চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) দেশে রফতানি আয় এসেছে দুই হাজার ২২৩ কোটি ২২ লাখ মার্কিন ডলারের। তা এর আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এক দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। গত ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে রফতানি আয়ের পরিমাণ ছিল দুই হাজার ১৯৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার।
ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে প্রধান রফতানি পণ্য পোশাকখাত থেকে এক হাজার ৮৮৩ কোটি ৫৬ লাখ ডলারের আয় পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নিট পোশাক (সোয়েটার, টি-শার্ট জাতীয় পোশাক) রফতানি হয়েছে এক হাজার ৯৯ কোটি ডলার সমমূল্যের এবং ওভেন পণ্যের (শার্ট, প্যান্ট জাতীয় পোশাক) রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৮৪ কোটি ৬২ লাখ ডলার।
এ ছাড়া জুলাই-নভেম্বর সময়ে অন্যান্য প্রধান রফতানি পণ্য, যেমন- পাট ও পাটজাত পণ্য থেকে ৩৬ কোটি ১৯ লাখ ডলার, হোম টেক্সটাইল থেকে ২৯ কোটি ৯৪ লাখ ডলার, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য থেকে ৪২ কোটি ৭০ লাখ ডলার, প্লাস্টিক পণ্য থেকে নয় কোটি ২৬ লাখ ডলার, কৃষিজাত পণ্য থেকে ৪২ কোটি ডলার, হিমায়িত মাছ থেকে ১৯ কোটি ৫১ লাখ ডলার এবং রাসায়নিক পণ্য থেকে ১৪ কোটি ডলার আয় হয়েছে।
এদিকে, সদ্যসমাপ্ত নভেম্বরে রফতানি আয় এসেছে ৪৭৮ কোটি ৪৮ লাখ ডলার।
বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) মুখপাত্র মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কারণে গত দুই মাস ধরে রফতানি আয় টানা কমছে। তবে তুলনামূলক এখনো ভালো আছে রফতানি খাত। যদিও অনিশ্চয়তা পোশাক খাতের পিছু ছাড়ছে না। অভ্যন্তরীণ শ্রমিক অসন্তোষ ও আন্তর্জাতিক চাপ ছাড়াও অর্ডার যেভাবে কমছে সেই তুলনায় রফতানি আয় ভালো হয়েছে।’
বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে রফতানিতে নিম্নমুখী প্রবণতার পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছিল। প্রকৃতপক্ষে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে বিশ্ববাজারে ভোগ্যপণ্যের চাহিদা কমেছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে উন্নত দেশগুলো ব্যাংক সুদের হার বাড়িয়েছে, যা ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা এবং পণ্যের চাহিদা আরও কমিয়ে দিয়েছে। ফলে তৈরি পোশাক রফতানিতে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ এই সংকটে আরও ইন্ধন যোগ করেছে।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছর তৈরি পোশাক রফতানি বৈশ্বিকভাবে আরও কিছুটা কমবে এবং আমাদের কিছুটা হলেও সেই উত্তাপের মুখোমুখি হতে হবে। এ ছাড়া ন্যূনতম মজুরি ইস্যুতে অক্টোবরে শ্রম অসন্তোষের সময় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কারণেও রফতানি আয় কমায় প্রভাব ফেলেছে।’
আপন দেশ/এমআর
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































