Apan Desh | আপন দেশ

সবজিতে স্বস্তি ফেরেনি, মাছের বাজার ঊর্ধ্বমুখী

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১২:৩৬, ২২ মে ২০২৬

আপডেট: ১৬:২৬, ২২ মে ২০২৬

সবজিতে স্বস্তি ফেরেনি, মাছের বাজার ঊর্ধ্বমুখী

ছবি: আপন দেশ

আর মাত্র কয়েক দিন বাদেই উদযাপন করা হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম ধর্মবলম্বীদের বৃহত্তম এ উৎসব সামনে রেখে চল প্রস্তুতি। সারা দেশে শুরু হয়েছে কোরবানির পশুর হাট। তবে মানুষের ভিতর তেমন উৎসাহ দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষের মাঝে ঈদের উদ্দীপনা কাজ করছে না। নিত্যপণ্যের চড়া দামে আয়ের সঙ্গে ব্যায়ের হিসেব মিলছে না কোনোভাবেই। ফলে অস্বস্তিতে রয়েছেন বেশিরভাগ মানুষ। 

রাজধানীর কাঁচাবাজারে সবজির দাম কিছুটা কমলেও তা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ব্রয়লার ও সোনালী মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। কমেছে ডিমের দামও। তবে মাছের বাজার ঊর্ধ্বমুখী। গরু ও খাসির মাংসের দাম আছে আগের মতই। ঈদ সামনে রেখে কিছু মসল্লার দাম বাড়তি। বেড়েছে পেঁয়াজের দামও। তবে বাজারভেদের দামের তারতম্য আছে। 

সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার (২২ মে) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজার করতে আসা আহসান হাবিব বলেন, গত সপ্তাহে সবজির দাম ১০০ টাকা বা তার উপরে ছিল, সে তুলনায় আজকের বাজার কিছুটা কম। কম বললেও ভুল হবে সব সবজি তাই ৮০ টাকা কেজি। দোকানদাররা যে যার মত করে সবজির দাম নির্ধারণ করে বিক্রি করছে, সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বাজার মনিটরিংয়ের কোন উদ্যোগ দেখি না। সঠিকভাবে বাজার মনিটরিং করা গেলে সবজির দাম হয়তো বা আরো কম থাকতো। অপরদিকে ব্যবসায়ীরা যথারীতি পাইকারি বাজারে সরবরাহ ঘাটতি এবং পরিবহন খরচ বৃদ্ধির ওজুহাত দিচ্ছেন। 

এদিন রাজধানীর কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা যায় ঈদের ছুটির আমেজ। কমেছে ক্রেতার আনাগোনা। এর কারণ, অনেকে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে গ্রামের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছেন। তবে বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় সবজির দাম কমেছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। অধিকাংশ সবজি মিলছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে। কেবল ব্যতিক্রম টমেটোর বাজার। এক কেজির দাম হাকা হচ্ছে ৮০ টাকা।

প্রতি কেজি করলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, বেগুন (গোল) প্রতি কেজি ১০০ টাকা, বেগুন (লম্বা) প্রতি কেজি ৭০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ৬০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা, পটল প্রতি কেজি ৮০ টাকা, ঝিঙ্গা প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া প্রতি কেজি বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, পেঁপে প্রতি কেজি ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, ধন্দুল প্রতি কেজি ৮০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁচা কলা প্রতি হালি ৬০ টাকা, জালি প্রতি পিস ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স প্রতি কেজি ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৫০ টাকা এবং প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়।

আরও পড়ুন<<>>আজ স্বর্ণের ভরি কত টাকায় বিক্রি হচ্ছে?

মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৩০ টাকা (জীবিত ও মৃতের উপরেও দাম নির্ধারণ), রুই ২৪০ থেকে ৩৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, দেশি টেংরা ৬০০ টাকা, বেলে ৩৫০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, চিংড়ি ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০, কই ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা, সইল ৭০০ টাকা, টাকি ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে চিংড়ির দাম বেশি দেখা গেছে। আকার ও জাতভেদে প্রতি কেজিতে খরচ করতে হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা। তবে মাছের বাজারে পাঁচ মিশালি কেজি ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।

এ ছাড়া ১ কেজি সাইজের ইলিশ ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা, ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজি ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়, পাশাপাশি ছোট জাটকা সাইজের ইলিশ (২০০ গ্রাম সাইজের ছোট মাছ) বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮০০ টাকায়। ইলিশের দাম সাইজের উপর নির্ভর করছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগি বর্তমানে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়, যা কয়েক দিন আগেও ছিল ১৯৫ টাকার ওপরে। একইভাবে দর কমেছে সোনালি জাতের মুরগির। এ জাতের মুরগি কিনতে ক্রেতাকে কেজিতে গুনতে হবে ৩৩০ টাকা। ডজন প্রতি ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায়। সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় দাম কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

এসব বাজারে গরুর মাংস ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর কলিজা ৮০০ টাকা, গরুর মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, গরুর বট ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা ও খাসির মাংস কেজি প্রতি ১২০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এদিকে ঈদ সামনে রেখে প্রতি কেজি আদা জাতভেদে ২০০ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি। আদার বাজার কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হলেও স্বস্তি দিচ্ছে পেঁয়াজ ও রসুন। প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং মানভেদে আমদানি করা রসুন ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে বাজারে দেশি রসুনের দাম আরও কমে ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

চাহিদার শীর্ষে থাকা গরম মসলার বাজারও এবার বেশ স্থিতিশীল। খুচরা বাজারে প্রতি একশোগ্রাম জিরা ৬০-৭০ টাকা, এলাচ ৪৫০-৫০০ টাকা, কালো এলাচ ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা, দারচিনি ৪৫-৫০ টাকা, লবঙ্গ ১৩০-১৫০ টাকা, গোল মরিচ ১৪০-১৫০ টাকা ও তেজপাতা ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়