Apan Desh | আপন দেশ

মানিকগঞ্জের ঢোল ঐতিহ্য হারাচ্ছে, ভালো নেই কারিগর ও বাদ্যকররা

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৩:৩১, ১৩ মে ২০২৩

আপডেট: ১৩:৩৩, ১৩ মে ২০২৩

মানিকগঞ্জের ঢোল ঐতিহ্য হারাচ্ছে, ভালো নেই কারিগর ও বাদ্যকররা

ছবি : আপন দেশ

আমি টাকডুম টাকডুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল...। গানটির শিল্পী ও সুরকার শচীন দেব বর্মন। গানটির গীতিকার এসডি বর্মণের স্ত্রী মীরা দেব বর্মণ। গানটি বাঙালির ঐতিহ্য ঢোলের কথা স্মরণ করায়। যদিও ঢোল, ঢোলের নান্দনিক ব্যবহার হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। 

অতীতে বাঙালির ভোর শুরু হতো সুর ও বাদ্যযন্ত্রের তালে। এখন এসব হারিয়ে যাচ্ছে যান্ত্রিক জীবনের কোলাহলে। ঢাক-ঢোলের শব্দ যে সুরের মূর্ছনা সৃষ্টি করে তা বাঙালির একান্ত নিজের সুর। সেই লালিত সুরে ছেদ পড়েছে। অবশ্য সংস্কৃতি পরিবর্তনশীল এবং প্রবাহমান। ফলে নতুন বাদ্যযন্ত্র স্থান করে নেবে পুরাতনের জায়গায় এটিই স্বাভাবিক। 

ঢাক-ঢোল মিশ্রিত সঙ্গীতের জন্য হৃদয় ব্যাকুল হলেও একদিন সত্যিই বিলীন হয়ে যাবে দেশীয় এ বাদ্যযন্ত্রের সুর।

বংশ পরম্পরায় আবহমান গ্রাম বাংলায় লোকজ জ্ঞানে ও সৃজনশীলতায় কারিগররা তাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে তৈরী করে চলেছে নানান বাদ্যযন্ত্র। তাদের নেই কোনো উন্নত প্রযুক্তি, আধুনিক প্রশিক্ষণ, সরকারি কোনো পৃষ্ঠপোষকতা। তবু পাল্লা দিয়ে আধুনিক যন্ত্রপাতি খচিত বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে কোনোরকমে টিকে আছে।

মানিকগঞ্জের বরুন্ডি গ্রামের দুই ভাই গোপাল চন্দ্র মনিদাস ও মঙ্গল চন্দ্র মনিদাস ধরে রেখেছেন বংশ পরম্পরার এ পেশা। দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে বাদ্যযন্ত্র তৈরীর কাজ করছেন। আরও অনেক সঙ্গী ছিল তাদের এই কাজের। পরিবর্তনের সঙ্গেড় সঙ্গে দুজনই ধরে রেখেছেন এ পেশা। তাদের পরে পরিবারে আর কেউ আসবে না এ পেশায়। 

গোপাল চন্দ্র মনিদাস জানান, করোনার সময়ে বাদ্যকাররা অন্য পেশায় চলে যাওয়ায়, আর আধুনিক বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় আগের ঢাক-ঢোলের চাহিদা কমে গেছে। ভালো মানের বাদ্যকারও এখন নেই। যেহেতু বাদ্যকার কমে গেছে বাদ্যযন্ত্রের চাহিদাও নেই। বাদ্যযন্ত্রের চাহিদা কমে যাওয়ায় তাদের কদর কমে গেছে। বাপ দাদার পেশা আর নেশার কারণে ধরে রেখেছেন পেশাটিকে।

গোপাল আর মঙ্গল মণিদাস টিকিয়ে রেখেছেন দেশীয় বাদ্যযন্ত্র তৈরীর বাঙালির এ ঐতিহ্যকে। তাদের পর হয়তো বিলীন হয়ে যাবে এ পেশাটি।
বর্তমানে নানা দুর্যোগ গুণী বাদকের অভাব এ শিল্পকে বিলীনের পথে নিয়ে যাচ্ছে। তেমনি বাদ্যকারদের সঙ্গে সঙ্গে বাদ্যযন্ত্র তৈরীর কারিগররা হারিয়ে যাচ্ছে।

বিচিত্র পেশার ভীড়ে দেশজ বাদ্যযন্ত্র তৈরীর পেশায় অর্থের প্রাচুর্যতা নেই। ফলে সংসার চলে অভাব-অনটনে। বংশানুক্রমে এ পেশা পরিবর্তন করে নতুন পথের দিকে আজকের প্রজন্ম। ফলে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের বাঙালির ঐতিহ্য।

আপন দেশ/প্রতিনিধি/আরএ

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়

শীর্ষ সংবাদ:

টেংরাটিলায় বিস্ফোরণের ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তারা হ্যাঁ/না ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাতে পারবেন না শেরপুরে সংঘর্ষের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ইউএনও-ওসিকে প্রত্যাহার পদ্মা সেচ প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করার প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের পডকাস্টে আগামীর বাংলাদেশের রোডম্যাপ শোনাবেন তারেক রহমান তারেক রহমান উত্তরবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন আজ আরও ১৩ নেতা এনসিপি ছাড়লেন ১২ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায় তেহরানের প্রতি কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর বার্তা ট্রাম্পের ছাদখোলা বাসে ঘরে ফিরবেন সাবিনারা ভরিতে ১৬২১৩ টাকা বাড়িয়ে রেকর্ড দাম নির্ধারণ শীত নিয়ে আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা জামায়াত কর্মীর নিহতের ঘটনায় সরকারের বিবৃতি ই-ভ্যাট সিস্টেমের সেবা সাময়িক বন্ধ থাকবে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাংলাদেশ ভ্রমণে যুক্তরাজ্যের সতর্কবার্তা