Apan Desh | আপন দেশ

‘দালাল চক্র ফ্যাসিস্ট আমলের সৃষ্টি, ১৫১ শয্যার হচ্ছে উপজেলা হাসপাতাল’

আখাউড়া প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৩:৪৬, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৩:৪৭, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

‘দালাল চক্র ফ্যাসিস্ট আমলের সৃষ্টি, ১৫১ শয্যার হচ্ছে উপজেলা হাসপাতাল’

ছবি: আপন দেশ

সরকারি হাসপাতালের রোগীদের হয়রানি করে বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যায়া দালাল চক্রকে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সৃষ্টি বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। 

একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করতে আগামী ১০ দিনের মধ্যে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার দরপত্র আহবান করা হবে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সরকারি সফরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ডাকবাংলোয় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পুলিশ, গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে। জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনও কাজ করছেন। নিয়ম না মেনে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে; কোথাও কোথাও তালা লাগানো ও সিলগালা করা হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন কোনো বেসরকারি ক্লিনিকের অনুমতি দেয়া হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার নতুন কোনো ক্লিনিকের অনুমতি দেয়নি। হাসপাতালের সামনে সম্প্রতি কোনো ক্লিনিক চালু হয়ে থাকলে সেটির অনুমোদন আগেই দেয়া হয়ে থাকতে পারে। শর্ত পূরণ না করা ক্লিনিকের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। 

এ ছাড়া চিকিৎসকদের সঙ্গে ফার্মেসি ও অটোরিকশাচালকদের যোগসাজশে রোগীদের ওষুধ নির্ধারণ বা অন্যত্র পাঠানোর অভিযোগের বিষয়েও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে বলে জানান মন্ত্রী।

উপজেলা পর্যায়ে ১৫১ শয্যার প্রতিটি হাসপাতালে ১০টি মেশিনসহ একটি ডায়ালাইসিস সেন্টার থাকবে, যেখানে স্থানীয়ভাবে ২০ জন রোগী সেবা নিতে পারবেন। মাতৃত্বকালীন সেবার জন্য ২০টি ও নবজাতকদের জন্য ২০টি শয্যা থাকবে। নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা দুটি ফিজিওথেরাপি সেন্টার এবং উন্নত মানের প্যাথলজি সেবারও ব্যবস্থা থাকবে।

ইউনিয়ন পর্যায়ে ডরমিটরিসহ সাড়ে তিনতলা ভবন নির্মাণ করা হবে, যেখানে চিকিৎসকদের থাকার ব্যবস্থা থাকবে। এই প্রকল্পের দরপত্রও একই সময়ে আহ্বানের পরিকল্পনা রয়েছে।

ওয়ার্ড পর্যায়ে ইউনিয়নের অধীন প্রতিটি পুরোনো ওয়ার্ডে একটি করে মেডিকেল ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হবে, যেখানে দায়িত্ব পালন করবেন মিডওয়াইফরা। এসব কেন্দ্রে নারীদের স্তন ও জরায়ুমুখের ক্যানসার শনাক্তে স্ক্রিনিং, রক্ত পরীক্ষা, জ্বর এবং উচ্চ ও নিম্ন রক্তচাপ পরীক্ষা করা হবে। 

রোগীদের তথ্য সংরক্ষণে কার্ড দেয়া হবে। রোগের ধরন ও জটিলতা অনুযায়ী ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা এবং সর্বশেষ টারশিয়ারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

মন্ত্রী জানান, এক হাজার ১০০টির বেশি ডায়ালাইসিস মেশিনের দরপত্র প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০টি এবং প্রতিটি জেলা হাসপাতালে ১০টি করে মেশিন দেয়া হবে। ফলে মেডিকেল কলেজ আছে এমন জেলায় মোট মেশিন থাকবে ৬০টি, আর মেডিকেল কলেজ নেই এমন জেলার জেলা হাসপাতালে থাকবে ১০টি।

জনবলসংকট কমাতে আগামী ১ তারিখে সাড়ে ৪০০ চিকিৎসক যোগ দেবেন। আরও পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে এবং এ জন্য সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) সাক্ষাৎকার চলমান। 

এ ছাড়া ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের অংশ হিসেবে চলতি বছর ৪১ হাজার ৩৯১ জনকে নিয়োগ দেয়া হবে। তাঁরা গ্রামাঞ্চলে, বিশেষ করে নারীদের স্বাস্থ্যসেবা দেবেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় প্রতিটি উপজেলায় ১৯ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়, যা পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়। এরপর আর কোনো সরকার এ খাতে উল্লেখযোগ্য নজর দেয়নি বলে তিনি দাবি করেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এবার তা ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন <> রফতানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী

সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর সাত মাস পার হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এর মধ্যে চার মাস এমনিতেই চলে গেছে, তাই তাৎক্ষণিকভাবে সব সেবা উন্নত করা সম্ভব নয়। বিগত সরকারের সময়ে লুটপাটের কারণে এ খাতের অবস্থা নিম্নমুখী হয়েছিল।

তবে আগামী দুই বছরের মধ্যে দুর্নীতিমুক্তভাবে চিকিৎসাব্যবস্থাকে উন্নত পর্যায়ে নেয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। 

তার প্রত্যাশা, পরিকল্পিত উন্নয়ন বাস্তবায়িত হলে চিকিৎসার জন্য মানুষের বিদেশমুখী হওয়ার প্রবণতা কমবে।

এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান, জেলা প্রশাসক আবু সাইদ, পুলিশ সুপার মো. জালাল উদ্দিন ফাহিমসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আপন দেশ/এমটিআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়