েছে।
উল্লেখ্য যে, পরীক্ষায় অকৃতকার্য পণ্যগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহকে ইতোমধ্যে প্রত্যাখ্যান পত্র প্রদান করা হয়েছে। পণ্যের লাইসেন্স নবায়ন/অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত এসব পণ্যের উৎপাদন, বিক্রয় ও বিতরণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
জনস্বার্থ ও ভোক্তা সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের উৎপাদিত উক্ত পণ্য দেশের সকল পরিবেশক, ডিলার, খুচরা বিক্রেতা ও বাজার থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
আরও পড়ুন <<>> সোমবার রাজধানীর যেসব দোকান-মার্কেট বন্ধ
নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না তা নিবিড়ভাবে তদারকি করবে বিএসটিআই। নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিএসটিআই মনে করে, জাতীয় মান অনুসারে পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা প্রতিটি লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। কোনো প্রতিষ্ঠান এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে জনস্বার্থে এবং ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণের স্বার্থে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে বিএসটিআই বদ্ধপরিকর।
এ বিষয়ে বিএসটিআই’র মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক জানান, জনগণ যাতে মানসম্মন্ন পণ্য ক্রয় করতে পারে সে বিষয়ে বিএসটিআই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কারণ মানসম্মত পণ্য জনগণের অধিকার। এছাড়া তিনি পণ্য ক্রয়ের আগে ক্রেতাসাধারণকে বিএসটিআই’র মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেন।
একই সাথে তিনি কোনো পণ্যের মান, ভেজাল, প্রতারণা অথবা বিএসটিআই’র মান চিহ্নের অপব্যবহার সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে তা দ্রুত বিএসটিআই’কে অবহিত করার জন্য অনুরোধ জানান।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































